সমাজকল্যাণে অবদানের স্বীকৃতি পেলেন প্রিয়ম কাচপুরী

মানুষের মুখে হাসি ফোটানো, অসহায় মানুষের দুঃখ-কষ্টে পাশে দাঁড়ানো এবং সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জীবনে আশার আলো জ্বালানোÑএসব মহৎ কাজের মধ্যেই নিহিত রয়েছে প্রকৃত মানবিকতার সৌন্দর্য। সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের কল্যাণে যাঁরা নিজেদের সামর্থ্য, শ্রম ও উদ্যোগ নিয়ে এগিয়ে আসেন, তাঁদের অবদান শুধু ব্যক্তিগত অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না; বরং তা সমাজের অন্যদেরও মানবসেবায় অনুপ্রাণিত করে।
বিজ্ঞাপন
এমনই সমাজকল্যাণমূলক কর্মকান্ডে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সম্মাননা পেয়েছেন আলহাজ্ব প্রিয়ম কাচপুরী। তাঁর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রিয়ম কাচপুরী কল্যাণ ট্রাস্টের মাধ্যমে অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগও নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
সমাজসেবা কেবল দান-অনুদান কিংবা সাময়িক সহায়তা প্রদানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে মানুষের প্রতি গভীর দায়বদ্ধতা, সহমর্মিতা, দায়িত্বশীলতা এবং বিপদে-আপদে মানুষের পাশে থাকার অঙ্গীকার। দারিদ্র্য, অসুস্থতা, আর্থিক সংকট ও নানা সামাজিক প্রতিকূলতায় যাঁরা প্রতিনিয়ত জীবনসংগ্রাম করেন, তাঁদের জন্য সময়োপযোগী সহায়তা অনেক সময় নতুন করে বেঁচে থাকার সাহস জোগায়। সেই মানবিক চেতনা থেকেই সমাজকল্যাণমূলক মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছেন আলহাজ্ব প্রিয়ম কাচপুরী। তিনি বলেন, এই সম্মাননা কেবল একটি ব্যক্তিগত অর্জন নয়; বরং মানবকল্যাণে আরো দায়িত্ব বাড়িয়ে দিলো। আসহায় মানুষের পাশে ছিলাম আছি থাকবো।
সূত্র বলছে, সমাজসেবা ও মানবকল্যাণের প্রসঙ্গে আলহাজ্ব হাফেজ মাওলানা হাবিবউল্লাহ কাচপুরীর নামও উল্লেখযোগ্য। দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে একই ভাবে সমাজসেবামূলক কর্মকান্ড, দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে তার অবদান রয়েছে। গত পবিত্র ঈদুল ফিতরে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার গোলপাশা ইউনিয়নের বাবুচি গ্রামে প্রিয়ম কাচপুরীর উদ্যোগে ৫ হাজার দরিদ্র ও অসহায় মানুষের মধ্যে ঈদসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছিল। প্রতি বছর একই ভাবে তিনি ৫ হাজার দরিদ্র মানুষদের সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেন। এ ছাড়াও হাবিবউল্লাহ কাচপুরী শিক্ষা, স্বাস্থ্য, আইনি সহায়তা এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগে ত্রাণ কার্যক্রমসহ বিভিন্ন মানবিক উদ্যোগের সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছেন বলে জানা গেছে। মসজিদ, মাদ্রাসা ও এতিমখানায় তার নানা অবদান রয়েছে।
বিজ্ঞাপন
এ ব্যাপারে প্রিয়ম গ্রুপের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মাওলানা হাবিবউল্লাহ কাচপুরী বলেন, আমার ছেলে প্রিয়ম মানুষকে সহায়তা করার মধ্য শান্তি খুঁজে পায়। প্রতি মাসেই অসহায় মানুষদের সহযোগিতা করে যাচ্ছি। এমকি প্রতি ঈদের আনন্দ সমাজের সবার মধ্যে ছড়িয়ে দিতে নানা উদ্যোগ দেওয়া হয়।
তিনি আরো বলেন, উৎসবের আনন্দ যখন আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে অনেক পরিবারের কাছে ম্লান হয়ে যায়, তখন প্রয়োজনীয় সামগ্রী ও সহযোগিতা তাদের জীবনে কিছুটা স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে পারে। সেই চিন্তা থেকে খাদ্য সামগ্রি নগদ টাকা বিতারন করে আসছি। আমি সব সময় কুরবানি’র তিন দিন সকাল ৬টা থেকে রাত ১০ পর্যন্ত গরু ছাগলের মাংস আসহায় দুস্থদের মধ্যে বিতারন করে আসছি। দানের মধ্য আলাদা শান্তি। আমার আয়ের বড় একটি অংশ আসহায় মানুষের জন্য রেখে দেওয়া হয়।
এ ব্যাপারে সাংবাদিক বশির হোসেন বাবু বলেন, আলহাজ্ব প্রিয়ম কাচপুরীর অর্জিত সম্মাননা মানবসেবার পথে নতুন অনুপ্রেরণা হয়ে উঠুক। প্রিয়ম কাচপুরী কল্যাণ ট্রাস্টের কার্যক্রম আরও সুসংগঠিত, বিস্তৃত ও জনকল্যাণমুখী হোক। সমাজের অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এই প্রত্যয় আরও মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ুকÑযাতে মানবিকতা কেবল কথায় নয়, বাস্তব কাজের মধ্য দিয়ে প্রতিফলিত হয়। এই মানবসেবার পদকের মধ্য লুকিয়ে আছে অসহায় মানুষের হাসি।








