Logo

লবণাক্ত পানিতে হুমকিতে পেকুয়ার আমন ও বোরো চাষ

profile picture
উপজেলা প্রতিনিধি
পেকুয়া, কক্সবাজার
২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১৭:১৪
লবণাক্ত পানিতে হুমকিতে পেকুয়ার আমন ও বোরো চাষ
ছবি: সংগৃহীত

কক্সবাজারের পেকুয়ায় তিনটি রাবারড্যাম চালু না থাকায় নদী ও খালে ঢুকছে সমুদ্রের লবণাক্ত পানি। অন্যদিকে বৃষ্টি ও মিষ্টি পানির অভাবে শুকিয়ে যাচ্ছে আমন ধানের ক্ষেত। কোথাও কোথাও জমির মাটি ফেটে চৌচির হয়ে গেছে। ধানে থোড় আসার গুরুত্বপূর্ণ সময়ে সেচ দিতে না পেরে ফসলহানির আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন উপজেলার হাজারো কৃষক।

বিজ্ঞাপন

স্থানীয়দের অভিযোগ, গোঁয়াখালী মাতবরপাড়া-বুধামাঝির ঘোনা, বাঘগুজারা-পুরিত্যাখালী এবং বারবাকিয়া-মৌলভীবাজার এলাকার তিনটি রাবারড্যাম কার্যকর না থাকায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। দ্রুত ড্যামগুলো সচল করে মিষ্টি পানি সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা না হলে চলতি আমন মৌসুমের উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি আগামী বোরো আবাদও হুমকিতে পড়তে পারে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আমন ধান ঘরে তুলতে এখনো প্রায় এক মাস বাকি। এ সময়ে ধানের জমিতে পর্যাপ্ত পানির প্রয়োজন হলেও নদী ও খালের পানি লবণাক্ত হওয়ায় তা সেচের কাজে ব্যবহার করতে পারছেন না কৃষকেরা। রাবারড্যামগুলো চালু না থাকায় মিষ্টি পানি ধরে রাখাও সম্ভব হচ্ছে না। এতে উপকূলীয় এলাকার কৃষিজমিতে সেচসংকট তীব্র হয়ে উঠেছে।

আমন মৌসুম শেষ হওয়ার পরপরই শুরু হবে বোরো আবাদ। এ অঞ্চলে বোরো চাষের জন্য রাবারড্যামের মাধ্যমে মিষ্টি পানি সংরক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ। তাই সময়মতো ড্যামগুলো সচল করা না গেলে আগামী মৌসুমেও কৃষকদের বড় ধরনের সংকটে পড়তে হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

বিজ্ঞাপন

কৃষকদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে যথাযথ সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে রাবারড্যামগুলো কার্যকরভাবে পরিচালিত হচ্ছে না। সময়মতো সেচের ব্যবস্থা না হওয়ায় উৎপাদন খরচ বাড়ছে, একই সঙ্গে লোকসানের ঝুঁকিও বাড়ছে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

আমন চাষি মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “আমাদের মাঠের পর মাঠ ফেটে চৌচির হয়ে গেছে। নদী ও খালের পানি লবণাক্ত হওয়ায় সেচ দিতে পারছি না। দীর্ঘদিন ধরে রাবারড্যামগুলো কেন সংস্কার করা হয়নি, তার জবাব চাই। দ্রুত মিষ্টি পানির ব্যবস্থা করা না গেলে আমাদের ফসল নষ্ট হয়ে যাবে।”

বিজ্ঞাপন

পেকুয়া সদর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য নুরুল আজিম বলেন, পেকুয়ার ভোলার খালসহ অভ্যন্তরীণ খালগুলোতে ইতোমধ্যে সমুদ্রের লবণাক্ত পানি ঢুকে পড়েছে। মাতামুহুরী নদীর পূর্ব মেহেরনামাসহ পেকুয়ার রাবারড্যামগুলো দ্রুত ফুলিয়ে মিষ্টি পানি সংরক্ষণের ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, কৃষকদের আগাম সতর্ক করা এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে মাঠপর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে পেকুয়ায় প্রায় ৮ হাজার হেক্টর জমিতে আমন এবং আগামী মৌসুমে প্রায় সাড়ে ৬ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ অবস্থায় সেচসংকট দীর্ঘায়িত হলে কৃষি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

কৃষকদের উদ্বেগের বিষয়ে পেকুয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফারুক হোসেন চৌধুরী বলেন, আমন চাষ নিয়ে বড় ধরনের আশঙ্কার কারণ নেই। ইতোমধ্যে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা ও উপজেলা প্রশাসনের প্রতিনিধিদল রাবারড্যামগুলো পরিদর্শন করেছেন।

ড্যাম চালুর বিষয়ে তিনি জানান, নিয়ম অনুযায়ী প্রতি বছর ডিসেম্বর মাসে পানি উন্নয়ন বোর্ড রাবারড্যাম সংস্কারের কাজ করে থাকে। এর আগে ড্যাম ফুলিয়ে পানি ধরে রাখার সম্ভাবনা আপাতত নেই।

এদিকে আমন ধানের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে সেচসংকট মোকাবিলা এবং আসন্ন বোরো মৌসুমের জন্য মিষ্টি পানি সংরক্ষণ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ চান স্থানীয় কৃষকেরা।

জেবি/আরএক্স

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD