Logo

‘বে’ ব্র্যান্ডের লোগো নকলের মামলা, আসামিদের জামিন ঘিরে আলোচনা

profile picture
উপজেলা প্রতিনিধি
সাভার, ঢাকা
২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১৬:২৩
‘বে’ ব্র্যান্ডের লোগো নকলের মামলা, আসামিদের জামিন ঘিরে আলোচনা
ছবি: সংগৃহীত

ঢাকার সাভারের আমিনবাজারে ‘বে’ (Bay) ব্র্যান্ডের লোগো ব্যবহার করে নকল জুতা উৎপাদনের অভিযোগে একটি কারখানায় অভিযান চালিয়ে তিনজনকে আটক করেছিল পুলিশ। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় তাঁদের রিমান্ড আবেদন মঞ্জুর না হওয়া এবং পরে জামিনে মুক্তি পাওয়ার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

গত ১৯ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, আমিনবাজারের চানপুর এলাকায় ‘ফুজি ফুটওয়্যার’ নামের একটি কারখানায় অভিযান চালিয়ে ২৯ কার্টন জুতা জব্দ করে পুলিশ। এ সময় কারখানার মালিকপক্ষের তিনজনকে আটক করা হয়। তাঁদের বিরুদ্ধে ‘বে’ ব্র্যান্ডের নাম ও লোগো ব্যবহার করে নকল জুতা উৎপাদনের অভিযোগ রয়েছে।

আটক ব্যক্তিরা হলেন খালেক ফেরদাউস, তাজুল ইসলাম ও তন্ময় হাসান। এ ঘটনায় ‘বে’ কোম্পানির পক্ষ থেকে সাভার মডেল থানায় ৬৭ নম্বর মামলা করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানানো হয়েছে।

পুলিশের পক্ষ থেকে আটক ব্যক্তিদের তিন দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে আবেদন করা হয়। তবে আদালত উভয় পক্ষের আইনজীবীদের যুক্তিতর্ক শুনে তাঁদের জামিন মঞ্জুর করেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

বিজ্ঞাপন

আলোচিত এ মামলায় দ্রুত জামিন পাওয়ার বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। তবে জামিন মঞ্জুরের পেছনে কোনো অনিয়ম, আর্থিক লেনদেন কিংবা প্রভাব খাটানোর অভিযোগের পক্ষে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

মামলার বাদী আতিকুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

‘বে’ কোম্পানির লিগ্যাল অ্যাডভাইজার জাকির হাসান বলেন, আসামিপক্ষ কোম্পানির সাথে সমঝোতা (কম্প্রোমাইজ) করার চেষ্টা করছে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের কাজ করবে না বলে অঙ্গীকার করেছে। আমরা ক্লায়েন্টের হয়ে কাজ করি, তারা যেভাবে চায় সেভাবেই মামলা নিষ্পত্তি হয়।

সাভার থানার কোর্ট জিআরও সিদ্দিকের কাছে আসামিদের জামিনের বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষের অবস্থান জানতে চাইলে তিনি বলেন, রাষ্ট্রপক্ষ থেকে আসামিদের রিমান্ড মঞ্জুর এবং জামিন না দেওয়ার জোরালো আবেদন করা হয়েছিল। তবে মামলার বাদীপক্ষের সুনির্দিষ্ট জোরালো আপত্তি বা বক্তব্য না থাকলে বিচারক উভয় পক্ষের যুক্তি শুনে জামিন দিতে পারেন, যা আদালতের এখতিয়ার।

আমিনবাজার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ জাকির আল আহসান বলেন, কোম্পানির কর্তৃপক্ষের অভিযোগে আমরা নকল প্রোডাক্ট তৈরির দায়ে প্রতারণা মামলায় আসামিদের গ্রেফতার করে চালান দিয়েছিলাম। তবে এই মামলায় জামিন কীভাবে হলো তা আমাদের জানা নেই। আমরা আসামিদের রিমান্ড চেয়েছিলাম, রিমান্ড মঞ্জুর হলে মূল রহস্য উদঘাটন এবং এই চক্রের সাথে কারা কারা জড়িত তাদের সনাক্ত পূর্বক আইনের আওতায় আনা সম্ভব হত।

বিজ্ঞাপন

নকল ব্র্যান্ডের পণ্য উৎপাদন ও বাজারজাতের অভিযোগে দায়ের করা এ মামলায় তদন্তের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট অন্য ব্যক্তিদের ভূমিকা এবং পণ্য সরবরাহের নেটওয়ার্ক সম্পর্কে তথ্য বেরিয়ে আসে কি না, তা এখন দেখার বিষয়। একই সঙ্গে মামলার অগ্রগতি ও অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে।

জেবি/আরএক্স

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD