Logo

বিয়ের ২০ দিনের মাথায় স্বর্ণালংকার নিয়ে উধাও বিএনপি নেতার স্ত্রী

profile picture
জেলা প্রতিনিধি
জামালপুর
২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১৫:২৭
বিয়ের ২০ দিনের মাথায় স্বর্ণালংকার নিয়ে উধাও বিএনপি নেতার স্ত্রী
নববধূর সঙ্গে ভুক্তভোগী বিএনপি নেতা। ছবি : সংগৃহীত

জামালপুরের মেলান্দহে বিয়ের মাত্র ২০ দিনের মাথায় স্বর্ণালংকার নিয়ে বিএনপি নেতার স্ত্রী সুমি আক্তারকে সঙ্গে নিয়ে পালানোর অভিযোগ উঠেছে পৌরসভার বর্জ্যবাহী গাড়ির চালক এমদাদুল হক অরচনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় করা মামলায় অরচন ও সুমিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পরে শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) তাদের আদালতে পাঠানো হয়।

বিজ্ঞাপন

পুলিশ জানায়, শুক্রবার ভোররাতে জামালপুর পৌর এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে অরচনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সুমি আক্তারকেও গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার এমদাদুল হক অরচনের বয়স ৪৫ বছর। তিনি মেলান্দহ উপজেলার শাহজাদপুর এলাকার মৃত আব্দুল হামিদের ছেলে। সুমি আক্তারের কথিত মামা হিসেবে পরিচিত তিনি। সুমির বয়স ২৭ বছর। তিনি কামদেববাড়ী এলাকার শাহিন মন্ডলের মেয়ে।

এ ঘটনায় অভিযোগকারী মো. সুজন ঝাউগড়া ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। তিনি দক্ষিণ ঝাউগড়া এলাকার মৃত ময়ুর আলীর ছেলে।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১ অক্টোবর সুমি আক্তারের সঙ্গে রেজিস্ট্রি কাবিনমূলে বিয়ে হয় সুজনের। বিয়ের সময় স্ত্রীকে দুটি স্বর্ণের আংটি, একটি চেইন, এক জোড়া বালা ও এক জোড়া কানের দুলসহ বিভিন্ন স্বর্ণালংকার দেন তিনি। এসব অলংকারের আনুমানিক মূল্য ৬ লাখ ৯৬ হাজার ৫০০ টাকা বলে উল্লেখ করা হয়েছে এজাহারে।

সুজনের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই সুমির পাতানো মামা অরচন তাকে বিভিন্নভাবে প্ররোচিত করে আসছিলেন। গত ২০ অক্টোবর সন্ধ্যা ৬টার দিকে সুজন বাড়িতে না থাকার সুযোগে অরচন সেখানে গিয়ে সুমিকে তার বাবার বাড়িতে যাওয়ার কথা বলেন। এ সময় সুজনের মা ছেলের বাড়ি ফেরার পর সুমিকে যেতে বললেও তিনি অরচনের সঙ্গে চলে যান।

ওই রাতে স্ত্রীর মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করে সেটি বন্ধ পান সুজন।

বিজ্ঞাপন

পরদিন ছোট ভাইয়ের স্ত্রী ও ভাতিজাকে শ্বশুরবাড়িতে পাঠালেও সেখানে সুমিকে পাওয়া যায়নি। পরে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে অরচনের সঙ্গে তার চলে যাওয়ার বিষয়টি জানতে পারেন বলে দাবি করেন সুজন।

পরে বিষয়টি নিয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দিলে শুক্রবার ভোর রাতে অরচনকে আটক করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে জামালপুর পৌর এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে সুমিকেও গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

ঘটনায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন বলে জানিয়েছেন সুজন। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, “বিয়ের মাত্র ২০ দিনের মাথায় সে আমার সঙ্গে এমনটা করবে, তা কল্পনাও করিনি। কত আশা নিয়ে তাকে ঘরে এনেছিলাম। অথচ এত অল্প সময়ের মধ্যেই এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে, কখনো ভাবিনি। বিয়ের সময় তাকে স্বর্ণালংকারও দিয়েছিলাম। এখন সবকিছু মিলিয়ে আমি ভেঙে পড়েছি।”

বিজ্ঞাপন

মেলান্দহ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এটিএম মাহমুদুল হক বলেন, এ ঘটনায় করা মামলায় এমদাদুল হক অরচন ও সুমি আক্তারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শুক্রবার তাঁদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।

জেবি/এসডি

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD