Logo

রুমিন ফারহানার সঙ্গে ওসির বাকবিতণ্ডায় পুলিশের জিডি

profile picture
জেলা প্রতিনিধি
ব্রাহ্মণবাড়িয়া
২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১৫:২৭
রুমিন ফারহানার সঙ্গে ওসির বাকবিতণ্ডায় পুলিশের জিডি
ছবি: সংগৃহীত

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল থানায় স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনজুর কাদের ভূঁইয়ার মধ্যে বাকবিতণ্ডার ঘটনায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছে পুলিশ।

বিজ্ঞাপন

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাতে জিডির বিষয়টি জানা যায়। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মোহাম্মদ আরাফাতুল ইসলাম বলেন, ওই দিনের ঘটনা উল্লেখ করে জিডি করা হয়েছে। এটি কোনো অভিযোগ নয়। উল্লেখযোগ্য ঘটনা ঘটলে পুলিশ সাধারণত তা নথিভুক্ত করে রাখে।

এর আগে বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রাতে সরাইল থানায় ওসি মনজুর কাদের ভূঁইয়ার সঙ্গে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ এবং দুর্গাপূজার মণ্ডপ পরিদর্শনের সময় নিরাপত্তা না পাওয়ার বিষয় নিয়ে বাদানুবাদে জড়ান রুমিন ফারহানা।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, শারদীয় দুর্গাপূজার সময় মণ্ডপ পরিদর্শনে গেলে নিরাপত্তার জন্য পুলিশকে অনুরোধ করেছিলেন রুমিন ফারহানা। তবে তার অভিযোগ, ওসি প্রয়োজনীয় নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেননি। এ বিষয়ে জানতে এবং ওসির বিরুদ্ধে ওঠা অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে কথা বলতে বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে থানায় যান তিনি। রাত ৯টা পর্যন্ত ওসির কক্ষে অবস্থান করেন সংসদ সদস্য।

এ সময় রুমিন ফারহানার সঙ্গে যাওয়া এক ব্যক্তি ওসির বিরুদ্ধে ৩০ হাজার টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ তোলেন। তবে ওসি এ অভিযোগ অস্বীকার করেন। ওই ব্যক্তিকে রুমিন ফারহানা শিখিয়ে থানায় এনেছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

একপর্যায়ে দুজনের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়। রুমিন ফারহানা ওসিকে উদ্দেশ করে বলেন, তিনি আগে আওয়ামী লীগের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং তার অতীত সম্পর্কে তিনি জানেন। জবাবে ওসি অভিযোগ করেন, রুমিন ফারহানা আওয়ামী লীগের লোকজনকে আশ্রয় দেন এবং তাদের গ্রেপ্তারে বাধা দেন। এ প্রসঙ্গে তিনি রাজ্জি নামে সাবেক এক ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানকে গ্রেপ্তার করতে নিষেধ করার অভিযোগও তোলেন। রুমিন ফারহানা বলেন, ওই ব্যক্তি আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কৃত।

রুমিন ফারহানার অভিযোগের বিষয়ে ওসি মনজুর কাদের ভূঁইয়া বলেন, সংসদ সদস্য অনেক লোক নিয়ে থানায় এসে অস্থিরতা সৃষ্টি করেন এবং কয়েকজনকে তার বিরুদ্ধে কথা বলতে শিখিয়ে নিয়ে আসেন। ইটভাটা থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগের জবাবে তিনি বলেন, হাওরের ইটভাটাগুলো পানির নিচে রয়েছে। পূজার সময় পুরো থানা এলাকায় নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছিল বলেও দাবি করেন তিনি। তবে ব্যক্তিগতভাবে সংসদ সদস্যের সঙ্গে পুলিশের একটি দল রাখা কঠিন ছিল বলে জানান ওসি।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

অন্যদিকে, রুমিন ফারহানা বলেন, ওসি তাকে বলেছেন, তিনি নির্বাচিত সংসদ সদস্য এবং জনগণই তার নিরাপত্তা দেবে। নিজের নিরাপত্তা প্রয়োজন উল্লেখ করে তিনি ওসির বিরুদ্ধে দুর্নীতি, মাটি কাটা ও ইটভাটা থেকে অর্থ নেওয়াসহ বিভিন্ন অভিযোগের কথা তুলে ধরেন। তার দাবি, এলাকাটি দাঙ্গাপ্রবণ এবং সংঘর্ষের পর পরিস্থিতি শান্ত হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়।

ওসির আচরণ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে রুমিন ফারহানা বলেন, একজন নির্বাচিত সংসদ সদস্যের সঙ্গে এ ধরনের আচরণ গ্রহণযোগ্য নয়। তবে ওসির বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে তদন্তের ফলাফল বা কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD