মাদক ব্যবসায়ী ও অপরাধীদের লাগাম টেনে ধরেছেন ভেড়ামারা থানার ওসি

কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা থানার নতুন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শামীম শেখ দায়িত্ব নেওয়ার পর মাদকবিরোধী অভিযান ও অপরাধ দমনে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছেন।
বিজ্ঞাপন
পুলিশের দাবি, গত ২০ দিনের বেশি সময়ে অভিযান চালিয়ে টাপেন্টাডল ট্যাবলেট, ইয়াবা ও গাঁজাসহ ১৭ জন মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ছাড়া পাঁচজন সাজাপ্রাপ্ত আসামিকেও গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গত ১ অক্টোবর ২০২৬ ভেড়ামারা থানায় যোগ দেন মোহাম্মদ শামীম শেখ। এর আগে তিনি কুষ্টিয়া জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশে কর্মরত ছিলেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্য, তাঁর যোগদানের আগে এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা এবং তাদের হামলায় এক ব্যক্তির মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। দায়িত্ব গ্রহণের পর মাদক ও অপরাধ দমনে কঠোর অবস্থানের কথা জানান নতুন ওসি।
বিজ্ঞাপন
পুলিশের দাবি, মাদকবিরোধী অভিযানের পাশাপাশি কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা ঠেকাতে নিয়মিত টহল, গোয়েন্দা নজরদারি ও সামাজিক সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। এ ছাড়া চুরি ও দস্যুতার মতো অপরাধ দমনেও পুলিশ কাজ করছে।
চলতি মাসে শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে উপজেলার ১২টি পূজামণ্ডপে নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, এ বছর উৎসব শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে এবং এ সময় কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
অপরাধ দমনের পাশাপাশি মানবিক উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেছে থানা পুলিশ। পারিবারিক কলহের জেরে রেললাইনে ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিতে উদ্যত এক নারী ও তাঁর দুই সন্তানকে উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। এ ছাড়া নিখোঁজ তিন শিশু এবং অপহরণের শিকার দুই ব্যক্তিকে উদ্ধারের কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভেড়ামারা থানার ওসি মোহাম্মদ শামীম শেখ বলেন, “আমরা ভেড়ামারা উপজেলাকে অপরাধমুক্ত ও শান্তিকামী মানুষের নিরাপদ আবাসস্থল হিসেবে গড়ে তুলতে বদ্ধপরিকর। অপরাধী যেই হোক না কেন, কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।”
তিনি আরও বলেন, গুরুতর অপরাধ প্রতিরোধে সক্রিয় পুলিশি ব্যবস্থা, অভিযোগ পাওয়ার পর দ্রুত পদক্ষেপ, যথাযথ তদন্ত ও আইনানুগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে। অপরাধপ্রবণ এলাকায় গোয়েন্দা কার্যক্রম জোরদারের পাশাপাশি নারী, শিশু ও ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তা রক্ষা, তদন্তে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং নিরপরাধ ব্যক্তিদের হয়রানি না করে মানবাধিকার সমুন্নত রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে। পুলিশ সদস্যদের তদারকি ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার কথাও জানান তিনি।








