Logo

নন্দীগ্রামে আগাম আমনের ভালো ফলনে কৃষকের মুখে হাসি

profile picture
উপজেলা প্রতিনিধি
নন্দীগ্রাম, বগুড়া
২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১৫:১১
নন্দীগ্রামে আগাম আমনের ভালো ফলনে কৃষকের মুখে হাসি
ছবি: সংগৃহীত

বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলায় আগাম জাতের রোপা আমন ধান কাটা-মাড়াই শুরু হয়েছে। মাঠজুড়ে এখন পাকা ধানের সোনালি আভা। কোথাও কৃষক ধান কাটছেন, কোথাও চলছে মাড়াই, আবার কোথাও কাটা ধান বাড়িতে নেওয়ার প্রস্তুতি। অনুকূল আবহাওয়া ও রোগবালাইয়ের তুলনামূলক কম প্রকোপে ভালো ফলন পাওয়ায় কৃষকদের মধ্যে দেখা দিয়েছে স্বস্তি ও আশার আলো।

বিজ্ঞাপন

আগাম আমন ঘরে তোলার পর একই জমিতে আলু, সরিষা, পেঁয়াজসহ বিভিন্ন রবি ফসল চাষের পরিকল্পনা করছেন কৃষকেরা। তাঁদের আশা, দ্রুত জমি প্রস্তুত করে পরবর্তী ফসল আবাদ করতে পারলে একই জমি থেকে বছরে একাধিক ফসল উৎপাদনের মাধ্যমে আয় বাড়ানো সম্ভব হবে।

সরেজমিনে উপজেলার রিধইল, কৈগাড়ী, নামুইট, বাদলাষনসহ বিভিন্ন এলাকার মাঠ ঘুরে দেখা যায়, আগাম জাতের আমন ধান পাকতে শুরু করেছে। অনেক জমিতে ইতোমধ্যে কাটা-মাড়াই চলছে। কৃষক, কৃষিশ্রমিক ও পরিবারের সদস্যরা ধান কাটা, আঁটি বাঁধা, মাড়াই ও শুকানোর কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

কৃষকেরা জানান, আগাম জাতের ধান চাষের অন্যতম সুবিধা হলো তুলনামূলক কম সময়ে ফসল ঘরে তোলা যায়। এতে ধান বিক্রি করে দ্রুত নগদ অর্থ পাওয়া যায়। পাশাপাশি জমি খালি হওয়ার পর আলু, সরিষা ও পেঁয়াজসহ অন্যান্য ফসল চাষের সুযোগ তৈরি হয়। ফলে জমি দীর্ঘ সময় অনাবাদি পড়ে থাকে না এবং কৃষি উৎপাদন বাড়ানোর সম্ভাবনা তৈরি হয়।

বিজ্ঞাপন

উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি রোপা আমন মৌসুমে নন্দীগ্রাম উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা এলাকায় মোট ১৯ হাজার ৮৫০ হেক্টর জমিতে আমন ধানের চাষ হয়েছে। এর মধ্যে ৫ হাজার ৯১৭ হেক্টর জমিতে আগাম জাতের ধান আবাদ করা হয়েছে। এসব জমিতে বিনা-৭, বিনা-১৭, মিনিকেট, ব্রি ধান-৪৯, ব্রি ধান-৯০, ব্রি ধান-৭৫, রঞ্জিত ও কাটারিভোগ জাতের ধান চাষ করা হয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় এসব ধানের কাটা-মাড়াই শুরু হয়েছে।

এ ছাড়া আগাম জাতের ধান কাটা-মাড়াই শেষ হলে পর্যায়ক্রমে ব্রি ধান-৩৪, ব্রি ধান-৫১, ব্রি ধান-১০৩ ও স্বর্ণা-৫ জাতের ধান কাটার কাজ শুরু হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

উপজেলার বাদলাষন গ্রামের কৃষক জামিল হোসেন বলেন, আগাম পাঁচ বিঘা জমিতে ব্রি ধান-৪৯ জাতের ধান চাষ করেছি। ফলন ভালো হয়েছে। এখন ধান কাটা শেষ করে জমি প্রস্তুত করে সরিষা চাষ করব।

বিজ্ঞাপন

একইভাবে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার কৃষকেরাও আগাম আমন কাটার পর আলু, সরিষা ও পেঁয়াজ চাষের পরিকল্পনা করছেন। তাঁদের প্রত্যাশা, সময়মতো পরবর্তী ফসল আবাদ করতে পারলে চলতি মৌসুমে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়া সম্ভব হবে।

উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে ৪ হাজার হেক্টর জমিতে আলু, ৫ হাজার হেক্টর জমিতে সরিষা, ১০ হেক্টর জমিতে ভুট্টা এবং ৩০ হেক্টর জমিতে গম চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এসব লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হলে আমনের পাশাপাশি রবি ফসল উৎপাদনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে নন্দীগ্রাম।

তবে কৃষকদের কাঙ্ক্ষিত লাভ অনেকাংশে নির্ভর করবে বীজ, সার, সেচ, শ্রমিকের মজুরি ও অন্যান্য উৎপাদন খরচের ওপর। পাশাপাশি ধানসহ অন্যান্য ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা গেলে কৃষকেরা আরও বেশি লাভবান হবেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিজ্ঞাপন

কৃষক জয়নাল আবেদীন বলেন, উৎপাদন খরচের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ধানের ন্যায্যমূল্য পাওয়া গেলে লাভের পরিমাণ বাড়বে। পাশাপাশি আলু, সরিষা ও পেঁয়াজের ভালো ফলন এবং বাজারে উপযুক্ত দাম পাওয়া গেলে চলতি মৌসুমে তাঁরা লাভবান হতে পারবেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা গাজিউল হক বলেন, কৃষকদের মাঠপর্যায়ে নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সার, বীজ ও অন্যান্য সহায়তার পাশাপাশি উন্নত জাতের বীজ ব্যবহার, সঠিক সময়ে জমি প্রস্তুত, সার প্রয়োগ এবং প্রয়োজনীয় পরিচর্যার বিষয়ে কৃষকদের দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তাঁর ভাষ্য, এ বছর রোগবালাইয়ের প্রকোপ প্রায় ছিল না বললেই চলে। ফলে ফলনও ভালো হয়েছে।

আগাম আমন ধান কাটা-মাড়াইয়ের মধ্য দিয়ে নন্দীগ্রামে কৃষকদের ব্যস্ততা এখন নতুন পর্যায়ে পৌঁছেছে। একদিকে ঘরে উঠছে সোনালি ধান, অন্যদিকে চলছে রবি ফসল চাষের প্রস্তুতি। সময়মতো আবাদ ও ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত হলে এই ধারাবাহিক চাষাবাদ কৃষকদের আয় বাড়াতে সহায়ক হতে পারে।

জেবি/আরএক্স

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD