Logo

আওয়ামী লীগ নেতার বাড়িতে লক্ষ্মীপূজার আয়োজন, গ্রেপ্তার ৭

profile picture
উপজেলা প্রতিনিধি
গৌরনদী, বরিশাল
২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১৫:৫৩
আওয়ামী লীগ নেতার বাড়িতে লক্ষ্মীপূজার আয়োজন, গ্রেপ্তার ৭
ছবি: সংগৃহীত

বরিশালের গৌরনদীতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সাত নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। উপজেলার মাহিলাড়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সৈকত গুহ পিকলুর বাড়ি থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।

বিজ্ঞাপন

গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যদের দাবি, তাঁরা লক্ষ্মীপূজার অনুষ্ঠানে দাওয়াত পেয়ে ওই বাড়িতে গিয়েছিলেন। তবে পুলিশের করা মামলার এজাহারে তাঁদের বিরুদ্ধে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের রাজনৈতিক কার্যক্রম সচল করার উদ্দেশ্যে গোপন বৈঠকে অংশ নেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন সৈকত গুহ পিকলুর ছোট ভাই ও উপজেলা যুবলীগের সাবেক সদস্য সলিল গুহ পিন্টু, সরকারি গৌরনদী কলেজ ছাত্র সংসদের ছাত্রলীগ-মনোনীত সাবেক জিএস মহিবুল আলম খোকন, পৌর আওয়ামী লীগের সদস্য ওয়াজ করনী আকন, বাটাজোর ইউনিয়ন যুবলীগের সদস্য মিঠুন হালদার, পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সভাপতি মাসুম সরদার, মাহিলাড়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক পলাশ হাওলাদার এবং পৌর ছাত্রলীগের সদস্য সজিব সরদার।

সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান সৈকত গুহ পিকলু জানান, তাঁদের বাড়িতে লক্ষ্মীপূজার অনুষ্ঠান চলছিল। অনুষ্ঠানে কয়েকজন শুভাকাঙ্ক্ষীকে দাওয়াত দেওয়া হয়েছিল। রবিবার (২৫ অক্টোবর) সন্ধ্যার আগে বিএনপির কয়েকজন কর্মী-সমর্থক তাঁদের বাড়িতে গিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেন এবং পূজার দাওয়াতে আসা ছয়জনসহ তাঁর ছোট ভাই পিন্টু গুহকে পুলিশের হাতে তুলে দেন বলে তিনি দাবি করেন।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

এ ঘটনায় গৌরনদী মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. পারভেজ আহমেদ বাদী হয়ে সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) আইনে একটি নিয়মিত মামলা করেছেন।

মামলার এজাহারে গ্রেপ্তার সাতজন ছাড়াও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান সৈকত গুহ পিকলু, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মনির হোসেন মিয়া, উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জুবায়ের ইসলাম সন্টু ভূঁইয়া, সাবেক পৌর কাউন্সিলর ইকতিয়ার হাওলাদার, ইউপি সদস্য মামুনুর রশিদ ওরফে মনু মোল্লা, ইউপি সদস্য জসিম উদ্দিন, যুবলীগ নেতা মনির মীর, মেহেদী আকনসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২৫ থেকে ৩০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

এজাহারে বলা হয়েছে, নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের কিছু সক্রিয় নেতাকর্মী সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র, জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি, আসন্ন ডিসেম্বর মাসে দলীয় প্রধানের দেশে প্রত্যাবর্তন সফল করা এবং রাজনৈতিক কার্যক্রম সচল করার উদ্দেশ্যে গৌরনদীর বিল্লগ্রাম এলাকার একটি বসতঘরে গোপন বৈঠকে মিলিত হয়েছেন—এমন খবর পেয়ে পুলিশ অভিযান চালায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে আসামিরা পালানোর চেষ্টা করলে ধাওয়া করে সাতজনকে আটক করা হয়। এ সময় অন্যরা পালিয়ে যান বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

গৌরনদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তারিক হাসান রাসেল জানান, আটক সাতজনকে মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে সোমবার (২৬ অক্টোবর) দুপুরে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে।

জেবি/আরএক্স

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD