আনসারবাড়ীয়া স্টেশন চালুর দাবিতে রেলপথ অবরোধ, রেল যোগাযোগ বন্ধ ৩ ঘন্টা

চুয়াডাঙ্গার জীবননগরের আনসারবাড়ীয়া রেলওয়ে স্টেশন পূর্ণাঙ্গভাবে চালুসহ তিন দফা দাবিতে রেলপথ অবরোধ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বুধবার সকাল থেকে চলা এ অবরোধের কারণে খুলনার সঙ্গে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। বিভিন্ন স্টেশনে আটকে পড়েছে ট্রেন। চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা।
বিজ্ঞাপন
বুধবার (৪ নভেম্বর) সকাল ১০টা ১৩ মিনিটে খুলনা থেকে চিলাহাটিগামী রূপসা এক্সপ্রেস আনসারবাড়ীয়া স্টেশনে পৌঁছালে ট্রেনটি থামিয়ে অবরোধ শুরু করেন আন্দোলনকারীরা। পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে শুরু হওয়া এ অবরোধ বেলা ১টা পর্যন্ত চলছিল।
আন্দোলনকারীদের তিন দফা দাবির মধ্যে রয়েছে—আনসারবাড়ীয়া স্টেশনে অন্তত দুজন স্টেশনমাস্টারসহ প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ, আধুনিক প্ল্যাটফর্ম ও বিশ্রামাগার নির্মাণসহ অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং ঢাকা-খুলনা ও খুলনা-রাজশাহী রুটে চলাচলকারী আন্তঃনগর ট্রেনের উভয়মুখী যাত্রাবিরতি নিশ্চিত করা।
অবরোধের খবর পেয়ে রেলওয়ের প্রতিনিধি দল, জীবননগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তবে দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন স্থানীয়রা।
বিজ্ঞাপন
এদিকে অবরোধের প্রভাবে চুয়াডাঙ্গা, আলমডাঙ্গা ও দর্শনা রেলওয়ে স্টেশনে আটকা পড়েন বিভিন্ন গন্তব্যের যাত্রীরা। নির্ধারিত সময়ে ট্রেন না পেয়ে ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেন তারা।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
চুয়াডাঙ্গা রেলওয়ে স্টেশনে অপেক্ষমাণ সাদিয়া নামের এক যাত্রী বলেন, সকালে ঈশ্বরদী যাওয়ার জন্য স্টেশনে এসে ট্রেনের অপেক্ষা করছেন। পরে জানতে পারেন, আনসারবাড়ীয়া স্টেশনে ট্রেন আটকে আন্দোলন চলছে। এতে তার যাত্রা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
বিজ্ঞাপন
একই স্টেশনে পোড়াদহ যাওয়ার অপেক্ষায় থাকা এক কাপড় ব্যবসায়ী বলেন, ব্যবসার কাজে পোড়াদহ যাওয়ার জন্য এসেছিলেন। কিন্তু ট্রেন অবরোধের কারণে বিপাকে পড়েছেন। কখন ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হবে, তা জানেন না।
আন্দোলনে স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন জীবননগর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আনোয়ার হোসেন খান খোকন, উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সাখাওয়াত হোসেন, আন্দুলবাড়ীয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আতিয়ার রহমান, সাধারণ সম্পাদক আজিম খান এবং ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর আমির হারুন অর রশিদ।
চুয়াডাঙ্গা রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশনমাস্টার মিজানুর রহমান বলেন, আনসারবাড়ীয়া স্টেশন চালুর দাবিতে স্থানীয়রা প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে রূপসা এক্সপ্রেস আটকে রেখেছেন। এতে খুলনার সঙ্গে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের রেল যোগাযোগ ব্যাহত হচ্ছে। বিভিন্ন গন্তব্যের যাত্রীরা স্টেশনে অপেক্ষা করছেন। অবরোধের কারণে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হতে বিলম্বের পাশাপাশি রেলওয়ের সময়সূচিতে বিপর্যয় দেখা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।








