Logo

হাতের ভেতরে কাঁচ রেখেই সেলাই, এক মাস পর বের হলো টুকরা

profile picture
জেলা প্রতিনিধি
কুড়িগ্রাম
৪ নভেম্বর, ২০২৬, ২১:২৪
হাতের ভেতরে কাঁচ রেখেই সেলাই, এক মাস পর বের হলো টুকরা
ছবি: সংগৃহীত

কুড়িগ্রামের চিলমারীতে চিকিৎসকের অবহেলার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বিরুদ্ধে। বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে পড়ে গিয়ে ভাঙা কাঁচের আঘাতে আহত এক দিনমজুরের হাতের মাংসপেশির ভেতরে কাঁচের টুকরা রেখেই সেলাই করে বাড়ি পাঠানোর অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী। এক মাসের বেশি সময় অসহ্য যন্ত্রণা সহ্য করার পর অন্য চিকিৎসকের মাধ্যমে অস্ত্রোপচার করে তার হাত থেকে দুটি কাঁচের টুকরা বের করা হয়েছে। ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে ‘স্যরি’ বলেছেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা।

বিজ্ঞাপন

ভুক্তভোগী সাইদার মিয়া চিলমারী উপজেলার মজিদের পাড় এলাকার বাসিন্দা। তিনি একজন ভূমিহীন দিনমজুর। অন্যের জমিতে পরিবার নিয়ে বসবাস করেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এক মাসেরও বেশি সময় আগে বাড়িতে বিদ্যুতের সুইচ মেরামত করার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন সাইদার মিয়া। এ সময় মাটিতে পড়ে গিয়ে ভাঙা কাঁচে তার বাম হাত গভীরভাবে কেটে যায়। হাতের মাংসপেশির ভেতরেও ঢুকে পড়ে কাঁচের কয়েকটি টুকরা। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে চিলমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।

সাইদারের অভিযোগ, হাসপাতালে শয্যা খালি না থাকার কথা জানিয়ে তাকে ভর্তি করা হয়নি। প্রাথমিক চিকিৎসা ও ব্যান্ডেজ করে বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু তার হাতের ভেতরে কাঁচের টুকরা রয়ে গেছে কি না, তা শনাক্ত করতে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা কিংবা সেগুলো বের করার কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

এরপর দীর্ঘ এক মাসের বেশি সময় ধরে হাতের ব্যথা ও যন্ত্রণা নিয়ে দিন কাটে তার। অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় পরে এক্স-রে করান তিনি। পরীক্ষায় হাতের মাংসপেশির ভেতরে দুটি কাঁচের টুকরা থাকার বিষয়টি ধরা পড়ে। পরে অন্য চিকিৎসকের মাধ্যমে অস্ত্রোপচার করে সেগুলো বের করা হয়।

সাইদার মিয়া বলেন, ‘বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে পড়ে যাওয়ার পর ঘরের ভেতরে থাকা কাঁচে হাতে আঘাত পাই। স্থানীয় লোকজন আমাকে হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কোনোরকম চিকিৎসা দিয়ে হাতের ভেতরে কাঁচ রেখেই বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হয়। পরে সুস্থ না হওয়ায় এক মাসের বেশি সময় পর এক্স-রে করালে দুটি কাঁচের টুকরা দেখা যায়। এরপর অস্ত্রোপচার করে সেগুলো বের করা হয়েছে।’

বিজ্ঞাপন

চিকিৎসাসেবার মান নিয়ে ক্ষোভ জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘এখানে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়, নাকি মানুষকে মেরে ফেলা হয়? কোনো রোগীকে ভালোভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয় না। এমন অবহেলার দায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে নিতে হবে।’

এ ঘটনায় ক্ষোভ জানিয়েছেন উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর আলম সাদ্দাম। তিনি বলেন, সাইদার মিয়া অত্যন্ত দরিদ্র ও অসহায়। বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে কাঁচের আঘাতে রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। সে সময় চিকিৎসকেরা দায়িত্বশীল ও মানবিক ভূমিকা নিয়ে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করালে তাকে এত দিন যন্ত্রণা ভোগ করতে হতো না।

ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের পাশাপাশি দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

বিজ্ঞাপন

অভিযোগের বিষয়ে চিলমারী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘ওটা ভুলবশত হয়ে গেছে। এজন্য স্যরি। আমি এ বিষয়ে খোঁজখবর নিচ্ছি।’

জেবি/এসডি

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD