ঠাকুরগাঁওয়ে তরুণের আঙুর বাগানে রাতের আঁধারে দুর্বৃত্তের তাণ্ডব

ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার ডাঙ্গী বাজার এলাকায় রাতের আঁধারে এক তরুণ উদ্যোক্তার আঙুর বাগানের ১০০ থেকে ১৫০টি গাছ কেটে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে প্রায় তিন লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন বাগানটির মালিক রাহাত আলম বর্ষা। মাত্র ১৯ বছর বয়সে নিজের স্বপ্ন ও পরিশ্রমে গড়ে তোলা বাগানটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় হতাশ হয়ে পড়েছেন তিনি।
বিজ্ঞাপন
সদ্য এইচএসসি উত্তীর্ণ রাহাত আলম বর্ষা নতুন কিছু করার প্রত্যাশায় আঙুর চাষ শুরু করেন। প্রায় ৫০ শতক জমিতে ছয় মাস আগে গড়ে তোলেন আঙুরের বাগান। সেখানে আনুমানিক ৩০০টি আঙুরগাছ ছিল। বাগান প্রতিষ্ঠায় তাঁর বিনিয়োগ ছিল প্রায় পাঁচ লাখ টাকা।
অভিযোগ অনুযায়ী, সম্প্রতি রাতের অন্ধকারে দুর্বৃত্তরা বাগানের ১০০ থেকে ১৫০টি আঙুরগাছ কেটে দেয়। ক্ষতিগ্রস্ত কয়েকটি গাছে আঙুরের ফলও ধরেছিল। এতে প্রায় তিন লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন উদ্যোক্তা। এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িতদের শনাক্তকরণ ও দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি করেছেন তিনি।
বাগান দেখতে এসে রাহাতের বন্ধু সোহাগ হাসান বলেন, আমার বন্ধু বর্ষা প্রায় পাঁচ লাখ টাকা বিনিয়োগ করে অনেক স্বপ্ন নিয়ে বাগানটি গড়ে তুলেছিল। কিন্তু প্রায় ১০০টি গাছ কেটে দেওয়ায় সে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে বর্ষা প্রায় নিঃস্ব হওয়ার পথে। আমরা এ ঘটনার দ্রুত বিচার চাই।
বিজ্ঞাপন
বাগান দেখতে আসা সম্ভু রায় সিংহ জানান, তিনি প্রায়ই ওই পথ দিয়ে যাতায়াত করেন এবং বাইরে থেকে বাগানটি দেখতেন। তবে কখনো ভেতরে প্রবেশ করেননি। গাছ কাটার খবর পেয়ে সেদিন বাগানে গিয়ে ক্ষয়ক্ষতির চিত্র দেখে মর্মাহত হন তিনি।
তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, বাগানের প্রায় ১০০ থেকে ১৫০টি গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
জমিটির সাবেক আবাদকারী মশিরুল ইসলাম জানান, দীর্ঘদিন ধরে তিনি ওই জমিতে চাষাবাদ করতেন। পরে সেখানে আঙুর বাগান গড়ে তোলার পরিকল্পনা করা হলে রাহাত আলম বর্ষাকে জমিটি ছেড়ে দেন।
বিজ্ঞাপন
মশিরুল ইসলামের আশা ছিল, বালিয়াডাঙ্গীতে আঙুর চাষের এই উদ্যোগ সফল হলে এলাকার কৃষকদের মধ্যে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে। বাগানটি ভালোভাবে গড়ে উঠলে অন্যরাও উৎসাহিত হয়ে বিভিন্ন স্থানে আঙুর চাষে এগিয়ে আসবেন। সেই প্রত্যাশা থেকেই তিনি জমিটি ছেড়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু বাগানের বর্তমান অবস্থা দেখে তিনি হতাশ হয়েছেন এবং দ্রুত ঘটনার সুষ্ঠু সমাধান ও বিচার দাবি করেছেন।
এদিকে, স্থানীয় বাসিন্দারা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করার জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁদের দাবি, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত তরুণ উদ্যোক্তার পাশে দাঁড়িয়ে তাঁর ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে সহযোগিতা করারও আহ্বান জানান তাঁরা।
এক তরুণের স্বপ্ন, শ্রম ও বিনিয়োগে গড়ে ওঠা সম্ভাবনাময় আঙুর বাগানটি এখন ক্ষতিগ্রস্ত। বালিয়াডাঙ্গীতে আঙুর চাষের নতুন সম্ভাবনা নিয়ে শুরু হওয়া উদ্যোগের এমন পরিণতিতে হতাশ উদ্যোক্তা ও এলাকাবাসী। তাঁদের প্রত্যাশা, সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেবে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন।
বিজ্ঞাপন








