Logo

ধামরাইয়ে তিন বাড়ির ফটকে কাফনের কাপড়, গলাকাটা মুরগি

profile picture
উপজেলা প্রতিনিধি
সাভার, ঢাকা
৫ নভেম্বর, ২০২৬, ১৪:৫০
ধামরাইয়ে তিন বাড়ির ফটকে কাফনের কাপড়, গলাকাটা মুরগি
ছবি: সংগৃহীত

ঢাকার ধামরাইয়ে তিনটি বাড়ির প্রধান ফটকে কাফনের কাপড়, আতর, সাবান ও রক্তমাখা গলাকাটা মুরগি রেখে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় তিন পরিবারের সদস্যদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে পুরো গ্রামজুড়ে।

বিজ্ঞাপন

বুধবার (৪ নভেম্বর) দিবাগত রাতে উপজেলার কুল্লা ইউনিয়নের বড় চন্দ্রাইল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। বৃহস্পতিবার সকালে বাড়ির সামনে এসব সামগ্রী দেখতে পান ভুক্তভোগীরা।

ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ অক্টোবর গভীর রাতে দুর্বৃত্তদের দেওয়া আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয় মো. মোসলেহ উদ্দিনের বসতঘর। ওই ঘটনার পর তার পাশে দাঁড়ানো প্রতিবেশী ওয়াহিদ ভুইয়া রিপন ও সেন্টু মিয়ার বাড়িকেও এবার লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

মোসলেহ উদ্দিনের বাড়ির গ্রিলে রাতে একটি ব্যাগ ঝুলতে দেখা যায়। পরে বৃহস্পতিবার সকালে অন্য দুই বাড়ির প্রধান ফটকে কাফনের কাপড়, আতর, সাবান ও গলাকাটা মুরগি পাওয়া যায়।

বিজ্ঞাপন

মোসলেহ উদ্দিন বলেন, গত ২৪ অক্টোবর গভীর রাতে আমার বসতঘরে দুর্বৃত্তরা আগুন ধরিয়ে দিয়েছিল। সেই দুঃসহ ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার আগেই আবার এই ঘটনা। যারা সে সময় আমার পাশে দাঁড়িয়েছিলেন এবং আমাকে সহযোগিতা করেছিলেন, ঠিক তাদের বাড়িগুলোতেই এবার কাফনের কাপড় পাঠিয়ে মৃত্যুর বার্তা দেওয়া হয়েছে। আমরা এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও অভিযোগ করেন, জমি কেনাকে কেন্দ্র করে একটি নম্বর থেকে তাকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। ওই জমি কেনার কারণ জানতে চেয়ে তাকে একের পর এক ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

আরেক ভুক্তভোগী ওয়াহিদ ভুইয়া রিপন বলেন, রাতে মোসলেহ উদ্দিনের বাড়িতে ব্যাগ ঝুলতে দেখে তিনি সেখানে যান। পরে বাড়িতে ফিরে সকালে নিজের দরজায় কাফনের কাপড়, আতর, সাবান ও রক্তমাখা গলাকাটা মুরগি দেখতে পান।

তিনি বলেন, এটা কোনো সাধারণ ঘটনা নয়। পূর্ব শত্রুতার জেরে একটি চক্র পরিকল্পিতভাবে আমাদের পরিবারকে মানসিকভাবে ভেঙে দিতে এবং প্রাণনাশের হুমকি দিতেই এই ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরি করেছে।

তৃতীয় ভুক্তভোগী সেন্টু মিয়া বলেন, তারা এলাকায় শান্তিতে বসবাস করতে চান। এ ধরনের কর্মকাণ্ডে তার পুরো পরিবার আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের কাছে দাবি জানিয়েছেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ঘটনার পর থেকে শুধু ওই তিন পরিবার নয়, পুরো চন্দ্রাইল গ্রামের মানুষের মধ্যেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে বড় ধরনের কোনো দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলেও আশঙ্কা করছেন তারা।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগীরা প্রথমে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করেন। পরে ধামরাই থানায় গিয়ে লিখিতভাবে অভিযোগ জানান।

ধামরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাজমুল হুদা খান জানান, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গেছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জেবি/এসডি

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD