অনিশ্চয়তা কাটিয়ে সেন্টমার্টিনে প্রথম জাহাজ, যাত্রী ধারণক্ষমতার বেশি

নানা জটিলতা ও অনিশ্চয়তার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে কক্সবাজার থেকে সেন্টমার্টিন দ্বীপে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকালে এমভি বার আউলিয়ার যাত্রার মধ্য দিয়ে চলতি পর্যটন মৌসুমে এই নৌপথে প্রথম জাহাজ চলাচল শুরু হয়। তবে প্রথম দিনেই জাহাজটির যাত্রীসংখ্যা নির্ধারিত ধারণক্ষমতা ছাড়িয়ে যাওয়ার বিষয়টি আলোচনায় এসেছে।
বিজ্ঞাপন
সকাল সাড়ে ৭টায় কক্সবাজার শহরের নুনিয়ারছড়া ঘাট থেকে সেন্টমার্টিনের উদ্দেশে ছেড়ে যায় এমভি বার আউলিয়া। জাহাজটির অনুমোদিত যাত্রী ধারণক্ষমতা ৮৫০ জন হলেও সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, এতে এক হাজারের বেশি যাত্রী নেওয়া হয়েছে। যদিও ট্যুরিজম বোর্ডের অ্যাপে যাত্রীর সংখ্যা দেখানো হয়েছে ৮৮৬ জন।
সি ক্রুজ অপারেটর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক হোসাইন ইসলাম বাহাদুর বলেন, নানা সীমাবদ্ধতা পেরিয়ে আট শতাধিক যাত্রী নিয়ে এমভি বার আউলিয়া সেন্টমার্টিনের উদ্দেশে যাত্রা করেছে। যাত্রীসংখ্যা ৮ শতাধিক হওয়ায় প্রথম দিন একটি জাহাজ ছাড়া হয়েছে। যাঁরা টিকিট কেটেছেন, তাঁরাই আজ যাচ্ছেন।
তিনি আরও জানান, সরকার আরও দুটি জাহাজ চলাচলের অনুমোদন দিয়েছে। পর্যটকদের চাহিদা বিবেচনায় পর্যায়ক্রমে সেগুলো চালু করা হবে। পাশাপাশি আরও ছয়টি জাহাজ পরিচালনার অনুমতি চেয়ে আবেদন করা হয়েছে, যেগুলো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। সেন্টমার্টিনের পর্যটন নিয়ে বর্তমান সরকারের সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বিজ্ঞাপন
কক্সবাজার সদরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ আতাউর রহমান জানান, জাহাজ চলাচলের সার্বিক বিষয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। কোস্টগার্ড, নৌপুলিশ ও পরিবেশ অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থার কর্মকর্তারা বিভিন্ন বিষয় পরিদর্শন করেছেন। প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে সবকিছু ঠিকঠাক পাওয়া গেছে। জাহাজ চলাচল বাড়লে তদারকিও আরও জোরদার করা হবে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই যাত্রার মাধ্যমে আগামী ১৫ মার্চ পর্যন্ত পর্যটকেরা সেন্টমার্টিনে সুন্দর সময় কাটাতে পারবেন।
কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক সৈয়দ মুহাম্মদ মোরশেদ হোসেন বলেন, জেলা প্রশাসনের অনুরোধে জাহাজের অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা পরিদর্শন করা হয়েছে। এসব সরঞ্জাম বিআইডব্লিউটিএ পরীক্ষা করে থাকে। পরিদর্শনে তাঁরা সন্তুষ্ট হয়েছেন।
বিজ্ঞাপন
এর আগে বুধবার দিনভর জাহাজ চলাচল নিয়ে নানা নাটকীয়তা ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। প্রথমে বৃহস্পতিবার তিনটি জাহাজ চলাচলের ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের অনুমোদনের ভিত্তিতে জাহাজ কর্তৃপক্ষ টিকিট বিক্রিও শুরু করে। কিন্তু বুধবার সন্ধ্যার পর জাহাজ চলাচল নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা দেখা দেয়। পরে রাত ১০টার দিকে জানানো হয়, বৃহস্পতিবার একটি জাহাজই সেন্টমার্টিন যাবে।
কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান জানান, ইতিমধ্যে অনেক পর্যটক টিকিট সংগ্রহ করেছেন। তাঁদের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বৃহস্পতিবার একটি জাহাজ সেন্টমার্টিন পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
নৌপরিবহন অধিদপ্তর ও পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমোদন পাওয়া তিনটি জাহাজ হলো এমভি বার আউলিয়া, এমভি কর্ণফুলী ও এমভি টেকনাফ। এই তিন জাহাজের সম্মিলিত যাত্রী ধারণক্ষমতা ২ হাজার ২৯৮ জন। এর মধ্যে এমভি বার আউলিয়ার ধারণক্ষমতা ৮৫০, এমভি কর্ণফুলির ৭৩২ এবং এমভি টেকনাফের ৭১৬ জন।
বিজ্ঞাপন
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দেওয়া সময়সূচি অনুযায়ী, এমভি বার আউলিয়া সকাল সাড়ে ৭টায় কক্সবাজার থেকে ছেড়ে বিকেল আড়াইটায় সেন্টমার্টিন থেকে ফিরবে। এমভি কর্ণফুলী সকাল সোয়া ৭টায় যাত্রা করে বেলা সোয়া ২টায় ফিরবে। অন্যদিকে এমভি টেকনাফ সকাল সোয়া ৮টায় কক্সবাজার থেকে ছেড়ে বিকেল সাড়ে ৩টায় ফিরবে।








