Logo

স্বাভাবিক হচ্ছে শিল্পাঞ্চলের পরিস্থিতি, সচল বেশিরভাগ কারখানা

profile picture
জেলা প্রতিনিধি
ঢাকা
৫ নভেম্বর, ২০২৬, ১৬:২৫
স্বাভাবিক হচ্ছে শিল্পাঞ্চলের পরিস্থিতি, সচল বেশিরভাগ কারখানা
ছবি: সংগৃহীত

ঢাকার সাভার ও আশুলিয়ার শিল্পাঞ্চলে পোশাকশ্রমিকদের বিক্ষোভ ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের পর পরিস্থিতি শান্ত হয়ে এসেছে। অধিকাংশ কারখানায় উৎপাদন কার্যক্রম স্বাভাবিক থাকলেও নিরাপত্তাজনিত আশঙ্কায় ৭০টি কারখানায় সাময়িক ছুটি ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। শিল্পাঞ্চল পুলিশের হিসাবে, তাদের আওতাধীন মোট ১ হাজার ৮৬৩টি কারখানার মধ্যে বাকি কারখানাগুলোতে কাজ চলছে।

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকালে ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণসহ বিভিন্ন দাবিতে আশুলিয়ার জামগড়া এলাকায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন পোশাকশ্রমিকদের একটি অংশ। এ সময় পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। বিক্ষোভকারীদের ইটপাটকেলের আঘাতে শিল্প পুলিশের একটি গাড়ির কাচ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে।

শ্রমিক ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকালে আব্দুল্লাহপুর-বাইপাইল সড়কের আশপাশের বিভিন্ন কারখানায় নির্ধারিত সময়েই শ্রমিকরা কাজে যোগ দেন। তবে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে উৎপাদন বন্ধ রেখে শ্রমিকরা কারখানার ভেতরে অবস্থান করেন। পরে পরিস্থিতি বিবেচনায় কয়েকটি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

সকাল সাড়ে আটটার দিকে জামগড়া এলাকায় শ্রমিকরা সড়ক অবরোধ করলে পুলিশ তাঁদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া শুরু হয়। এ সময় বিক্ষোভকারীদের ছোড়া ইটপাটকেলে শিল্প পুলিশের একটি গাড়ির কাচ ভেঙে যায়। পরে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

বিজ্ঞাপন

শিল্পাঞ্চল পুলিশ-১-এর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, সাভার ও আশুলিয়ার সামগ্রিক পরিস্থিতি বর্তমানে ভালো রয়েছে। তবে কয়েকটি এলাকায় অস্থিতিশীলতার আশঙ্কা থাকায় সংশ্লিষ্ট কারখানা কর্তৃপক্ষ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ছুটি ঘোষণা করেছে।

তিনি বলেন, শিল্পাঞ্চল পুলিশের আওতাধীন ১ হাজার ৮৬৩টি কারখানার মধ্যে বৃহস্পতিবার ৭০টি সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে। বাকি কারখানাগুলোতে উৎপাদন কার্যক্রম অব্যাহত আছে।

জামগড়া এলাকার ঘটনা সম্পর্কে পুলিশ সুপার বলেন, কয়েকটি কারখানায় ছুটি ঘোষণার পর কিছু দুষ্কৃতকারী প্রতিষ্ঠানগুলো লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। কয়েকজনকে আটক করার পর তাঁরা পুলিশের ওপর হামলা চালান এবং একটি গাড়ি ভাঙচুর করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ারশেল ব্যবহার করে।

বিজ্ঞাপন

এদিকে সকাল সাড়ে নয়টার দিকে আশুলিয়ার দোসাইদ এলাকায় ফেব্রিকা নিট কম্পোজিট কারখানার সামনে ৪০০ থেকে ৫০০ জন বিক্ষোভকারী জড়ো হন। একপর্যায়ে তাঁরা কারখানাটির দুটি প্রবেশপথের ফটক ভাঙচুর করেন। এ ঘটনার পর নিরাপত্তার স্বার্থে প্রতিষ্ঠানটিতে ছুটি ঘোষণা করা হয়। আশপাশের আরও কয়েকটি কারখানাও একই কারণে বন্ধ রাখা হয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ফেব্রিকা নিট কম্পোজিটের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘প্রায় ৫০০ লোক আইসা দুইটা গেইট ভাঙছে। কারখানা ছুটি দিলে শ্রমিকরা বের হওয়ার সময় তারা চইলা গেছে। আশপাশের কারখানাও ছুটি দিয়া দিছে।’

শিল্পাঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সকাল থেকেই বিভিন্ন এলাকায় পুলিশ ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্যদের দায়িত্ব পালন করতে দেখা যায়। পাশাপাশি কয়েকটি কারখানার সামনে ও আশপাশের এলাকায় স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীদেরও অবস্থান ছিল।

বিজ্ঞাপন

ঢাকা ব্যাটালিয়ন (৫ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল তৈমুর হাসান খান বলেন, অন্যান্য দিনের তুলনায় বৃহস্পতিবার পরিস্থিতি অনেক ভালো ও স্বাভাবিক রয়েছে। এখন পর্যন্ত কোথাও অরাজকতা কিংবা নাশকতার ঘটনা ঘটেনি। সাভার ও আশুলিয়ার সার্বিক নিরাপত্তা বজায় রাখতে পাঁচ প্লাটুন বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

এদিকে শ্রমিকদের একটি অংশের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির কথাও জানিয়েছে পুলিশ। মোহাম্মদ মোমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, কিছুক্ষণ আগে প্রায় আড়াই হাজার শ্রমিক জিরাবো থেকে এনভয় কারখানা পর্যন্ত মিছিল করেছেন। গাজীপুরে শ্রমিক হত্যার প্রতিবাদে তাঁরা এ কর্মসূচি পালন করেন।

পুলিশের ঢাকা রেঞ্জের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মুস্তাফিজুর রহমান জানান, ঢাকা রেঞ্জের আওতাধীন গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ ও সাভার এলাকায় শিল্পকারখানাগুলোতে পূর্ণোদ্যমে কাজ চলছে। আশুলিয়ার অল্প কয়েকটি কারখানা ছাড়া অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিরাপদে উৎপাদন কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। ডিইপিজেডের সব কারখানাও খোলা রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

বন্ধ থাকা কারখানাগুলোর শ্রমিকদের কাজে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ঢাকা জেলায় পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। পোশাকধারী সদস্যদের পাশাপাশি সাদা পোশাকেও পুলিশ দায়িত্ব পালন করছে।

শিল্পাঞ্চলে উৎপাদন স্বাভাবিক রাখা এবং শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। তবে শ্রমিকদের বেতনসংক্রান্ত দাবি ও সাম্প্রতিক বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে শিল্পাঞ্চলের স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এখন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD