আশুলিয়ায় ১৮৬৩ কারখানার মধ্যে ৭০টি বন্ধ, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে

ঢাকার আশুলিয়ার পোশাকশিল্প এলাকায় সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানিয়েছে শিল্প পুলিশ। শিল্প পুলিশ-১-এর আওতাধীন ১ হাজার ৮৬৩টি কারখানার মধ্যে বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ৭০টি সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে। বাকি কারখানাগুলোতে উৎপাদন কার্যক্রম অব্যাহত আছে।
বিজ্ঞাপন
বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে আশুলিয়ার জামগড়া এলাকায় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় এ তথ্য জানান শিল্প পুলিশ-১-এর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া।
তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার জামগড়া এলাকার কয়েকটি কারখানায় ছুটির পর কিছু দুষ্কৃতকারী ঢিল ও পাটকেল ছুড়ছিল। এ সময় কয়েকজনকে আটক করার চেষ্টা করলে তারা পুলিশের ওপর হামলা চালায় এবং পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ও কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে পুলিশ সুপার বলেন, এলাকায় এখন পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক ও নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। কিছুক্ষণ আগে প্রায় আড়াই হাজার শ্রমিক জিরাবো থেকে এনভয় কারখানা পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ মিছিল করেছেন। গাজীপুরে শ্রমিক হত্যার প্রতিবাদে তাঁরা এ কর্মসূচি পালন করেন।
বৃহস্পতিবারের ঘটনায় গ্রেপ্তারের সংখ্যা জানতে চাইলে মোমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, এ বিষয়ে এখনো তাঁদের কাছে নির্দিষ্ট কোনো পরিসংখ্যান নেই। তবে বর্তমানে তাঁদের হেফাজতে কেউ আটক নেই। পাশাপাশি বিজিবির পক্ষ থেকেও যোগাযোগ করা হয়েছে। এলাকায় এপিসিসহ বিজিবির পাঁচ প্লাটুন সদস্য মোতায়েন রয়েছেন।
বিজ্ঞাপন
মামলা ও আইনগত পদক্ষেপের বিষয়ে তিনি জানান, পরিস্থিতি সামাল দিতে থানা-পুলিশ ও শিল্প পুলিশ যৌথভাবে কাজ করছে। দুই বাহিনীর সমন্বয়ে পরিস্থিতি মোকাবিলা এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
শ্রমিকদের উদ্দেশে শিল্প পুলিশ সুপার বলেন, শ্রমিকেরা কাজ করতে চান। কিন্তু বাইরে থেকে কিছু দুষ্কৃতকারী ও নাশকতাকারী এসে তাঁদের উসকানি দিচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা প্রচারণার মাধ্যমে শ্রমিকদের কাজে বাধা দেওয়ার চেষ্টা চলছে। বিভিন্ন সময়ে শ্রমিকেরা একত্র হয়ে হইচই করছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
মোমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, সরকার ইতোমধ্যে ন্যূনতম মজুরি বোর্ড ঘোষণা করেছে। এ-সংক্রান্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং জানুয়ারির শুরু থেকে নতুন মজুরি কার্যকরের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। শিল্প পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী শ্রমিকদের কাজে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানাচ্ছে। মালিকপক্ষও নির্ধারিত ন্যূনতম মজুরি বাস্তবায়নে অঙ্গীকারবদ্ধ। শ্রমিকেরা কাজে ফিরলে কারখানাগুলোতে আবার উৎসবমুখর ও কর্মচঞ্চল পরিবেশ ফিরে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
আন্দোলনে উসকানিদাতাদের শনাক্তের বিষয়ে তিনি জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে তাঁদের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। তবে তদন্তের স্বার্থে এ মুহূর্তে তাঁদের পরিচয় প্রকাশ করা সম্ভব নয়।
বিজ্ঞাপন
শিল্প পুলিশ সুপার আরও বলেন, বাইরে থেকে আসা বিভিন্ন ব্যক্তি শ্রমিকদের সামনে রেখে পেছন থেকে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছেন। এসব ব্যক্তির পেছনে কোনো রাজনৈতিক দলের ছত্রছায়া রয়েছে কি না, তা তাঁদের জানা নেই। তবে তাঁরা শ্রমিক নন, বহিরাগত উসকানিদাতা বলে দাবি করেন তিনি।
তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এসব ব্যক্তি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় থেকে কোথায় শ্রমিকেরা জড়ো হচ্ছেন, কোথায় গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটছে কিংবা কোন এলাকায় পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে—এসব বিষয়ে প্রচার চালাচ্ছেন।








