Logo

মোংলা বন্দর হবে সম্ভাবনাময় নতুন অর্থনৈতিক হাব: প্রধানমন্ত্রী

profile picture
জেলা প্রতিনিধি
বাগেরহাট
৫ নভেম্বর, ২০২৬, ১৬:০৫
মোংলা বন্দর হবে সম্ভাবনাময় নতুন অর্থনৈতিক হাব: প্রধানমন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, মোংলা বন্দরকে আধুনিকায়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের একটি সম্ভাবনাময় নতুন অর্থনৈতিক হাবে পরিণত হবে। প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়ন এবং বন্দরসেবার পরিধি বাড়ানো সম্ভব হলে মোংলাকে কেন্দ্র করে এ অঞ্চলে শিল্প, বাণিজ্য ও বিনিয়োগের নতুন সুযোগ তৈরি হবে।

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) মোংলায় ‘মোংলা বন্দর সুবিধা সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়ন প্রকল্পের’ ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

এর আগে বেলা ১১টা ১৫ মিনিটে ৪ হাজার ৬৮ কোটি টাকা ব্যয়ে দুটি কনটেইনার জেটি নির্মাণ এবং সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো উন্নয়নকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন তিনি। অনুষ্ঠানে বন্দর এলাকায় একটি গাছের চারাও রোপণ করেন প্রধানমন্ত্রী।

তারেক রহমান বলেন, মোংলা বন্দরকে ঘিরে খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা ও যশোরসহ আশপাশের জেলাগুলোর অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণের যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। এ লক্ষ্যে পঞ্চগড় থেকে বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত সড়ক যোগাযোগ, পণ্য পরিবহনের সক্ষমতা এবং বন্দরের সরবরাহব্যবস্থা উন্নত করার উদ্যোগ নিতে চায় সরকার।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, বন্দরের আধুনিকায়নের ফলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সঙ্গে বাণিজ্যিক যোগাযোগ আরও গতিশীল হবে। পাশাপাশি খানজাহান আলী বিমানবন্দরের উন্নয়ন কার্যক্রম চালু করাও সরকারের অগ্রাধিকার তালিকায় রয়েছে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিশ্বের বর্তমান পরিস্থিতিতে জ্বালানি ও খাদ্যনিরাপত্তার গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জ্বালানি, সার, খাদ্যশস্য ও শিল্পের কাঁচামাল আমদানির পাশাপাশি দেশীয় পণ্য রপ্তানিতে মোংলা বন্দর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এর মাধ্যমে জাতীয় অর্থনৈতিক নিরাপত্তা আরও সুসংহত হবে।

প্রকল্পের আওতায় আধুনিক কনটেইনার টার্মিনাল, ইয়ার্ড এবং কার্গো ওঠানামার উন্নত সুবিধাসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ করা হচ্ছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ হলে এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন সরকারপ্রধান।

বিজ্ঞাপন

তবে প্রকল্পের সাফল্য শুধু অবকাঠামো নির্মাণের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে না বলে মন্তব্য করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর মতে, বন্দরসেবার মান বৃদ্ধি, পণ্য পরিবহনে সময় ও ব্যয় হ্রাস, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং পরিবেশ সুরক্ষার মতো বিষয়গুলো দিয়েই প্রকল্পের প্রকৃত সফলতা মূল্যায়ন করতে হবে।

পরিবেশ সুরক্ষার বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে তিনি দূষণ নিয়ন্ত্রণ, জাহাজের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং পরিবেশবান্ধব বন্দরসেবা নিশ্চিত করার নির্দেশনার কথা তুলে ধরেন। আন্তর্জাতিক পরিবেশ ও নিরাপত্তাবিষয়ক মানদণ্ড অনুসরণ, জলবায়ু সহনশীল অবকাঠামো নির্মাণ এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর ওপরও জোর দেন প্রধানমন্ত্রী।

এ ছাড়া বন্দরের ঝুঁকিপূর্ণ কার্যক্রম পরিচালনায় অগ্নিনিরাপত্তা, দক্ষ ও প্রশিক্ষিত জনবল এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার সক্ষমতা গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

প্রধানমন্ত্রী জানান, ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশের অর্থনীতির আকার এক ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, শিল্পায়ন, রপ্তানি বহুমুখীকরণ, জ্বালানি ও খাদ্যনিরাপত্তা এবং দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

এ ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারী, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিনিয়োগে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি। বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ, সহজ প্রশাসনিক প্রক্রিয়া, নির্ভরযোগ্য অবকাঠামো এবং নীতির ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতিও দেন প্রধানমন্ত্রী।

মোংলা বন্দরকে আন্তর্জাতিক নৌবাণিজ্যের জন্য আরও আকর্ষণীয় করে তোলার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তারেক রহমান বলেন, বন্দরের নাব্যতা, নৌপথের নির্ভরযোগ্যতা, জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা এবং প্রতিযোগিতামূলক সেবা নিশ্চিত করতে হবে। আন্তর্জাতিক শিপিং কোম্পানিগুলোর কাছে বন্দরের গ্রহণযোগ্যতা বাড়ানোর পাশাপাশি উপযুক্ত বাণিজ্যিক ও পরিচালনাগত শর্তে এটিকে ফার্স্ট কলিং পোর্ট হিসেবে গড়ে তোলার প্রয়োজন রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

মোংলা ও আশপাশের শিল্পাঞ্চলে নতুন কারখানা স্থাপনের জন্য দ্রুত গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। এ বিষয়ে ইতোমধ্যে কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

খুলনা অঞ্চলের পুরোনো শিল্পভিত্তির কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, একসময় এ অঞ্চলে অসংখ্য মিল-কারখানা ছিল। সরকার সেই হারিয়ে যাওয়া শিল্পঐতিহ্য পুনরুদ্ধার করতে চায়।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ উদ্যোগ শিল্প-বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তাকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি তরুণদের কর্মসংস্থান, উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগে আস্থা এবং আঞ্চলিক ভারসাম্যপূর্ণ উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে।

বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশের অবকাঠামো উন্নয়নে ধারাবাহিক সহযোগিতার জন্য চীন সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।

প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ঢাকার কমলাপুর ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপো (আইসিডি) থেকে কনটেইনারবাহী ট্রেন সরাসরি মোংলা বন্দরে চলাচলের সুযোগ তৈরি হবে। এতে রেলপথে পণ্য পরিবহন বাড়ার পাশাপাশি আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম আরও সম্প্রসারিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

অনুষ্ঠানে যোগাযোগমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসান, পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল আরিফ আহমেদ মোস্তফা এবং চায়না রেলওয়ে কনস্ট্রাকশন করপোরেশনের চেয়ারম্যান দাই হেগেন বক্তব্য দেন।

বিজ্ঞাপন

এ সময় বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুনসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD