Logo

চুয়াডাঙ্গায় জিয়াউর রহমানের ছবি না থাকায় বিএনপির অনুষ্ঠান বর্জন

profile picture
উপজেলা প্রতিনিধি
চুয়াডাঙ্গা সদর, চুয়াডাঙ্গা
৭ নভেম্বর, ২০২৬, ১৩:৪২
চুয়াডাঙ্গায় জিয়াউর রহমানের ছবি না থাকায় বিএনপির অনুষ্ঠান বর্জন
ছবি: সংগৃহীত

চুয়াডাঙ্গায় জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে জেলা প্রশাসনের আয়োজিত অনুষ্ঠানের ব্যানারে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ছবি না থাকাকে কেন্দ্র করে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। এ ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়ে অনুষ্ঠান বর্জন করেন তারা। পরে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দুঃখপ্রকাশ করেন জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার।

বিজ্ঞাপন

শনিবার (৭ নভেম্বর) জেলা প্রশাসনের ডিসি সাহিত্য মঞ্চে আয়োজিত আলোচনা সভায় এ ঘটনা ঘটে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সকালে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা শুরু হয়। আমন্ত্রিত অতিথিদের বক্তব্য শেষে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার। তার বক্তব্য শেষ হওয়ার পর জেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী সভাস্থলে প্রবেশ করেন। তারা বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে প্রতিবাদ জানান এবং ব্যানারে জিয়াউর রহমানের ছবি না রাখার বিষয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে ব্যাখ্যা দাবি করেন।

তবে সন্তোষজনক জবাব না পাওয়ার অভিযোগ তুলে নেতাকর্মীরা অনুষ্ঠান বর্জনের ঘোষণা দেন। পরে তারা সভাস্থল ত্যাগ করে জেলা প্রশাসক কার্যালয় চত্বরে অবস্থান নেন এবং বিক্ষোভ ও স্লোগান দেন।

বিজ্ঞাপন

এ বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সফিকুল ইসলাম পিটু বলেন, "জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস একটি রাষ্ট্রীয় দিবস। এমন একটি রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে দিবসের পটভূমির মূল নায়ক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ছবি না থাকার বিষয়টি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আমরা জেলা প্রশাসকের কাছে এর জবাব চেয়েছিলাম, কিন্তু কোনো সন্তোষজনক উত্তর পাইনি। তাই আমরা এই বিতর্কিত অনুষ্ঠান বর্জন করেছি। "

অনুষ্ঠানের সঞ্চালনা নিয়েও আপত্তি জানান জেলা জাসাসের সাধারণ সম্পাদক সেলিমুল হাবীব। তিনি বলেন, "প্রশাসন শুধু ব্যানারে ছবি বাদ দেয়নি, বরং পুরো অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করিয়েছে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সুবিধাভোগী সংগঠন ‘বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের’ সাধারণ সম্পাদক হিরন উর রশীদ শান্তকে দিয়ে। গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে প্রশাসনের এমন বিতর্কিত কর্মকাণ্ড আমাদের গভীরভাবে ভাবিয়ে তুলছে।"

বিএনপি নেতাকর্মীদের প্রতিবাদের মুখে জেলা প্রশাসক পুনরায় মঞ্চে বক্তব্য দেন। এ সময় তিনি পরিস্থিতির জন্য দুঃখপ্রকাশ করে বলেন, "অনুষ্ঠানের জন্য আমাদের কোনো নির্ধারিত বাজেট ছিল না। ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও বাজেটের কারণে ছবি বা সাজসজ্জার ওইভাবে ব্যবস্থা করা সম্ভব হয়নি। এছাড়া বর্তমান সরকার প্রধানের পক্ষ থেকেও ছবি ব্যবহারের ক্ষেত্রে এক ধরনের নিরুৎসাহ রয়েছে। তবে সামগ্রিক বিষয়টি ভুল হয়েছে এবং এর জন্য আমি দুঃখপ্রকাশ করছি।"

বিজ্ঞাপন

জেলা প্রশাসকের দুঃখপ্রকাশ এবং সংক্ষিপ্ত পুরস্কার বিতরণের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শেষ হয়। তবে এ ঘটনাকে ঘিরে চুয়াডাঙ্গার রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা ও আলোচনা-সমালোচনা অব্যাহত রয়েছে।

জেবি/আরএক্স

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD