Logo

কুমিল্লায় ইউটিউব দেখে টমেটো চাষে সফল কৃষক

profile picture
উপজেলা প্রতিনিধি
কুমিল্লা
৫ জানুয়ারি, ২০২৬, ১৬:০৬
কুমিল্লায় ইউটিউব দেখে টমেটো চাষে সফল কৃষক
ছবি প্রতিনিধি।

কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার চাঁনগাছা গ্রামের পরিশ্রমী যুবক মনির হোসেন। ইউটিউব দেখে গ্রীস্মকালীন টমেটো চাষে উদ্বুদ্ধ হয়। এরপর প্রায় ১৫ বিঘা জমিতে টমেটো চাষ করে গত ৪ মাসে কোটি টাকার বেশী টমেটো বিক্রয় করেছেন। এখনো গাছণ্ডুলোতে ঝুলছে থোকায় থোকায় টমেটো। প্রতিদিনই স্থানীয় বাজারের পাশাপাশি পাইকাররা বাগান থেকে কিনে নিয়ে যাচ্ছে। তার আশা আসন্ন শীত মৌসুমেও গাছগুলো পর্যাপ্ত ফলন দিবে।

বিজ্ঞাপন

মনির হোসেন জানান, ইউটিউব দেখে টমেটো চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেন তিনি। চলতি বছরের জুনের প্রথম দিকে গ্রামের আশপাশে ৬টি প্লটে প্রায় ১৫ বিঘা জমিতে টমেটো চাষ শুরু করে। জমি তৈরী করে ভারতীয় মঙ্গল রাজা ও শাহু প্রজাতির টমেটোর চারা রোপন করেন। এরপর দু’মাস পেরোতেই গাছে আসতে শুরু করে ফুল। এক সময় থোকা থোকা টমেটোতে গাছগুলো ভরে উঠে। এরপর আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। প্রতিদিন গড়ে ১ টনের বেশী টমেটো দেশের অন্যতম বৃহৎ পাইকারী নিমসার বাজারে বিক্রয় করা শুরু হয়। বাজারে অনেক ক্রেতা খবর পেয়ে , এখন সরাসরি বাগানে এসে টমেটো নিয়ে যাচ্ছেন।

মনির জানান, আমাদের দেশে গ্রীস্মকালে টমেটোর পর্যাপ্ত ফলন নেই। তাই এটা খুবই লাভবান। তার বাগানে সর্বমোট ২৬/২৭ জন শ্রমিক কাজ করে। প্রতি বিঘায় সর্বমোট উৎপাদন খরচ হয়েছে প্রায় ১১ লক্ষ টাকা। গত জুন মাসের শেষ দিকে চারা রোপনের পর আগষ্ট মাসের শেষ দিকে ফসল তুলতে শুরু করে। প্রথম দিকে বাজার মূল্য কেজি প্রতি দেড়'শ টাকা করে পেলেও বর্তমানে এক'শ টাকায় কেজি প্রতি বাজার মূল্য পাচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

কারন হিসেবে জানান, শীতকালীন টমেটো বাজারে আসতে শুরু করায় মূল্য কিছুটা কমেছে। বাগানে কথা হয় কৃষি সম্প্রসারন বিভাগের উপসহকারী ওমর ফারুকের সাথে। তিনি বলেন, এই ফসলটি গ্রীষ্মকালীন। তবে বর্তমানে গাছে যে ফলন দেখা যাচ্ছে, তাতে পুরো শীত মৌসুমেও এইসব গাছ থেকে পর্যাপ্ত ফলন পাওয়া যাবে। এরই মাঝে মনির তার জমি থেকে প্রায় ১‘শ ৫০ টনের বেশী টমেটো বাজারে বিক্রয় করেছে দাবী করে বলেন, গাছগুলো এখন যেমন সতেজ, তেমনি টমেটোতে ঠাসা। আরও কিছুদিন ভালো মূল্য পাবার আশা করে বলেন, শীতে স্থানীয় কৃষকদের উৎপাদিত টমেটো বাজারজাত হলে দাম অনেকটা কমে যাবে।

উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা ওমর ফারুক জানান, আমার থেকে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোসা, আফরিনা আক্তার, ও জেলা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তর কর্মকর্তা আতিকুর রহমান সরেজমিন টমেটো বাগানগুলো পরিদর্শন করেছে। আমরা কৃষি অধিদপ্তর থেকে নিয়মিত পরামর্শের পাশাপাশি মনির হোসেনকে বিপননে প্রশিক্ষণসহ আগামীতে উৎপাদন আরো বাড়াতে কৃষি বিভাগ থেকে ৫০ শতাংশ জমিতে পলিনেট হাউজের বরাদ্দ দিয়েছে। এছাড়াও বাজার সম্প্রসারণে নানাভাবে প্রচারনার কথাও বলেন।

জেবি/এসডি
Logo

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ

মোঃ শফিকুল ইসলাম ( শফিক )

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ৫৭, ময়মনসিংহ লেন, ২০ লিংক রোড, বাংলামটর, ঢাকা-১০০০।

ফোনঃ 02-44615293

ই-মেইলঃ dailyjanobaninews@gmail.com; dailyjanobaniad@gmail.com

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD