২০ বছর পর ভোটের ময়দানে জবি, ক্যাম্পাসজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ

দীর্ঘ দুই দশকের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে শুরু হওয়া এই নির্বাচন বিকেল ৩টা পর্যন্ত চলবে। ভোটের দিনটিকে ঘিরে ক্যাম্পাসজুড়ে দেখা গেছে উৎসবমুখর পরিবেশ ও শিক্ষার্থীদের ব্যাপক উপস্থিতি।
বিজ্ঞাপন
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রায় ২০ বছর পর অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছিল প্রবল আগ্রহ ও আবেগ। সকাল থেকেই ভোটকেন্দ্রগুলোতে দীর্ঘ সারিতে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় শিক্ষার্থীদের, যা সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিয়ে তাদের প্রত্যাশা ও আশাবাদেরই প্রতিফলন।
ভোটারদের যাতায়াত সহজ করতে সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব নির্ধারিত রুটে বাস চলাচল নিশ্চিত করা হয়। সকাল সাড়ে ৮টার মধ্যেই দূরবর্তী এলাকা থেকে অনেক শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসে পৌঁছান। সরেজমিন শহীদ সাজিদ ভবন, রফিক ভবন, বিজ্ঞান অনুষদ ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ ভবন ঘুরে দেখা যায়—প্রতিটি ভোটকেন্দ্রেই লম্বা লাইন। এসব কেন্দ্রে নারী শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ ছিল উল্লেখযোগ্য।
আরও পড়ুন: জকসু নির্বাচনে ভোটগ্রহণ চলছে
বিজ্ঞাপন
ভোট দিতে আসা শিক্ষার্থীরা জানান, নির্বাচন ঘিরে আগে কিছুটা উদ্বেগ থাকলেও ভোটগ্রহণ শুরুর পর পরিবেশ স্বচ্ছ ও শান্তিপূর্ণ মনে হচ্ছে।
সৌরভ আহমেদ নামে এক শিক্ষার্থী বলেন, জকসু নির্বাচন দীর্ঘদিন ধরেই শিক্ষার্থীদের একটি প্রত্যাশা ছিল। নির্ধারিত দিনে ভোট স্থগিত হওয়ায় হতাশা তৈরি হলেও অবশেষে ভোট দিতে পারায় তিনি স্বস্তি প্রকাশ করেন।
আরেক শিক্ষার্থী মেহরান মিতালি নাসা জানান, একবার নির্বাচন স্থগিত হওয়ায় অনেকের মধ্যেই শঙ্কা তৈরি হয়েছিল। তবে ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার পর শিক্ষার্থীদের আগ্রহ ও প্রশাসনের প্রস্তুতি দেখে তিনি আশাবাদী। তার ভাষায়, কোনো অনিয়ম হলে শিক্ষার্থীরাই তার প্রতিবাদ জানাবে।
বিজ্ঞাপন
নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে আসা শিক্ষার্থী সুমাইয়া হাসান বলেন, ভোটাধিকার কোনো অনুগ্রহ নয়, এটি শিক্ষার্থীদের মৌলিক অধিকার। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নির্বাচিত প্রতিনিধিরা শিক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষায় কাজ করবেন এবং প্রশাসনের কাছে শিক্ষার্থীদের দাবি জোরালোভাবে তুলে ধরবেন। নির্বাচনে পক্ষপাতের আশঙ্কা থাকলেও পোলিং এজেন্টদের সক্রিয় ভূমিকা ও শিক্ষার্থীদের সচেতনতার কারণে অনিয়মের সুযোগ কম থাকবে বলেও তিনি মনে করেন।
তিনি আরও বলেন, তার পছন্দের প্রার্থী নির্বাচিত হোক বা না হোক—নির্বাচিত যেকোনো প্রতিনিধির কাছ থেকেই তিনি জবাবদিহিতা প্রত্যাশা করবেন।
বিজ্ঞাপন
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিকেল ৩টার মধ্যে যারা লাইনে থাকবেন, তাদের সবাইকে ভোট দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে। নির্বাচনকে ঘিরে ক্যাম্পাসজুড়ে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে, যাতে শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য পরিবেশে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন করা যায়।
সব মিলিয়ে দীর্ঘদিন পর অনুষ্ঠিত জকসু নির্বাচন শিক্ষার্থীদের মধ্যে নতুন প্রত্যাশা তৈরি করেছে। ভোটের মাধ্যমে নিজেদের প্রতিনিধি নির্বাচনের এই সুযোগ শিক্ষার্থীদের গণতান্ত্রিক অধিকার চর্চার একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে উঠেছে বলে মনে করছেন অনেকেই।








