নির্বাচন কমিশন পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ করছে: কিশোর সাম্য

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) নির্বাচন প্রক্রিয়াকে পক্ষপাতদুষ্ট হিসেবে উল্লেখ করেছেন ছাত্রশক্তি সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ জবিয়ান’ প্যানেলের ভিপি প্রার্থী কিশোর সাম্য।
বিজ্ঞাপন
তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচন কমিশন ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের মধ্যে সক্রিয় কিছু বলয় নির্দিষ্ট প্যানেলের প্রতি সুবিধা প্রদানে যুক্ত রয়েছে, যা ভোটের স্বচ্ছতা ও গ্রহণযোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে কিশোর সাম্য বলেন, নির্বাচন কমিশন পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ করছে। শিক্ষকদের একটি অংশ ছাত্রদলের পক্ষে কাজ করছে, অন্য একটি অংশ জামায়াত সমর্থিত প্যানেলের পক্ষে। এছাড়া ভোটারদের হাতে দেওয়া কালি কিছু সময় পর উঠে যাচ্ছে, যা ভোট গ্রহণের স্বচ্ছতা ও বৈধতার বিষয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করছে।
বিজ্ঞাপন
প্যানেলের জিএস পদপ্রার্থী ফয়সল মুরাদও একই অভিযোগে জানান, ভোটের সময় নানা অনিয়ম লক্ষ্য করা গেছে। তিনি বলেন, পোলিং এজেন্টরা নিজ নিজ বুথ থেকে ভোটার স্লিপ বিতরণ করছে। নির্বাচন চলাকালীন সময়ে নিয়ম পরিবর্তন করা হলে, কি নিয়ম প্রতি মিনিটে বদলাবে? যদি এটি অনুমোদিত হতো, আমরা স্লিপ বিতরণ করতাম, কিন্তু আমাদের তা করার সুযোগ দেওয়া হয়নি। এ থেকে স্পষ্ট, তারা আগে থেকেই স্লিপ প্রস্তুত রেখেছে।
ফয়সল মুরাদ আরও বলেন, প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনের মধ্যে দুটি সক্রিয় বলয় রয়েছে। একটি ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেলকে ধারাবাহিক সুবিধা দিচ্ছে, অন্যটি ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেলকে সুবিধা দিচ্ছে। এসব কারণেই নির্বাচন বারবার প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে। আমরা চাই অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন, কিন্তু কমিশনের কর্মকাণ্ড আমাদের বারবার হতাশ করেছে।
জানা গেছে, এই নির্বাচনের ভোটগ্রহণ সকাল ৯টা থেকে শুরু হয়ে বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত চলবে। ভোটার ও প্যানেল প্রতিনিধি উভয়পক্ষই ভোট কেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়ার দিকে নজর রাখছেন। শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভোটের গুরুত্ব ও প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে তীব্র আগ্রহ লক্ষ্য করা গেছে।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন: জকসু নির্বাচনে ভোটগ্রহণ চলছে
নির্বাচন ঘিরে উভয়পক্ষের প্যানেল থেকে পোলিং এজেন্ট ও পর্যবেক্ষক মোতায়েন করা হয়েছে, যাতে ভোটগ্রহণে নিয়ম ও ন্যায় নিশ্চিত করা যায়। তবে পক্ষপাত ও প্রশাসনের অসংগতি বিষয়ে অভিযোগ তুলে শিক্ষার্থীরা সতর্ক।
সব মিলিয়ে, জকসু ভোটের দিনটি শিক্ষার্থীদের মধ্যে আগ্রহ ও উত্তেজনা তৈরি করেছে। পক্ষপাত ও অনিয়মের অভিযোগ থাকলেও শিক্ষার্থীরা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে ভোট প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সচেষ্ট।








