Logo

আমার আব্বা সাংবাদিক, চাচা আইনমন্ত্রী: ছাত্রদল কর্মী

profile picture
ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
২ জুলাই, ২০২৬, ১৩:৩৩
আমার আব্বা সাংবাদিক, চাচা আইনমন্ত্রী: ছাত্রদল কর্মী
ছবি: সংগৃহীত

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) শাখা ছাত্রদলের এক কর্মীর বিরুদ্ধে নবীন শিক্ষার্থীদের ছাত্রদলে যোগ দিলে হলের আসনসহ বিভিন্ন সুবিধা পাওয়ার আশ্বাস দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অভিযোগ অস্বীকার করলেও সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের বক্তব্য এবং প্রতিবেদকের যাচাইয়ে একাধিক অসঙ্গতির তথ্য সামনে এসেছে।

বিজ্ঞাপন

অভিযুক্ত তানিম রহমান বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর থেকেই তিনি ছাত্রদলের রাজনীতিতে সক্রিয় এবং শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সরদার জহুরুলের অনুসারী হিসেবে পরিচিত বলে জানা গেছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৯ জুন নবীন শিক্ষার্থীদের নিয়ে গঠিত ‘ঝিনাইদহ রাবি-৭৩’ নামের একটি মেসেঞ্জার গ্রুপে তানিম রহমানের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে একটি বার্তা পাঠানো হয়। সেখানে বলা হয়, যারা ছাত্রদলের রাজনীতিতে আগ্রহী বা জাতীয়তাবাদী পরিবারের সদস্য, তারা শিগগিরই প্রকাশিতব্য ফর্ম পূরণ করলে হল সুবিধাসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা পেতে পারেন।

বিজ্ঞাপন

বার্তাটি প্রকাশের পর গ্রুপের কয়েকজন শিক্ষার্থী এর প্রতিবাদ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সংরক্ষিত স্ক্রিনশট এবং প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষার্থীদের বক্তব্যেও বিষয়টি উঠে এসেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই গ্রুপের এক শিক্ষার্থী জানান, বার্তাটি তানিম রহমানই দিয়েছিলেন। পরে শিক্ষার্থীদের আপত্তির মুখে তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন এবং রাজনৈতিক বার্তা না দেওয়ার বিষয়েও সম্মতি জানান।

আরেক শিক্ষার্থী বলেন, তিনি নিজেও ওই বার্তা দেখেছেন। তার দাবি, কয়েকদিন পর তানিম মেসেজটি মুছে ফেলেন এবং পরে গ্রুপ থেকেও বেরিয়ে যান।

বিজ্ঞাপন

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তানিম রহমান বলেন, তিনি এমন কোনো বার্তা পাঠানোর কথা জানেন না। তার দাবি, ওই সময় তার ফেসবুক আইডি হ্যাক হয়েছিল এবং মোবাইল ফোনও হারিয়ে গিয়েছিল।

তবে আইডি হ্যাক হওয়ার ঘটনায় তিনি কোনো সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেননি বলে জানান। তিনি শুধু ফেসবুকে বিষয়টি উল্লেখ করেছিলেন।

প্রতিবেদকের অনুসন্ধানে দেখা যায়, আইডি হ্যাক হওয়ার দাবি জানিয়ে ফেসবুকে পোস্ট করা হয় ২০ জুন। অথচ অভিযোগের বার্তাটি পাঠানো হয়েছিল ৯ জুন। এছাড়া ৮ জুন থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত অভিযুক্তের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে নিয়মিত পোস্টও করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

পরে আবার প্রতিবেদকের সঙ্গে যোগাযোগ করে তানিম রহমান দাবি করেন, তার নামে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হলে তিনি নিজেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তা জানাতেন। পাশাপাশি ‘ঝিনাইদহ রাবি-৭৩’ নামে কোনো মেসেঞ্জার গ্রুপে তিনি কখনও ছিলেন না বলেও দাবি করেন।

একপর্যায়ে তিনি অভিযোগ প্রকাশ করা হলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন। এ সময় তিনি বলেন, ‘আমার আব্বা সাংবাদিক ও আমার চাচা আইনমন্ত্রী।’

বিজ্ঞাপন

তবে পরে এ বক্তব্য থেকে সরে এসে তিনি দাবি করেন, তিনি বলেননি যে তার চাচা আইনমন্ত্রী। তার ভাষ্য, আইনমন্ত্রী তার এলাকার মানুষ এবং তার নামে মিথ্যা তথ্য প্রকাশ করা হলে তিনি আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

এ বিষয়ে জানতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সরদার জহুরুলের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে, শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহি অভিযোগের সঙ্গে সংগঠনের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ছাত্রদলের পক্ষ থেকে হলের আসন দেওয়ার প্রতিশ্রুতি বা এ ধরনের কোনো নির্দেশনা কখনও দেওয়া হয়নি। বর্তমানে সংগঠনের সদস্য সংগ্রহের জন্য কোনো ফর্মও ছাড়া হয়নি। তাই এ ধরনের দাবি সংগঠনের নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বিজ্ঞাপন

সূত্র: কালবেলা

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD