Logo

১০৬ বছরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, গৌরবের ইতিহাসে আরেকটি অধ্যায়

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
১ জুলাই, ২০২৬, ১৬:৪০
১০৬ বছরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, গৌরবের ইতিহাসে আরেকটি অধ্যায়
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। ছবি সংগৃহীত

বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা, গণতান্ত্রিক চেতনা, সংস্কৃতি ও জাতীয় জাগরণের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আজ ১০৬ বছরে পদার্পণ করেছে। ১৯২১ সালের ১ জুলাই নবাব সলিমুল্লাহ, নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী ও শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকের দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টা ও দূরদর্শী উদ্যোগের ফল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয় দেশের ঐতিহ্যবাহী এ বিদ্যাপীঠ। এক শতাব্দীরও বেশি সময়ের পথচলায় বিশ্ববিদ্যালয়টি দেশের সর্বোচ্চ জ্ঞানচর্চার কেন্দ্র হিসেবে নিজস্ব অবস্থান সুদৃঢ় করেছে।

বিজ্ঞাপন

প্রতিষ্ঠার সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছিল মাত্র তিনটি অনুষদ, ১২টি বিভাগ, ৬০ জন শিক্ষক এবং ৮৭৭ জন শিক্ষার্থী। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এর পরিধি ব্যাপকভাবে বিস্তৃত হয়েছে। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে রয়েছে ১৩টি অনুষদ, ১২টি ইনস্টিটিউট, ৫৬টির বেশি গবেষণাকেন্দ্র এবং ৮৪টি বিভাগ। এখানে ৪০ হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করছেন। রাজনীতি, প্রশাসন, বিচার বিভাগ, কূটনীতি, সাহিত্য, বিজ্ঞান, অর্থনীতি, গণমাধ্যমসহ রাষ্ট্রের প্রায় প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থীরা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছেন।

আন্তর্জাতিক উচ্চশিক্ষার বিভিন্ন মূল্যায়নেও এগিয়ে যাচ্ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। উচ্চশিক্ষা বিষয়ক আন্তর্জাতিক প্রভাব মূল্যায়ন সূচক ২০২৬-এ বিশ্ববিদ্যালয়টি আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৬০০ ধাপ এগিয়ে ৪০১ থেকে ৬০০ অবস্থানের মধ্যে স্থান করে নিয়েছে। একই সঙ্গে বিশ্ব বিশ্ববিদ্যালয় মূল্যায়ন ২০২৭-এ টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বের সেরা ৬০০ বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় নিজেদের অবস্থান ধরে রেখেছে। এছাড়া ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও এলসেভিয়ারের প্রকাশিত বিশ্বের শীর্ষ ২ শতাংশ বিজ্ঞানীর তালিকায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৫ জন শিক্ষক ও গবেষক স্থান পান।

বিজ্ঞাপন

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলাম বলেছেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে গবেষণানির্ভর, উদ্ভাবনমুখী এবং আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রূপ দিতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

তিনি জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের ১২৫ বছর পূর্তি সামনে রেখে ২০ বছর মেয়াদি ‘ঢাকা ইউনিভার্সিটি একাডেমিক প্ল্যান (২০২৬-২০৪৬)’ প্রণয়ন করা হয়েছে। এই পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্তিমূলক উদ্ভাবন, নৈতিক নেতৃত্ব, গবেষণার উৎকর্ষ, শিক্ষা আধুনিকায়ন, উদ্যোক্তা উন্নয়ন, আন্তর্জাতিকীকরণ এবং প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

‘গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও উচ্চশিক্ষায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়’ প্রতিপাদ্যে এবার ১০৬তম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উদযাপন করা হচ্ছে। দিবসটি উপলক্ষে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, জাতীয় ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা উত্তোলন, কেক কাটা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং আলোচনা সভা। সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হল থেকে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা শোভাযাত্রাসহ স্মৃতি চিরন্তনে সমবেত হবেন। পরে উপাচার্যের নেতৃত্বে ক্যাম্পাসে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের হবে। সকাল ১০টায় ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের পায়রা চত্বরে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান এবং সকাল সাড়ে ১০টায় টিএসসি মিলনায়তনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন ইংরেজি বিভাগের ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী।

তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় যাদের অবদান ছিল, তাদের স্মরণে এবারও কোনো বিশেষ কর্মসূচি রাখা হয়নি বলে জানা গেছে।

জেবি/এসডি

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD