Logo

বিএআরআইয়ের সবুজ মিশন

profile picture
জেলা প্রতিনিধি
গাজীপুর
২ জুলাই, ২০২৬, ১৬:১২
বিএআরআইয়ের সবুজ মিশন
ছবি প্রতিনিধি।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে গাজীপুরের বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএআরআই) বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি-২০২৬-এর উদ্বোধন করেছে।

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বিএআরআইয়ের প্রধান কার্যালয়ে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন প্রতিষ্ঠানের মহাপরিচালক কৃষিবিদ ড. মো. মঞ্জুরুল কাদির।

এ বছর কর্মসূচির প্রতিপাদ্য— ‘জলবায়ু পরিবর্তনের সাথে লড়াই, অভিযোজনই হোক কৃষি বিজ্ঞানীদের শ্রেষ্ঠ সাফল্য।’

বিজ্ঞাপন

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মহাপরিচালক বলেন, একজাতীয় গাছ নয়, বরং বিভিন্ন প্রজাতির ফলদ, মসলা, ঔষধি ও শোভাবর্ধনকারী গাছ লাগানোর মাধ্যমে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং কৃষিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব। বৃক্ষরোপণের ফলে কার্বন ডাই-অক্সাইড শোষণ যেমন বাড়বে, তেমনি মৌমাছির আবাসস্থল তৈরি হবে। এতে পরাগায়ন বৃদ্ধি পেয়ে ফল, সবজি, মসলা ও তেলবীজসহ বিভিন্ন ফসলের উৎপাদন উল্লেখযোগ্য হারে বাড়বে। পাশাপাশি মধু ও মোম উৎপাদনের মাধ্যমে কৃষক অতিরিক্ত আয় করার সুযোগ পাবেন।

অনুষ্ঠানে আঞ্চলিক মসলা কেন্দ্র, গাজীপুরের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মোহা. মাসুদুল হক ঝন্টু বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের বর্তমান বাস্তবতায় শুধু প্রচলিত কৃষি প্রযুক্তি যথেষ্ট নয়। টেকসই কৃষি নিশ্চিত করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও তথ্যনির্ভর প্রযুক্তির সঙ্গে কৃষিবিজ্ঞানকে সমন্বয় করে এগিয়ে যেতে হবে।

তিনি বলেন, সরকারের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে একদিকে কার্বন ক্রেডিট অর্জনের সুযোগ তৈরি হবে, অন্যদিকে মৌমাছির পরাগায়নের মাধ্যমে ধান, সরিষা, সূর্যমুখী, ডাল, ফল, সবজি, পেঁয়াজ বীজ ও বিভিন্ন মসলাজাতীয় ফসলের উৎপাদন ২০ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে।

বিজ্ঞাপন

অনুষ্ঠানে বিএআরআইয়ের পরিচালক (প্রশিক্ষণ ও যোগাযোগ) ড. রেশমা সুলতানা, পরিচালক (গবেষণা) ড. ফারুক আহমেদ, পরিচালক (উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্র) ড. কাউছার উদ্দিন আহম্মেদ, পরিচালক (কন্দাল ফসল গবেষণা কেন্দ্র) ড. নির্মল কুমার দত্ত, পরিচালক (পরিকল্পনা ও মূল্যায়ন) ড. হাবিব মোহাম্মদ নাসের, পরিচালক (সেবা ও সরবরাহ) ড. মো. মোশারফ হোসেন মোল্লাসহ বিভিন্ন বিভাগের বিজ্ঞানী, কর্মকর্তা-কর্মচারী উপস্থিত ছিলেন।

বিএআরআই সূত্র জানায়, সরকারের পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির ছয়টি কেন্দ্র, আঞ্চলিক কেন্দ্র, স্টেশন ও উপকেন্দ্র মিলিয়ে আগামী পাঁচ বছরে সাড়ে ৭ লাখ ফলদ, মসলা, ঔষধি ও শোভাবর্ধনকারী গাছ উৎপাদন, বিতরণ, রোপণ ও পরিচর্যা করা হবে। এর মধ্যে চলতি বছরেই প্রায় ১ লাখ ৩৩ হাজার চারা রোপণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

জেবি/এসডি

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD