Logo

অসুস্থতার দাবি অবরুদ্ধ চুয়েট ভিসির, চিকিৎসক বললেন ঠিক আছেন

profile picture
ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
চট্টগ্রাম
১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১৫:৫৫
অসুস্থতার দাবি অবরুদ্ধ চুয়েট ভিসির, চিকিৎসক বললেন ঠিক আছেন
ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম দীর্ঘ সময় অবরুদ্ধ থাকায় শারীরিক অস্বস্তি অনুভব করছেন বলে জানিয়েছেন। তবে তার রক্তচাপ ও নাড়ির স্পন্দন স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রের চিকিৎসক ডা. মো. সাহাবুদ্দিন।

বিজ্ঞাপন

সোমবার (১২ অক্টোবর) দুপুর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন-২-এ অবরুদ্ধ রয়েছেন উপাচার্য। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুর পর্যন্ত প্রায় ২৭ ঘণ্টা ধরে বিদ্যুৎবিহীন ভবনটিতে অবস্থান করছিলেন তিনি। এ সময় তার সঙ্গে আরও ১১ জন শিক্ষক ও শিক্ষার্থী রয়েছেন।

মঙ্গলবার দুপুর ১টার দিকে উপাচার্যের শারীরিক অবস্থা পরীক্ষা করেন চুয়েট চিকিৎসাকেন্দ্রের চিকিৎসক ডা. মো. সাহাবুদ্দিন। তিনি জানান, উপাচার্যের রক্তচাপ ছিল ১২০/৮০, যা স্বাভাবিক মাত্রার মধ্যে রয়েছে। তার নাড়ির স্পন্দনও স্বাভাবিক ছিল।

চিকিৎসক বলেন, স্যারের পালস ও ব্লাড প্রেসার ঠিক আছে। তিনি আমাকে ব্যথার কথা বলেননি। তিনি শুধু তার ব্লাড প্রেসার ও পালস কেমন আছে, তা দেখতে বলেছেন। তার ব্লাড প্রেসার ছিল ১২০/৮০।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

উপাচার্য নিয়মিত ওষুধ সেবন করেন না জানিয়ে চিকিৎসক আরও বলেন, তিনি মাঝেমধ্যে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের ওষুধ খান। বর্তমানে রক্তচাপ স্বাভাবিক থাকায় তাকে জানানো হয়েছে, রক্তচাপ বেড়ে গেলে ওষুধ সেবন করতে হবে। চিকিৎসকের ভাষ্য অনুযায়ী, উপাচার্য মূলত অবরুদ্ধ অবস্থায় অস্বস্তি বোধ করার কথা জানিয়েছেন।

এর আগে অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম জানিয়েছিলেন, দীর্ঘ সময় অবরুদ্ধ থাকায় তার প্রচণ্ড মাথাব্যথা হচ্ছে এবং তিনি শারীরিকভাবে অসুস্থ বোধ করছেন। আগের রাতেও তিনি ঘুমাতে পারেননি বলে জানান। ভবনের ভেতরে অবস্থান করা অন্যদেরও বিভিন্ন ধরনের স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দিচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।

জানা গেছে, সোমবার সকালে প্রশাসনিক ভবন-২-এর তালা ভেঙে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন নবনিযুক্ত উপাচার্য। বিষয়টি জানতে পেরে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা তাকে ও তার সহযোগীদের দুপুর ১২টার মধ্যে ভবন ছেড়ে যাওয়ার সময়সীমা বেঁধে দেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তারা ভবন না ছাড়ায় শিক্ষার্থীরা মূল ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন এবং বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

বিজ্ঞাপন

দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎবিহীন ভবনে অবস্থানের কারণে সোমবার দিবাগত রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক দুই শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাদের মধ্যে একজনকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম নগরের এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

উপাচার্যের পদত্যাগ না হওয়া পর্যন্ত ভবনের তালা খোলা হবে না বলে জানিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। পুরকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থী ইজাজ মাহমুদ খান বলেন, উপাচার্য পদত্যাগ না করা পর্যন্ত অবরুদ্ধই থাকবেন। তাকে বের হওয়ার পর্যাপ্ত সময় দেওয়া হলেও তিনি স্বেচ্ছায় থেকে গেছেন। তবে, আমরা তাদের সকালের খাবার পৌঁছে দিয়েছি।

এদিকে চুয়েটের চলমান সংকট নিরসন এবং শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে মঙ্গলবার বিকেল ৪টায় রাজধানীর শাহবাগে প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করেছেন ঢাকায় অবস্থানরত চুয়েটের শিক্ষার্থীরা। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি সংহতি জানিয়ে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) ও রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) শিক্ষার্থীরাও যৌথ বিবৃতি দিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

উপাচার্য পদে নিয়োগ পাওয়ার প্রায় তিন সপ্তাহ পর অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমের ক্যাম্পাসে প্রবেশকে কেন্দ্র করে চুয়েটে অচলাবস্থা ও উত্তেজনা তৈরি হয়। শিক্ষার্থীরা সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে উপাচার্য নিয়োগ নিয়ে বিরোধের সমাধান এবং অবরুদ্ধ ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD