Logo

ডেঙ্গুতে মারা গেলেন বেরোবির জুলাই যোদ্ধা চন্দন সূত্রধর

profile picture
ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
২ নভেম্বর, ২০২৬, ১১:৫৭
ডেঙ্গুতে মারা গেলেন বেরোবির জুলাই যোদ্ধা চন্দন সূত্রধর
ফাইল ছবি।

ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) জেন্ডার অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের ১৪তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ও জুলাই যোদ্ধা চন্দন সূত্রধর রাজ।

বিজ্ঞাপন

রবিবার (১ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে ঢাকার এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।

চন্দনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. মো. ফেরদৌস রহমান।

সহপাঠী ও আন্দোলনের সহযোদ্ধাদের সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশগ্রহণকালে মাথায় গুলিবিদ্ধ হন চন্দন। এরপর থেকেই বিভিন্ন শারীরিক জটিলতা তাঁকে ভোগাচ্ছিল। গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন দেখা দিলেও আর্থিক সংকট ও পর্যাপ্ত সহায়তা না পাওয়ায় দীর্ঘদিন দুর্ভোগে কাটাতে হয়েছে তাঁকে বলে অভিযোগ করেছেন সহযোদ্ধারা।

বিজ্ঞাপন

বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী ও জুলাই যোদ্ধা শাহরিয়ার সোহাগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চন্দনের মৃত্যুর খবর জানিয়ে লেখেন, ‘বেরোবির দ্বিতীয় শহীদ চন্দন সূত্রধর রাজ।’ তাঁর অভিযোগ, চন্দনের চিকিৎসার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে বারবার সহযোগিতা চাওয়া হলেও আশ্বাস ছাড়া কিছু মেলেনি। সোহাগের দাবি, মাথায় গুলিবিদ্ধ হওয়ার কারণে চন্দনের খুলির ভেতরে পুঁজ জমেছিল। প্রায়ই তাঁর কান দিয়ে তরল পদার্থ বের হতো।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

সোহাগ আরও জানান, জুলাই যোদ্ধা হিসেবে গেজেটভুক্ত হওয়ার জন্য চন্দন রংপুর ও মানিকগঞ্জের জেলা প্রশাসকের কার্যালয়সহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে যোগাযোগ করেছিলেন। কিন্তু নানা কারণে তাঁর গেজেটভুক্তির প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়নি। এরই মধ্যে টাইফয়েডে আক্রান্ত হন চন্দন। সেই অসুস্থতা থেকে সেরে ওঠার পরপরই ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হন তিনি।

বিজ্ঞাপন

বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের শিক্ষার্থী ও জুলাই যোদ্ধা আহমেদুল হক আলবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চন্দনের স্মৃতিচারণ করে লেখেন, তিনি ছিলেন অত্যন্ত নম্র, ভদ্র ও পরোপকারী একজন মানুষ। জুলাই আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর গেজেটভুক্ত না হওয়ায় প্রয়োজনীয় চিকিৎসা করাতে পারেননি চন্দন। মাথায় বুলেট নিয়ে দীর্ঘদিন অসহনীয় কষ্ট সহ্য করেছেন তিনি।

চন্দনের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে সহপাঠী আল হুমায়রা জান্নাতি ঐশী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখেন, চন্দন তাঁদের অত্যন্ত কাছের একজন সহপাঠী ছিলেন। অসুস্থতার কারণে মাঝেমধ্যে ক্লাসে অনুপস্থিত থাকতেন। পরিবার থেকে দূরে থাকায় বাড়ির লোকজনও তাঁকে নিয়ে উদ্বিগ্ন থাকতেন। ঐশী লেখেন, ‘যতদিন রংপুরে আছিস, আমরা তো আছিই রে।’ চন্দনের সঙ্গে রাস্তায় হওয়া শেষ কথোপকথনের স্মৃতিচারণ করে তিনি জানান, সেই কথাটিই যে তাঁদের শেষ আলাপ হবে, তা কখনো কল্পনা করেননি।

জেন্ডার অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের বিভাগীয় প্রধান কুন্তলা চৌধুরী শোক প্রকাশ করে বলেন, আমাদের বিভাগের শিক্ষার্থী চন্দন সূত্রধরের মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে মর্মাহত। বিশেষ করে ডেঙ্গুর মতো একটি রোগে তার মৃত্যু হবে, তা আমাদের কাছে একেবারেই অকল্পনীয় ছিল। তার মৃত্যু আমরা কোনোভাবেই সহজভাবে মেনে নিতে পারছি না।

বিজ্ঞাপন

তিনি জানান, চন্দনের চিকিৎসা ও অন্যান্য প্রয়োজন মেটাতে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা চলছে এবং অর্থ সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিভাগের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

চন্দন সূত্রধর জুলাই আন্দোলনের গেজেটভুক্ত যোদ্ধা ছিলেন কি না, জানতে চাইলে কুন্তলা চৌধুরী বলেন, জুলাই যোদ্ধাদের গেজেটভুক্ত করার জন্য আবেদন গ্রহণের সময় চন্দন আবেদন করেননি। এ কারণে তাঁর নাম গেজেটে অন্তর্ভুক্ত হয়নি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. মো. ফেরদৌস রহমান বলেন, ওই শিক্ষার্থীর পক্ষ থেকে একটি আবেদনপত্র দিতে বলা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহযোগিতার ব্যবস্থা করা হবে।

জেবি/আরএক্স

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD