Logo

১৮ বছরেও সমাবর্তন হয়নি বেরোবিতে, অপেক্ষায় সাবেক শিক্ষার্থীরা

profile picture
ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
৪ নভেম্বর, ২০২৬, ১৫:০৯
১৮ বছরেও সমাবর্তন হয়নি বেরোবিতে, অপেক্ষায় সাবেক শিক্ষার্থীরা
ছবি: সংগৃহীত

প্রতিষ্ঠার ১৮ বছর অতিক্রান্ত হলেও এখনো প্রথম সমাবর্তন আয়োজন করতে পারেনি রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বেরোবি)। একাধিকবার অনুষ্ঠান আয়োজনের তারিখ নির্ধারণ করা হলেও শেষ পর্যন্ত স্থগিত হওয়ায় সমাবর্তন নিয়ে দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি সাবেক শিক্ষার্থীদের। এরই মধ্যে নতুন তারিখ ঘোষণা না করায় তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।

বিজ্ঞাপন

২০০৮ সালে রংপুর বিশ্ববিদ্যালয় নামে যাত্রা শুরু করে বেরোবি। পরবর্তী সময়ে নারী জাগরণের অগ্রদূত বেগম রোকেয়ার নামে বিশ্ববিদ্যালয়টির নামকরণ করা হয়। প্রতিষ্ঠার প্রায় দুই দশকের কাছাকাছি সময়েও প্রথম সমাবর্তন না হওয়ায় হতাশা বাড়ছে সাবেক শিক্ষার্থীদের মধ্যে। দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাবর্তনের আয়োজন এগিয়ে চললেও বেরোবিতে বিষয়টি এখনো ঝুলে রয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় ও ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়সহ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় ২০২৭ সালের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে সমাবর্তন আয়োজনের সিদ্ধান্ত জানিয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, বেরোবির প্রথম সমাবর্তন গত বছরের ২০ ডিসেম্বর আয়োজনের পরিকল্পনা ছিল। তবে একই দিনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা থাকায় অনুষ্ঠানটি পিছিয়ে ২০২৬ সালের জানুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। এ উপলক্ষে ২০২৫ সালের ২০ নভেম্বর থেকে নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

সমাবর্তন কমিটির তথ্য অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম থেকে দ্বাদশ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। নিবন্ধনের সময়সীমা ছিল ২১ নভেম্বর থেকে ১০ ডিসেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মাত্র ১৬৭ জন শিক্ষার্থী সমাবর্তনে অংশ নিতে নিবন্ধন করেন।

এ পরিস্থিতিতে ৭ ডিসেম্বর সমাবর্তন কমিটির সভায় অনুষ্ঠান স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরদিন ৮ ডিসেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ, তথ্য ও প্রকাশনা দপ্তরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে স্থগিতের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, নিবন্ধনের সময় বাড়ানো, ফি কমানো এবং বেরোবি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের বিভিন্ন দাবির বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের সার্বিক পরিস্থিতিও সমাবর্তন স্থগিতের অন্যতম কারণ হিসেবে তুলে ধরা হয়।

বিজ্ঞাপন

সমাবর্তন স্থগিত হওয়ার পর নিবন্ধন করা শিক্ষার্থীদের অনেকে জমা দেওয়া অর্থ ফেরত চেয়ে আবেদন করেন। পরে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অনলাইন চার্জসহ তাঁদের সম্পূর্ণ অর্থ ফেরত দেয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ১৪ হাজার টাকা আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক ড. মো. জাহিদ হোসেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাইন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী জাকির হোসেন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা শেষ করার পর একজন শিক্ষার্থীর সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত মুহূর্তগুলোর একটি হলো সমাবর্তন। দীর্ঘদিন ধরে আমরা প্রথম সমাবর্তনের অপেক্ষায় রয়েছি। কয়েকবার তারিখ নির্ধারণের পরও অনুষ্ঠান না হওয়ায় আমাদের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়মিত সমাবর্তন হলেও আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে এখনো প্রথম সমাবর্তন না হওয়া হতাশাজনক। প্রশাসনের কাছে প্রত্যাশা, আর যেন তারিখ নির্ধারণ ও স্থগিতের মধ্যেই আয়োজনটি আটকে না থাকে।

বেরোবি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক এস এম শাহেদুল আলম সাগর বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ১৮ বছরেও সমাবর্তন না হওয়া হতাশাজনক। শিক্ষার্থীদের স্বার্থে নিবন্ধন ফি সহনীয় রাখা ও সব যোগ্য সাবেক শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছিলাম। তবে সমাবর্তন স্থগিতের পর নতুন তারিখ বা আয়োজনের অগ্রগতি সম্পর্কে আমাদের আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। আমরা চাই অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত সমাবর্তনের উদ্যোগ নেবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

বিজ্ঞাপন

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকাত আলী বলেন, সমাবর্তনের জন্য সিন্ডিকেট থেকে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। ২০২৭ সালের মধ্যে ইনশাআল্লাহ সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হবে।

জেবি/আরএক্স

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD