যেভাবে মৃত্যুর মুখ থেকে প্রাণে বাঁচলেন ৩ জন

ঘন শীতের ভোর। চারদিকে নীরবতা, সবাই গভীর ঘুমে। হঠাৎ ওপরতলা থেকে বৃষ্টির মতো কাচ ভেঙে পড়ার শব্দে ঘুম ভাঙে শিবলুর। কী ঘটছে বুঝে ওঠার আগেই চারপাশে ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে। পরিবার নিয়ে দ্রুত বের হওয়ার চেষ্টা করলেও সব পথ বন্ধ। শেষ পর্যন্ত ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় প্রাণে বেঁচে ফেরেন তিনি, তার স্ত্রী ও দুই সন্তান।
বিজ্ঞাপন
শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) দুপুরে আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত ভবনের সামনে দাঁড়িয়ে নিজের ভয়ংকর অভিজ্ঞতার কথা জানান শিবলু। তিনি রাজধানীর উত্তরার ১১ নম্বর সেক্টরের ১৮ নম্বর রোডের ওই সাততলা ভবনের চতুর্থ তলায় পরিবারসহ বসবাস করতেন।
এদিন সকাল ৭টা ৫০ মিনিটে ভবনের দ্বিতীয় তলায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে ছয়জনের প্রাণহানি হয়। নিহতরা হলেন— রাব্বী (৩৮), হারিস (৫২), রাহাব (১৭), আফসানা, রোদেলা আক্তার (১৪) এবং আড়াই বছর বয়সী শিশু রিসান। নিহতদের মধ্যে একই পরিবারের তিন সদস্য রয়েছেন।
বিজ্ঞাপন
ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া সেলের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তালহা বিন জসিম জানান, সংবাদ পাওয়ার চার মিনিটের মধ্যে উত্তরা ফায়ার স্টেশন থেকে একাধিক ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার ও নিয়ন্ত্রণ কাজ শুরু করে। প্রায় আধা ঘণ্টার চেষ্টায় সকাল ৮টা ২৫ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে এবং সকাল ১০টার দিকে পুরোপুরি নির্বাপণ করা হয়। আগুনের সময় ভবনের ভেতর থেকে ১৩ জনকে জীবিত উদ্ধার করে কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে পাঠানো হয়।
তিনি আরও জানান, ভবনের ভেতরে বিপুল পরিমাণ আসবাবপত্র থাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আগুন দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলায় ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।
অন্যদিকে পুলিশ বলছে, ভবনের দোতলার রান্নাঘর থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে। উত্তরা পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কাজী রফিকল আহমেদ জানান, গ্যাস লিকেজ বা বৈদ্যুতিক ত্রুটির কারণে আগুন লেগে থাকতে পারে। বিষয়টি তদন্ত করে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
বিজ্ঞাপন
ঘটনার বর্ণনায় শিবলু বলেন, হঠাৎ ওপর থেকে কাচ ভাঙার বিকট শব্দে ঘুম ভাঙে। প্রথমে বুঝতেই পারিনি আগুন লেগেছে। চারদিকে ধোঁয়া দেখে দরজা বন্ধ করে ভেতরেই নিরাপদে থাকার চেষ্টা করি। পরে ফায়ার সার্ভিস আমাদের উদ্ধার করে। আল্লাহর রহমতে পরিবারের সবাই সুস্থ আছেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, ভবনের দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলা ধোঁয়ার কালো ছাপে ঢেকে গেছে। জানালা ও বারান্দার কাচ ভেঙে পড়েছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ ও সিআইডির সদস্যরা অবস্থান করছেন। ভবনের চারপাশ ঘিরে রাখা হয়েছে ক্রাইম সিন টেপ দিয়ে, যাতে উৎসুক জনতা ভেতরে প্রবেশ করতে না পারে।
বিজ্ঞাপন
ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশের যৌথ তদন্তে অগ্নিকাণ্ডের সঠিক কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ চিত্র জানা যাবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।








