রাজধানীর বাসিন্দাদের জন্য বড় দুঃসংবাদ, দুর্যোগপূর্ণ তিন এলাকা

পরিবেশ ও জলবায়ু বিপর্যয়ের অন্যতম প্রধান অনুষঙ্গ বায়ুদূষণ। বিশ্বের মেগা সিটিগুলোতে জনসংখ্যা বৃদ্ধি, অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও শিল্পায়নের ফলে বায়ুদূষণ দিন দিন ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। এই তালিকায় দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগজনক অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা। এক সময় কিছুটা উন্নতির আভাস মিললেও শীত মৌসুম শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আবারও ভয়ংকর রূপে ফিরেছে ঢাকার বায়ুদূষণ।
বিজ্ঞাপন
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৯টার সর্বশেষ বায়ুমান সূচক অনুযায়ী, বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহরগুলোর তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ঢাকা। সুইজারল্যান্ডভিত্তিক আন্তর্জাতিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ার (IQAir) জানায়, এ সময় ঢাকার সার্বিক একিউআই স্কোর ছিল ২৬২, যা ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ পর্যায়ের মধ্যে পড়ে।
এর মধ্যে নগরীর একটি স্থানে আজ দূষণের মাত্রা ৪০০-র বেশি। এ অবস্থা ‘বিপর্যয়কর’। এ স্থানটি ছাড়াও আরও দুই স্থানের অবস্থাও দুর্যোগপূর্ণ; একিউআই স্কোর ৩০০ এর ওপরে। সব মিলিয়ে নগরীর আট স্থানে দূষণ পরিস্থিতি খুব খারাপ দেখা গেছে সবশেষ আপডেটে।
বিজ্ঞাপন
এদিকে একই সময়ে বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহরগুলোর তালিকায় শীর্ষে অবস্থান করছিল আফ্রিকার কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের রাজধানী কিনসাসা, বায়ুমান স্কোর ছিল ২৮৬। আর তৃতীয় অবস্থানে ছিল মঙ্গোলিয়ার রাজধানী উলানবাটোর; একিউআই স্কোর ২০৯।
উল্লেখ্য, বায়ুদূষণের মাত্রা ২০০-র বেশি হলে তাকে ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ বলে বিবেচনা করা হয়। আর ৩০০ হয়ে গেলে তা ‘দুর্যোগপূর্ণ’ বলে গণ্য করা হয়।
বায়ুদূষণের এই পরিস্থিতি তুলে ধরেছে সুইজারল্যান্ডভিত্তিক প্রতিষ্ঠান আইকিউ এয়ার। প্রতিষ্ঠানটি বায়ুদূষণের অবস্থা নিয়মিত তুলে ধরে। বাতাসের মান নিয়ে তৈরি করা এই লাইভ বা তাৎক্ষণিক সূচক একটি নির্দিষ্ট শহরের বাতাস কতটা নির্মল বা দূষিত, সেই সম্পর্কে মানুষকে তথ্য দেয়, সতর্ক করে। আজ ঢাকার বায়ুদূষণের যে অবস্থা, তা থেকে রক্ষা পেতে বেশ কিছু পরামর্শও দিয়েছে আইকিউএয়ার।
বিজ্ঞাপন
গত জানুয়ারি মাসের অর্ধেকের বেশি সময় ধরে বায়ুদূষণে শীর্ষে ছিল ঢাকা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই অসহনীয় বায়ুদূষণে নানা শারীরিক সমস্যায় পড়ছেন নগরবাসী। আগের চেয়ে এসব সমস্যা এখন বেশি অনুভূত হচ্ছে।
ঢাকার একাধিক হাসপাতালে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সেগুলোয় শ্বাসকষ্টজনিত নানা রোগে আক্রান্ত হওয়া রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে গৎবাঁধা কিছু কথা আর লোকদেখানো উদ্যোগ ছাড়া এখন পর্যন্ত সরকারের পক্ষ থেকে কিছুই করা হয়নি বলে মত পর্যবেক্ষক-বিশেষজ্ঞদের।
দেশের সর্বত্রই বায়ুদূষণ বাড়ছে; বরং কিছু ক্ষেত্রে আজকাল ঢাকার বাইরের অন্যান্য এলাকায় বায়ুদূষণের মাত্রা অনেক বেশি থাকছে। বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে যেসব কার্যক্রম আছে, তা মূলত ঢাকাকেন্দ্রিক। তবে, এসব কার্যক্রমের তেমন কোনো ফল নেই।
বিজ্ঞাপন
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বায়ুদূষণের স্থানীয় উৎসগুলো নিয়ন্ত্রণ হচ্ছে না। এসব উৎস নিয়ন্ত্রণে আদৌ সেভাবে কোনো চেষ্টা করা হয়নি।
বায়ুদূষণের প্রধান উৎস
বিজ্ঞাপন
ঢাকার বায়ুদূষণের প্রধান উৎস হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে—
পুরোনো ও অনিয়ন্ত্রিত যানবাহনের কালো ধোঁয়া
শিল্পকারখানা ও বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্গত ধোঁয়া
বিজ্ঞাপন
চলমান নির্মাণকাজের ধুলাবালি
ইটভাটা
খোলা জায়গায় বর্জ্য ও বিভিন্ন দ্রব্য পোড়ানো
বিজ্ঞাপন
বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব স্থানীয় উৎস নিয়ন্ত্রণ না করা গেলে পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব নয়।
ঢাকার ৮ স্থানে বায়ুর মান খুব খারাপ, তিন স্থানে দুর্যোগপূর্ণ
আজ সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঢাকার আট স্থানের বায়ুর মান ‘খুব খারাপ’ ছিল। স্থানগুলো হলো—নিকুঞ্জের এএসএল সিস্টেমস লিমিটেড (৪০৮), বেচারাম দেউড়ি (৩০২), ধানমন্ডি (৩০০), দক্ষিণ পল্লবী (২৭৮), , মিরপুরের ইস্টার্ন হাউজিং (২৬৯), বে’জ এইজ ওয়াটার (২৫৬), গ্রেস ইন্টারন্যাশনাল স্কুল (২৩৬) ও গোড়ান (২১৩)।
বিজ্ঞাপন
আইকিউএয়ারের পরামর্শ অনুযায়ী, আজ ঢাকায় বায়ুর যে মান, তাতে বাইরে বের হলে অবশ্যই মাস্ক পরতে হবে। বাড়ির বাইরে গিয়ে ব্যায়াম না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আর ঘরের জানালাগুলো যতটা সম্ভব বন্ধ রাখতে হবে।








