উচ্ছেদ অভিযানেও থামছে না দখল, ফুটপাত আবারও দখলদারদের কবজায়

রাজধানীর ফুটপাত ও সড়ক থেকে অবৈধ দখলদারদের সরাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান চললেও বাস্তবে পরিস্থিতির তেমন পরিবর্তন হয়নি। কিছু এলাকায় উচ্ছেদের পরপরই আবারও ফুটপাত দখল করে দোকান বসিয়ে নিয়েছে অসাধু ব্যবসায়ীরা। ফলে স্বস্তির বদলে নগরজুড়ে আবারও দেখা দিয়েছে যানজট ও সাধারণ মানুষের ভোগান্তি।
বিজ্ঞাপন
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগ চলতি মাসের শুরু থেকে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় জোনভিত্তিক সমন্বিত উচ্ছেদ অভিযান শুরু করে। প্রথম দিনেই ফার্মগেট, ইন্দিরা রোড, গ্রিনরোড, পান্থপথ ও কারওয়ান বাজারসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় অভিযান চালিয়ে ফুটপাত দখলমুক্ত করার চেষ্টা করা হয়। ওই সময় অবৈধ দোকান উচ্ছেদ, কিছু স্থাপনা ভেঙে দেওয়া এবং ব্যবসায়ীদের সতর্ক করা হয়।
তবে অভিযান শেষ হওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই অনেক জায়গায় আগের চিত্র ফিরে এসেছে। বিশেষ করে ফার্মগেটের ইন্দিরা রোড ও আশপাশের এলাকায় আবারও সারি সারি দোকান বসতে দেখা গেছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য থেকে শুরু করে বিভিন্ন ধরনের পণ্যের দোকান ফুটপাত দখল করে বসায় পথচারীদের চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। এতে যানবাহন চলাচলেও সৃষ্টি হচ্ছে ধীরগতি ও যানজট।
বিজ্ঞাপন
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) ফার্মগেট এলাকা ঘুরে দেখা যায়, সকাল থেকেই দোকানপাট খুলে বসেছে ব্যবসায়ীরা। ক্রেতাদের ভিড় থাকায় ফুটপাত দিয়ে হাঁটা কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়ে। একই অবস্থা দেখা গেছে আনন্দ সিনেমা হল এলাকার আশপাশেও।
কারওয়ান বাজার ও বসুন্ধরা শপিংমল সংলগ্ন ফুটপাতে কিছুটা কম ভিড় থাকলেও দোকান বসানোর প্রবণতা সেখানে অব্যাহত রয়েছে। এতে পথচারীদের জন্য নির্ধারিত জায়গা সংকুচিত হয়ে পড়েছে।
এর আগে আগারগাঁও এলাকার পাসপোর্ট অফিস, সমাজসেবা অধিদপ্তর ও পরিবেশ অধিদপ্তরের সামনের সড়কেও উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছিল। কিন্তু ৭ এপ্রিল সেখানে গিয়ে দেখা যায়, ফুটপাতে আবারও চায়ের দোকানসহ বিভিন্ন অস্থায়ী দোকান বসেছে। ফলে ফুটপাত দিয়ে হাঁটার সুযোগ নেই বললেই চলে। পাশাপাশি রাস্তার দুই পাশে পার্কিং করা গাড়ির কারণে সড়ক আরও সংকুচিত হয়ে পড়েছে।
বিজ্ঞাপন
স্থানীয় এক ব্যবসায়ী জানান, উচ্ছেদের সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী শুধু সতর্ক করে গিয়েছিল, স্থায়ীভাবে সরিয়ে দেয়নি। ফলে তারা আবারও আগের অবস্থানে ফিরে এসেছেন।
এ বিষয়ে তেজগাঁও ট্রাফিক জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) অনীশ কীর্ত্তনীয়া বলেন, উচ্ছেদ অভিযান কেন্দ্রীয়ভাবে পরিচালিত হয়েছে। বর্তমানে মাঠ পর্যায়ে নিয়মিত মনিটরিং চলছে। প্রতিদিন সকালে মাইকিং করে দখলদারদের সরিয়ে দেওয়া জায়গায় পুনরায় না বসতে সতর্ক করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনে পণ্ড তলবি সভা
বিজ্ঞাপন
তিনি আরও জানান, যারা আবার ফুটপাত দখল করছে তাদের পেছনে কারা রয়েছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজন অনুযায়ী পুনরায় অভিযান চালানো হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
অন্যদিকে শেরে বাংলা নগর ট্রাফিক জোনের সহকারী কমিশনার রাকিব হাসান বলেন, নিয়মিত ফলোআপের মাধ্যমে নতুন করে বসা দোকানগুলো সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। থানা পুলিশের মোবাইল টিমের সঙ্গে সমন্বয় করে অভিযান চালানো হচ্ছে এবং ফুটপাত দখলের বিষয়ে জিরো টলারেন্স নীতি বজায় রয়েছে।
এদিকে ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতে একাধিকবার অভিযান চালানো হলেও স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় নগরবাসীর মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে। সাধারণ মানুষের দাবি, শুধু অভিযান নয়, স্থায়ী নজরদারি ও বিকল্প ব্যবস্থা ছাড়া এই সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়।








