রাজধানীতে কার্যকর হচ্ছে সিগন্যাল লাইট, অমান্য করলেই জরিমানা

রাজধানীর সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে ট্রাফিক সিগন্যাল লাইট কার্যকর করার উদ্যোগ জোরদার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। নতুন এই ব্যবস্থায় ট্রাফিক আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। সিগন্যাল অমান্য, উল্টো পথে গাড়ি চালানো কিংবা নির্ধারিত স্থান ছাড়া রাস্তা পারাপারের মতো অপরাধে ডিজিটাল মামলা, অর্থদণ্ড এমনকি কারাদণ্ডের মুখোমুখি হতে হবে।
বিজ্ঞাপন
রবিবার (১২ এপ্রিল) ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার স্বাক্ষরিত এক গণবিজ্ঞপ্তিতে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়।
ডিএমপি জানায়, আধুনিক ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা এবং যান চলাচলে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে সরকার রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ ক্রসিংগুলোকে সিগন্যাল নিয়ন্ত্রণের আওতায় আনছে। এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের সহযোগিতায় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে ইতোমধ্যে ট্রাফিক সিগন্যাল লাইট স্থাপন করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
যেসব স্থানে সিগন্যাল লাইট বসানো হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে—হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল, বাংলামোটর, সোনারগাঁও, ফার্মগেট পুলিশ বক্স, বিজয় সরণি, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, জাহাঙ্গীর গেট, গুলশান-১ ও গুলশান-২ ক্রসিং। এছাড়া মানিক মিয়া এভিনিউয়ের পশ্চিম প্রান্ত (আড়ং ক্রসিং), খেজুর বাগান, জুলাই স্মৃতি জাদুঘর, মাজার রোড, আবুল হোটেল, মৌচাক, রায় সাহেব বাজার মোড় এবং লাভ রোড ক্রসিংয়ে অস্থায়ী সিগন্যাল স্থাপন করা হয়েছে।
এদিকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে—হাইকোর্ট, কদম ফোয়ারা, মৎস্য ভবন, কাকরাইল মসজিদ, পুলিশ ভবন ও শাহবাগ এলাকায় সিগন্যাল লাইট স্থাপন করেছে, যা অচিরেই চালু হবে। পর্যায়ক্রমে রাজধানীর অন্যান্য ব্যস্ত মোড়েও এই ব্যবস্থা সম্প্রসারণ করা হবে।
পথচারীদের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে বিভিন্ন স্থানে জেব্রা ক্রসিং ও পেডেস্ট্রিয়ান সিগন্যাল লাইট স্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে পুরাতন রমনা থানা এলাকা, রমনা পার্ক সংলগ্ন অরুণিমা গেট, মিরপুর কলেজের সামনে, গাবতলী, রামপুরা ও তেজগাঁওয়ের নির্দিষ্ট পয়েন্ট উল্লেখযোগ্য।
বিজ্ঞাপন
ডিএমপি স্পষ্ট করে জানিয়েছে, সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে চালকদের অবশ্যই ট্রাফিক সিগন্যাল মেনে চলতে হবে। লাল বাতি জ্বলে উঠলে গাড়ি থামাতে হবে এবং স্টপ লাইন অতিক্রম করা যাবে না। একইভাবে উল্টো পথে গাড়ি চালানো বা ক্রসিংয়ের কাছে যাত্রী ওঠানামা করানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। বাম লেনে অপ্রয়োজনীয়ভাবে দাঁড়িয়ে থেকে যান চলাচলে বাধা সৃষ্টি করলেও শাস্তির মুখে পড়তে হবে।
পথচারীদের ক্ষেত্রেও কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ফুটওভার ব্রিজ বা জেব্রা ক্রসিং ব্যবহার ছাড়া অন্য কোথাও রাস্তা পার হওয়া যাবে না। যেখানে পেডেস্ট্রিয়ান সিগন্যাল রয়েছে, সেখানে সবুজ সংকেত না পাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।
বিজ্ঞাপন
ডিএমপি আরও জানিয়েছে, সড়কের বিভিন্ন সিগন্যাল পয়েন্টে উন্নতমানের সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হচ্ছে। এসব ক্যামেরার মাধ্যমে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের ঘটনা শনাক্ত করে ভিডিও প্রসিকিউশনের মাধ্যমে ডিজিটাল মামলা দায়ের করা হবে।
সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮ অনুযায়ী, ট্রাফিক আইন অমান্য করলে সর্বোচ্চ এক মাসের কারাদণ্ড বা ১০ হাজার টাকা জরিমানা কিংবা উভয় দণ্ড দেওয়া হতে পারে। এছাড়া নির্ধারিত স্থান ছাড়া যাত্রী ওঠানামা করালে সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা জরিমানা এবং চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্সে পয়েন্ট কাটা হবে। উল্টো পথে গাড়ি চালানো বা সড়কে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করলে সর্বোচ্চ তিন মাসের কারাদণ্ড বা ১০ হাজার টাকা জরিমানা কিংবা উভয় শাস্তির বিধান রয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নতুন এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন হলে রাজধানীর সড়কে যানজট কমবে এবং শৃঙ্খলা ফিরবে।








