পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধে কলেজছাত্রীকে বাবার সামনে কুপিয়ে হত্যা

রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর কাজলা ভাঙ্গা প্রেস এলাকায় পাওনা টাকা সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে এক ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় একই পরিবারের চারজন ছুরিকাঘাতে আহত হন, যার মধ্যে এক কলেজছাত্রী দিয়া আক্তার (২০) মারা গেছেন। তিনি শেখ বোরহান উদ্দিন পোস্ট গ্র্যাজুয়েট কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন।
বিজ্ঞাপন
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) ভোরের দিকে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে পুলিশ। ঘটনাস্থলটি যাত্রাবাড়ী কাজলা ভাঙ্গা প্রেস এলাকার একটি আবাসিক এলাকা। হামলায় গুরুতর আহত অবস্থায় আরও তিনজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভর্তি করা হয়েছে। তারা হলেন মৌসুমী (৩৫), মুয়াজ (১৫) এবং জয়া (১২)।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ঠিকাদার আবু মুসা নবীউল্লাহ নামের এক ব্যক্তির কাছে পাওনা টাকা চাইতে ভোরে তার বাসায় যান। সেখানে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে নবীউল্লাহ উত্তেজিত হয়ে আবু মুসাকে ছুরিকাঘাত করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
বিজ্ঞাপন
এরপর পাল্টা সহিংসতায় আবু মুসাও নবীউল্লাহর পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলা চালান। তিনি নবীউল্লাহর স্ত্রী মৌসুমী আক্তারকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করেন, যার ফলে তার বাম হাতের কবজি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় বলে জানা গেছে। মায়ের ওপর হামলা দেখে এগিয়ে এলে কলেজছাত্রী দিয়া আক্তারকেও এলোপাথাড়ি কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়।
এ সময় পরিবারের আরও দুই সদস্য—মুয়াজ ও জয়া—হামলার শিকার হন। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দিয়া আক্তারকে মৃত ঘোষণা করেন। বাকি তিনজন বর্তমানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছেন।
ঘটনার পর হামলাকারী আবু মুসাকেও আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং সেখানে পুলিশি পাহারায় চিকিৎসা চলছে।
বিজ্ঞাপন
ঢামেক হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক জানান, পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে একই পরিবারের চারজনকে কুপিয়ে জখম করা হয়েছে, যার মধ্যে একজন কলেজছাত্রী মারা গেছেন। মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে এবং বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানাকে জানানো হয়েছে।
এই নৃশংস ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।








