ফুয়েল পাসেও কমছে না লাইন, তেল মিললেও বাড়েনি স্বস্তি

রাজধানীর বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে মোটরসাইকেলচালকদের ভোগান্তি যেন কমার কোনো লক্ষণই দেখা যাচ্ছে না। ফুয়েল পাস চালুর পরও দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে চালকদের। যদিও পাসধারীরা তুলনামূলক বেশি পরিমাণ তেল পাচ্ছেন, তবুও দুর্ভোগের চিত্র অপরিবর্তিত রয়ে গেছে।
বিজ্ঞাপন
আসাদগেটের সোনার বাংলা ফিলিং স্টেশনে এমনই এক অভিজ্ঞতার কথা জানান পাঠাও চালক মাহমুদ হোসেন। তিনি সকাল ৮টা থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে দুপুর ১টার পর তেল নিতে সক্ষম হন। প্রায় পাঁচ ঘণ্টার অপেক্ষার পর তেল পেলেও স্বস্তি মেলেনি তার।
মাহমুদ বলেন, ফুয়েল পাসধারী ও পাসবিহীন—দুই ধরনের আলাদা লাইন থাকলেও উভয় লাইনই দীর্ঘ। ফলে পাস থাকার পরও ভোগান্তি কমছে না।
বিজ্ঞাপন
একই স্টেশনে তীব্র রোদে অপেক্ষা করছিলেন আরেক চালক নাজমুল। তিন ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও কখন তেল নিতে পারবেন তা নিয়ে অনিশ্চয়তার কথা জানান তিনি। তার মতে, ফুয়েল পাস চালু হলেও বাস্তবে লাইনের দৈর্ঘ্য কমেনি।
সংশ্লিষ্ট স্টেশন সূত্রে জানা যায়, ফুয়েল পাসধারীদের সর্বোচ্চ ১ হাজার টাকার এবং পাস ছাড়া গ্রাহকদের ৫০০ টাকার তেল সরবরাহ করা হচ্ছে। তবে পাসবিহীনদের লাইন তুলনামূলক অনেক দীর্ঘ হওয়ায় তাদের অপেক্ষার সময়ও বেশি, অনেক ক্ষেত্রে ৬ থেকে ৭ ঘণ্টা পর্যন্ত গড়াচ্ছে।
এদিকে বিজয় সরণির ট্রাস্ট ফিলিং স্টেশনেও একই চিত্র দেখা গেছে। এখানে পাসধারী ও পাসবিহীন চালকদের জন্য আলাদা লাইন না থাকায় সবাইকে একই লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে। স্টেশনটি পাসধারীদের জন্য ১২০০ টাকা এবং অন্যদের জন্য ১ হাজার টাকার তেল দিচ্ছে। উল্লেখ্য, ফুয়েল পাস চালুর আগে এই স্টেশনে প্রতি মোটরসাইকেলে সর্বোচ্চ ৬০০ টাকার তেল দেওয়া হতো।
বিজ্ঞাপন
এই স্টেশনে সকাল ৭টা থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তেল নিতে পেরেছেন কাউছার আহমেদ। দীর্ঘ অপেক্ষায় ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, প্রতিদিনের মূল্যবান সময়ের বড় একটি অংশ চলে যাচ্ছে শুধুমাত্র তেল সংগ্রহ করতে।
অন্যদিকে মো. ইমতিয়াজ জানান, প্রায় চার ঘণ্টা অপেক্ষার পর তিনি তেল নিতে পেরেছেন। তবে ফুয়েল পাসের কারণে অন্তত ট্যাংক ভর্তি করতে পারায় কিছুটা স্বস্তি পেয়েছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।
আরও পড়ুন: নববর্ষ ঘিরে জমজমাট রাজধানীর মার্কেট
বিজ্ঞাপন
এদিকে ফুয়েল পাস সেবা চালুর প্রক্রিয়াতেও রয়েছে নানা সীমাবদ্ধতা। কারিগরি উন্নয়নকাজের কারণে গত শনিবার থেকে সাইটটি সাময়িকভাবে বন্ধ ছিল, ফলে নতুন করে কেউ নিবন্ধন করতে পারেননি। পরে রোববার রাত থেকে পুনরায় সাইট চালু করা হয়।
জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ফুয়েল পাস সিস্টেমটি এখনো পরীক্ষামূলক পর্যায়ে রয়েছে। এতে বিভিন্ন প্রযুক্তিগত কাজ চলমান রয়েছে এবং বিআরটিএর যাচাই প্রক্রিয়া ধীরগতির হওয়ায় জটিলতা তৈরি হচ্ছে। এছাড়া সাইটে অতিরিক্ত চাপ ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত কিছু বিষয়ও সামনে এসেছে। তবে দ্রুত এসব সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
সব মিলিয়ে, ফুয়েল পাস চালুর ফলে তেলের পরিমাণ কিছুটা বাড়লেও ভোগান্তির চিত্রে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এখনো আসেনি—এমনটাই বলছেন ভুক্তভোগী চালকরা।








