খাঁ খাঁ রোদেও ম্লান হয়নি আনন্দ, বৈশাখী উৎসবে মাতোয়ারা রাজধানী

বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দকে কেন্দ্র করে রাজধানী ঢাকাজুড়ে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে। তীব্র গরমের মধ্যেও সকাল থেকেই শাহবাগ, রমনা পার্ক, টিএসসি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা এলাকায় মানুষের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরে বেড়ানো, ছবি তোলা এবং শুভেচ্ছা বিনিময়ে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।
বিজ্ঞাপন

মঙ্গলবার সকাল থেকে রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ভিড় ক্রমেই বাড়তে থাকে। লাল-সাদা পোশাকে সজ্জিত তরুণ-তরুণীরা দল বেঁধে ঘুরে বেড়ান। অনেকেই ঐতিহ্যবাহী নকশার পোশাক পরে ছবি তোলেন, কেউ আবার সেলফি তুলতে ব্যস্ত সময় কাটান। চারুকলা ইনস্টিটিউটের আশপাশে গালে রঙতুলির আঁচড়ে ‘শুভ নববর্ষ’ লিখিয়ে নেওয়ার দৃশ্যও দেখা যায়।
কালাচাঁদপুর এলাকা থেকে পরিবার নিয়ে আসা রাজিব হোসেন বলেন, গরম কিছুটা বেশি হলেও এই দিনের আনন্দ আলাদা। পরিবারের সবাই একসঙ্গে ঘুরতে পারছেন, সেটাই সবচেয়ে বড় বিষয়।
বিজ্ঞাপন

এদিকে শাহবাগ মোড় এলাকায় ফুলের দোকানগুলোতে ক্রেতাদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। গোলাপ, গাঁদা, রজনীগন্ধা ও মালা কেনার প্রবণতা বেড়েছে। তবে চাহিদা বৃদ্ধির কারণে দাম কিছুটা বেড়েছে বলে জানিয়েছেন ক্রেতারা।

তীব্র গরমে স্বস্তি পেতে ডাব ও পানির চাহিদাও বেড়েছে। শহরের বিভিন্ন স্থানে ডাব ও বোতলজাত পানি বিক্রেতাদের সরব উপস্থিতি দেখা গেছে। ডাব বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৫০ টাকায়। এক বিক্রেতা জানান, গরমের কারণে ডাবের চাহিদা অনেক বেশি এবং সারাদিন ভালো বিক্রি হচ্ছে।

এর আগে সকাল ৯টা থেকে ১০টার মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ থেকে বৈশাখী শোভাযাত্রার কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। এতে শিক্ষার্থী, শিক্ষকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার কয়েক হাজার মানুষ অংশ নেন।
বিজ্ঞাপন
এবারের শোভাযাত্রায় পাঁচটি প্রধান মোটিফ—মোরগ, বেহালা বা দোতারা, পায়রা, হাতি ও ঘোড়া—বিশেষভাবে স্থান পায়। এগুলো যথাক্রমে শক্তি, সৃজনশীলতা, শান্তি, গৌরব ও গতিময়তার প্রতীক হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।









