ঈদের আগে মিরপুরের মার্কেটে ক্রেতা কম, হতাশ ব্যবসায়ীরা

পবিত্র ঈদুল আজহা সামনে রেখে রাজধানীর বিভিন্ন বিপণিবিতানে কেনাকাটার মৌসুম জমে ওঠার কথা থাকলেও মিরপুরের মার্কেটগুলোতে দেখা যাচ্ছে ভিন্ন চিত্র। ঈদের আগের শেষ শুক্রবারেও আশানুরূপ ক্রেতা না থাকায় হতাশা প্রকাশ করেছেন ব্যবসায়ীরা। তাদের দাবি, ফুটপাত ও অনলাইনভিত্তিক বিক্রির কারণে মার্কেটে ক্রেতা কমে গেছে।
বিজ্ঞাপন
শনিবার রাজধানীর মিরপুর-১১ নম্বর এলাকার নান্নু মার্কেট, আলম মার্কেট এবং মোহাম্মাদিয়া মার্কেট ঘুরে দেখা যায়, অধিকাংশ দোকান খোলা থাকলেও ক্রেতার উপস্থিতি ছিল খুবই কম। পোশাক, জুতা, প্রসাধনী, গহনা, শিশুদের খেলনা ও গৃহস্থালির পণ্যের দোকানগুলোতে বিক্রেতাদের অনেকটা অলস সময় কাটাতে দেখা গেছে।
দোকানিরা জানান, যারা আসছেন তাদের বেশিরভাগই নারী ও তরুণী। তারা দেশীয় শাড়ি, থ্রি-পিস, গাউন এবং পাকিস্তানি ও ভারতীয় ডিজাইনের পোশাক বেশি দেখছেন। পুরুষদের মধ্যে পাঞ্জাবি, শার্ট ও জুতার কিছু চাহিদা থাকলেও তা প্রত্যাশার তুলনায় অনেক কম।
বিজ্ঞাপন
মোহাম্মাদিয়া মার্কেটের জুতা ব্যবসায়ী শাওন আলম বলেন, ঈদের আগে শেষ শুক্রবার হলেও বিক্রির অবস্থা খুবই খারাপ। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত তেমন কোনো ক্রেতা নেই। তার ভাষ্য, একই মার্কেটে তাদের তিনটি দোকান থাকলেও কোনোটিতেই আশানুরূপ বিক্রি হচ্ছে না।
অন্যদিকে নান্নু মার্কেটের পোশাক বিক্রেতা আসাদুল ইসলাম মনে করেন, অনেক গার্মেন্টস ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানে এখনো ঈদের বেতন দেওয়া হয়নি। ফলে সাধারণ মানুষের হাতে পর্যাপ্ত টাকা না থাকায় তারা স্বাভাবিকভাবে কেনাকাটায় আগ্রহ দেখাতে পারছেন না।
লামিয়া ফ্যাশনের বিক্রয়কর্মী মোস্তফা বলেন, বর্তমানে খুব অল্প লাভে পণ্য বিক্রি করতে হচ্ছে। তার মতে, ফুটপাতের দোকান ও অনলাইন ব্যবসার কারণে মার্কেটের বিক্রি ভাগ হয়ে গেছে। পাশাপাশি কোরবানির পশু কেনায় মানুষের বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় হওয়ায় পোশাক ও জুতার বাজারে প্রভাব পড়েছে।
বিজ্ঞাপন
তিনি আরও জানান, বর্তমানে ছেলেদের শার্ট ৮০০ থেকে দুই হাজার টাকা এবং প্যান্ট ৮০০ থেকে আড়াই হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
কেনাকাটা করতে আসা মুনা নামে এক তরুণী জানান, তিনি মায়ের সঙ্গে মার্কেটে এসেছেন এবং নিজের পছন্দের একটি ফ্রক কিনেছেন। অন্যদিকে পোশাকশ্রমিক সোনিয়া বেগম বলেন, বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য কেনাকাটা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। তারপরও পরিবারের সদস্যদের জন্য সামর্থ্য অনুযায়ী কিছু কেনার চেষ্টা করছেন তিনি।
বিজ্ঞাপন
ব্যবসায়ীদের আশা, ঈদের দিন যত ঘনিয়ে আসবে, শেষ মুহূর্তে ক্রেতার চাপ কিছুটা বাড়তে পারে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে তারা আগের বছরের তুলনায় অনেক কম বিক্রির আশঙ্কা করছেন।








