মাইজভাণ্ডারীর নিউইয়র্ক সফর নিয়ে অপপ্রচার, সরকারের কাছে নিরাপত্তা দাবি

নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত ‘ওয়ান ওয়ার্ল্ড: ওয়ান হিউম্যানিটি’ আন্তর্জাতিক সম্মেলনে ড. সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ আল হাসানী মাইজভাণ্ডারীর অংশগ্রহণকে কেন্দ্র করে ছড়ানো মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্যের প্রতিবাদ জানিয়েছে আঞ্জুমান-এ-রহমানিয়া মইনীয়া মাইজভাণ্ডারীয়া। একই সঙ্গে অপপ্রচারের কারণে উদ্বেগ প্রকাশ করে ড. সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ মাইজভাণ্ডারী, তার পরিবার ও মাইজভাণ্ডার দরবার শরিফের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।
বিজ্ঞাপন
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১১টায় রাজধানীর বাংলাদেশ শিশু কল্যাণ পরিষদের মুক্তিযোদ্ধা মাখদুমা নার্গিস মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলে।
সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন আঞ্জুমানে রহমানিয়া মইনীয়া মাইজভাণ্ডারীয়ার সহ-সভাপতি সভাপতিত্ব করেন মাওলানা রুহুল আমিন ভূঁইয়া চাঁদপুরী ।লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ আসলাম হোসাইন।অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন শাহ মোহাম্মদ আব্দুল বারি। উপস্থিত ছিলেন মোহাম্মদ শাহ আলম, খলিফা মোহাম্মদ মুকিম আলী, খলিফা মোহাম্মদ আব্দুল মোতালেব, খলিফা মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন,খলিফা মোঃ শাজাহান প্রমুখ সহ আঞ্জুমান নেতৃবৃন্দ।
সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন আঞ্জুমানে রহমানিয়া মইনীয়া মাইজভাণ্ডারীয়ার সহসভাপতি মাওলানা রুহুল আমিন ভূঁইয়া চাঁদপুরী। লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন সংগঠনটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. আসলাম হোসাইন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন শাহ মোহাম্মদ আব্দুল বারি। এ সময় উপস্থিত ছিলেন মোহাম্মদ শাহ আলম, খলিফা মোহাম্মদ মুকিম আলী, খলিফা মোহাম্মদ আব্দুল মোতালেব, খলিফা মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন, খলিফা মো. শাহজাহানসহ আঞ্জুমানের নেতৃবৃন্দ।
বিজ্ঞাপন
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ড. সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ মাইজভাণ্ডারী গত ২৯ আগস্ট নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত ‘ওয়ান ওয়ার্ল্ড: ওয়ান হিউম্যানিটি’ আন্তর্জাতিক সম্মেলনে সম্মানিত প্যানেলিস্ট হিসেবে আমন্ত্রিত হয়ে অংশ নেন। বিভিন্ন ধর্ম ও সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দের অংশগ্রহণে আয়োজিত ওই সম্মেলনের মূল উদ্দেশ্য ছিল শান্তি, মানবিক মূল্যবোধ, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও আন্তঃধর্মীয় সম্প্রীতি নিয়ে সংলাপ করা।
বক্তারা বলেন, সম্মেলনটিকে কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক বা ধর্মীয় সংগঠনের অনুষ্ঠান হিসেবে প্রচার করা বিভ্রান্তিকর। বিশেষ করে এটি আরএসএসের অনুষ্ঠান এবং ড. সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ মাইজভাণ্ডারী সেখানে অংশ নিয়েছেন—এমন প্রচারণারও তারা প্রতিবাদ জানান। তাদের দাবি, ড. সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ মাইজভাণ্ডারীর কাছে পাঠানো আমন্ত্রণপত্রে আরএসএসের কোনো অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের কথা উল্লেখ ছিল না।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, ওই আন্তর্জাতিক সম্মেলনে মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন স্কলার ও ধর্মীয় নেতার সম্পৃক্ততা ছিল। আয়োজক-সংশ্লিষ্ট তথ্যের বরাত দিয়ে বক্তারা জানান, প্রায় ৩০টি দেশের ১৮০ জন ধর্মীয় নেতা সম্মেলনে অংশ নেন।
বিজ্ঞাপন
বক্তারা জানান, সম্মেলনে ড. সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ মাইজভাণ্ডারী ইসলামের শান্তি, মানবতা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দর্শন তুলে ধরেন। পাশাপাশি মদিনা সনদের আলোকে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের দৃষ্টান্ত তুলে ধরার পাশাপাশি বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ঐতিহ্য নিয়েও বক্তব্য দেন।
সংবাদ সম্মেলনে বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অপপ্রচারের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। কোনো তথ্য প্রকাশের আগে তা যাচাই করার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য নেওয়ার জন্য গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের প্রতি আহ্বান জানান বক্তারা।
এ ছাড়া ড. সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ মাইজভাণ্ডারী, তার পরিবার এবং মাইজভাণ্ডার দরবার শরিফের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
বিজ্ঞাপন
বক্তারা বলেন, মতভিন্নতা থাকতেই পারে। তবে কোনোভাবেই সত্যকে বিকৃত করার সুযোগ নেই। তারা অপপ্রচারের পরিবর্তে সত্য ও সম্প্রীতির বার্তা প্রচারে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।








