ঢাকার ৪০০ হটস্পটে সক্রিয় ১৪০০ তালিকাভুক্ত ছিনতাইকারী

রাজধানীতে ছিনতাইয়ের ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) তথ্য অনুযায়ী, নগরীর ৫০টি থানার আওতাধীন এলাকায় অন্তত ৪০০টি ছিনতাইপ্রবণ স্থান বা হটস্পট চিহ্নিত রয়েছে। এসব এলাকায় তালিকাভুক্ত ছিনতাইকারীর সংখ্যা প্রায় ১ হাজার ৪০০।
বিজ্ঞাপন
ডিএমপির তথ্য বলছে, তালিকাভুক্ত ছিনতাইকারীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি ওয়ারী এলাকায়। অন্যদিকে তেজগাঁও ও উত্তরা এলাকায় ছিনতাইয়ের তৎপরতা তুলনামূলক বেশি বলে পুলিশের তথ্য উঠে এসেছে।
সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনায় ছিনতাইয়ের ভয়াবহতাও সামনে এসেছে। গত ২৯ আগস্ট সকালে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজার সামনে ছিনতাইকারীর কবলে পড়ে প্রাণ হারান বগুড়ার গাবতলী উপজেলার বাগবাড়ী বালিকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রনজিনা পারভীন।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
স্বামীর সঙ্গে চিকিৎসার জন্য রিকশায় করে ফার্মগেটের ইস্পাহানী ইসলামিয়া চক্ষু ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে যাওয়ার পথে একটি মোটরসাইকেলে থাকা দুই ব্যক্তি তার ব্যাগ টান দেয়। এতে রিকশা থেকে ছিটকে পড়ে মাথায় গুরুতর আঘাত পান তিনি। পরে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনাস্থল ঘুরে দেখা যায়, সংসদ ভবনের ওই সড়কের ট্রাফিক বক্সের সামনে কয়েকজন পুলিশ সদস্য থাকলেও আশপাশের এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতি খুব বেশি ছিল না।
বিজ্ঞাপন
এর আগে ১৮ আগস্ট চাঁদ উদ্যানের এক নম্বর সড়কে ব্যবসায়ী আবুল হোসেনকে মোটরসাইকেলে থাকা তিন যুবক ঘিরে ধরে। অভিযোগ রয়েছে, চাপাতি দিয়ে আঘাত করে তার কাছ থেকে ৯৮ লাখ টাকা ও একটি মোটরসাইকেল নিয়ে যায় তারা।
ছিনতাইয়ের ঘটনায় পুলিশ মামলা ও গ্রেপ্তার অভিযান চালালেও অপরাধ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসছে না। এতে নগরবাসীর মধ্যে নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতি বাড়ছে।
এক ভুক্তভোগীর ভাষ্য, নিয়মিত ছিনতাইয়ের ঘটনায় মানুষের মনে হচ্ছে তারা অনেকটা জিম্মি হয়ে পড়েছেন।
বিজ্ঞাপন
আরেকজন জানান, তিনি সবসময় আতঙ্কের মধ্যে থাকেন।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
ডিএমপি ডিসি মো. আকতার হোসেন বলেন, রাতে কোন এলাকায় চেকপোস্ট বসবে কিংবা কোথায় মোবাইল পার্টি দায়িত্ব পালন করবে, তা তদারক করতে এসি, এডিসি ও ডিসি পর্যায়ের কর্মকর্তারা মাঠে থাকেন। কোনো অনিয়ম বা ঘাটতি চোখে পড়লে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ব্যবস্থা নেন এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানান।
অপরাধ বিশ্লেষক ড. তৌহিদুল হক মনে করেন, ছিনতাইকারীদের গ্রেপ্তারের পাশাপাশি জামিনের প্রক্রিয়াতেও নজর দেওয়া প্রয়োজন। তার দাবি, অর্থের অভাবে যারা জামিন নিতে পারে না, তাদের কেউ কেউ আর্থিক সহায়তায় কারাগার থেকে বেরিয়ে আবার অপরাধে জড়িয়ে পড়ে। তাই কারা এসব আসামিকে জামিনে বের করে আনছে এবং তাদের জামিনের অর্থের উৎস কী, সেটিও খতিয়ে দেখা দরকার বলে তিনি মনে করেন।
রাতে ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধের ঝুঁকি বাড়ায় নগরবাসীকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও অপরাধ বিশ্লেষকেরা।








