পরীক্ষা শুরুর আগেই স্থগিত, নীলক্ষেত অবরোধ করলেন চাকরিপ্রার্থীরা

প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদে নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। শনিবার (১০ অক্টোবর) পরীক্ষা শুরুর ঠিক আগমুহূর্তে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। হঠাৎ পরীক্ষা স্থগিতের ঘোষণায় ক্ষুব্ধ হয়ে রাজধানীর নীলক্ষেত মোড় অবরোধ করেন পরীক্ষায় অংশ নিতে আসা চাকরিপ্রত্যাশীরা।
বিজ্ঞাপন
শনিবার বেলা ১১টায় পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। তবে নির্ধারিত সময়ে পরীক্ষা শুরু না হওয়ায় পরীক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা দেখা দেয়। পরে পরীক্ষা স্থগিতের খবর ছড়িয়ে পড়লে তাঁরা বিক্ষোভ শুরু করেন এবং নীলক্ষেত মোড়ে অবস্থান নিয়ে অবরোধ করেন।
রাজধানীর ইডেন মহিলা কলেজ কেন্দ্রে পরীক্ষা দিতে আসা এক চাকরিপ্রত্যাশী জানান, পরীক্ষা শুরুর আগে থেকেই তাঁরা অনিশ্চয়তার মধ্যে ছিলেন। তাঁর ভাষ্য, নিয়ম অনুযায়ী পরীক্ষা শুরুর ১৫ মিনিট আগে প্রশ্নপত্র দেওয়ার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকেরা কেন্দ্রে আসেননি। এদিকে পরীক্ষার সময় এগিয়ে যাচ্ছিল, কিন্তু পরীক্ষা শুরু হওয়ার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছিল না।
ওই পরীক্ষার্থী বলেন, বেলা ১১টায় পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ে তা শুরু না হওয়ায় তাঁরা সবাই কক্ষ থেকে বেরিয়ে আসেন। এর কিছুক্ষণ পর শিক্ষকেরা এসে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে না বলে জানান।আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
আরেক চাকরিপ্রত্যাশী দাবি করেন, পরীক্ষার প্রশ্ন আগেই ফাঁস হয়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, পরীক্ষা দেওয়ার আগেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদের প্রশ্ন বলে পরিচিত বিভিন্ন প্রশ্ন ঘুরতে দেখা যায়। পরে পরীক্ষা স্থগিতের ঘোষণা আসায় এ নিয়ে তাঁদের সন্দেহ আরও বেড়েছে।
বিজ্ঞাপন
ওই চাকরিপ্রত্যাশী আরও বলেন, পরীক্ষা স্থগিতের সিদ্ধান্ত এক দিন আগেও জানানো হয়নি। ফলে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা পরীক্ষার্থীদের অনেককে যাতায়াতের পেছনে দুই থেকে তিন হাজার টাকা পর্যন্ত ব্যয় করতে হয়েছে। কেউ হোটেলে থেকেছেন, আবার কেউ আত্মীয়স্বজনের বাসায় আশ্রয় নিয়েছেন। শেষ মুহূর্তে পরীক্ষা স্থগিত হওয়ায় তাঁদের আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে।
তিনি অভিযোগ করেন, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের নিয়োগ পরীক্ষায় বারবার প্রশ্নফাঁসের ঘটনা ঘটছে। এ ধরনের অভিযোগের প্রতিকার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, চাকরিপ্রত্যাশীরা বাধ্য হয়েই আন্দোলনে নেমেছেন।
সংশ্লিষ্ট এই নিয়োগ পরীক্ষায় ২৪২টি পদের বিপরীতে সারা দেশ থেকে তিন লাখেরও বেশি প্রার্থীর অংশ নেওয়ার কথা ছিল। পরীক্ষা আয়োজনের জন্য রাজধানীতে প্রায় ১০০টি কেন্দ্র প্রস্তুত করা হয়েছিল। তবে পরীক্ষা শুরুর আগমুহূর্তে প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ওঠায় পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
পরীক্ষা স্থগিতের সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করে চাকরিপ্রত্যাশীরা প্রশ্নফাঁসের অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত, দায়ীদের শনাক্ত করা এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।








