প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে শাহবাগে বিক্ষোভ, চাকরিপ্রার্থীদের চার দফা দাবি

যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদে নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে রাজধানীর শাহবাগে বিক্ষোভ করেছেন চাকরিপ্রার্থীরা। পরীক্ষা স্থগিতের প্রতিবাদে শনিবার (১০ অক্টোবর) কয়েক ঘণ্টা পর তাঁরা সড়কে নেমে দফায় দফায় অবরোধ করেন। এতে শাহবাগ এলাকায় যান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়।
বিজ্ঞাপন
প্রথম দফায় বিক্ষোভকারীদের সড়ক থেকে সরিয়ে দেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। তবে কিছুক্ষণ পর চাকরিপ্রার্থীরা আবারও সড়কে অবস্থান নিলে যান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে। এ সময় শাহবাগ এলাকায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। বিভিন্ন দিক থেকে আরও পরীক্ষার্থী এসে তাঁদের সঙ্গে যোগ দেন। বিক্ষোভকারীদের অনেকের হাতে প্রবেশপত্র দেখা যায়।
আন্দোলনকারীরা প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা, দুই দিনের মধ্যে পরীক্ষার নতুন তারিখ ঘোষণা এবং পরীক্ষা কেন্দ্রে অনিয়ম ও জালিয়াতি প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়াসহ চার দফা দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের অভিযোগ, ইলেকট্রনিক যন্ত্র ব্যবহার করে অসদুপায় অবলম্বনের সুযোগ থাকলেও পরীক্ষা কেন্দ্রে সেগুলো শনাক্ত করতে প্রয়োজনীয় স্ক্যানারের ব্যবস্থা নেই।
শনিবার বেলা ১১টায় যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদে ১১তম গ্রেডের নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। ২৪২টি পদের বিপরীতে এ পরীক্ষায় প্রায় তিন লাখ চাকরিপ্রার্থীর অংশ নেওয়ার কথা ছিল। এ জন্য রাজধানীতে প্রায় ১০০টি কেন্দ্রে পরীক্ষা আয়োজনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
তবে পরীক্ষা শুরুর কয়েক ঘণ্টা আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ছড়িয়ে পড়ে। এর পরিপ্রেক্ষিতে কর্তৃপক্ষ পরীক্ষা স্থগিত করে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পরীক্ষা দিতে ঢাকায় আসা চাকরিপ্রার্থীরা এ সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। সকাল থেকেই তাঁদের অনেকে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় জড়ো হতে থাকেন। পরে শাহবাগে বিক্ষোভ ও অবরোধ কর্মসূচি শুরু হয়।
আন্দোলনকারীরা বলছেন, প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি পরীক্ষা কেন্দ্রে অনিয়ম ও জালিয়াতি ঠেকাতে কার্যকর নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। দ্রুত নতুন পরীক্ষার তারিখ ঘোষণার দাবিও জানিয়েছেন তাঁরা।
প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত শাহবাগ ছাড়বেন কি না, জানতে চাইলে আন্দোলনকারীরা বলেন, নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন। আপাতত তাঁরা সেখানে অবস্থান চালিয়ে যাওয়ার কথা জানান।
বিজ্ঞাপন
শুধু শাহবাগেই নয়, রাজধানীর মিরপুরে সরকারি বাঙলা কলেজের সামনেও পরীক্ষার্থীরা অবস্থান নেন। ফলে পরীক্ষা স্থগিতের প্রতিবাদ রাজধানীর একাধিক এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে।
এদিকে পরীক্ষা স্থগিতের বিষয়ে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন-৫) মাজহারুল হক গণমাধ্যমকে জানান, স্থগিত হওয়া পরীক্ষার নতুন তারিখ আগামী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে ঘোষণা করা হবে।
ঝিনাইদহ থেকে পরীক্ষা দিতে আসা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তানভীর হোসাইন নিয়োগপ্রক্রিয়ায় অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা ও দীর্ঘসূত্রতা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, নিয়োগপ্রক্রিয়ায় অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা ও দীর্ঘসূত্রতার দায় সরকার এড়াতে পারে না। এখন আবার পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁস। একদিকে নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি নেই, অন্যদিকে আগের নিয়োগ পরীক্ষাগুলোও সুষ্ঠুভাবে আয়োজন করা যাচ্ছে না, তার ওপর প্রশ্ন ফাঁস।
বিজ্ঞাপন
তানভীর হোসাইন আরও বলেন, প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে পরীক্ষা স্থগিত হওয়ায় দূরদূরান্ত থেকে আসা পরীক্ষার্থীদের আর্থিক ও মানসিক ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। অনেকে যাতায়াত ও থাকা-খাওয়ার পেছনে টাকা খরচ করে পরীক্ষা দিতে এসে শেষ মুহূর্তে এমন সিদ্ধান্তের মুখে পড়ছেন। তাঁদের এই ক্ষতির দায় কে নেবে?
তিনি বলেন, লাখো শিক্ষিত তরুণ চাকরির আশায় দিনরাত পরিশ্রম করছেন এবং পরিবারের কষ্টার্জিত অর্থ ব্যয় করছেন। অথচ এ ধরনের অনিশ্চয়তা তাঁদের হতাশা আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। একটি নিয়োগ পরীক্ষা আয়োজনের ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষের দায়িত্বশীলতা ও যথাযথ প্রস্তুতি থাকা জরুরি। প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ, পরীক্ষা স্থগিত ও নিয়োগে দীর্ঘসূত্রতার দায় এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। তরুণদের কর্মসংস্থান, জবাবদিহি এবং অনিশ্চয়তার বদলে মেধার ভিত্তিতে স্বচ্ছ নিয়োগ পরীক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।
নীলফামারী থেকে আসা আরেক পরীক্ষার্থী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বেকারদের সঙ্গে এই তামাশা কি আদৌ বন্ধ হবে? আবারও সেই পুরোনো বন্দোবস্ত। এ দেশে কোনো একটা ট্রেন্ড চালু হলে তা বন্ধ করা খুব কঠিন। আমি নীলফামারী থেকে পরীক্ষা দিতে এসেছি। এখন যাতায়াতের খরচ কে দেবে?
বিজ্ঞাপন
পরীক্ষা স্থগিতের ঘটনায় চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। তাঁদের দাবি, প্রশ্নফাঁসের অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের পাশাপাশি নিয়োগপ্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে পরীক্ষার্থীদের এ ধরনের ভোগান্তিতে পড়তে না হয়।








