Logo

ডেঙ্গু প্রতিরোধে ডিএসসিসির ২৯ ওয়ার্ডে একযোগে চিরুনি অভিযান শুরু

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
৮ নভেম্বর, ২০২৬, ১৭:৪৩
ডেঙ্গু প্রতিরোধে ডিএসসিসির ২৯ ওয়ার্ডে একযোগে চিরুনি অভিযান শুরু
ছবি প্রতিনিধি।

ডেঙ্গুর বিস্তার ঠেকাতে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) অধিক ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত ২৯টি ওয়ার্ডে একযোগে বিশেষ চিরুনি অভিযান শুরু হয়েছে। অভিযানের আওতায় মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম এবং মশক নিধনে বিশেষ তৎপরতা চালানো হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

রবিবার (৮ নভেম্বর) দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে আজিমপুর সরকারি কোয়ার্টারের (বি-টাইপ) প্রাঙ্গণে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন ডিএসসিসির প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রশাসক জানান, ডেঙ্গুর ঝুঁকি নিরূপণ ও এডিস মশার প্রজননস্থল শনাক্ত করতে গত ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে ৮ অক্টোবর পর্যন্ত ডিএসসিসির ৭৫টি ওয়ার্ডে ১২ দিনব্যাপী ‘বর্ষাকালীন এডিস লার্ভা জরিপ ২০২৬’ পরিচালনা করা হয়। এ সময় বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে মোট ২ হাজার ২৫০টি বাড়ি পরিদর্শন করা হয়।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ (সিডিসি) শাখার ৩৬ জন মাঠকর্মী আধুনিক ‘কোবো টুলবক্স’ ব্যবহার করে জরিপের তথ্য সংগ্রহ করেন।

বিজ্ঞাপন

জরিপের ফলাফল এবং এডিস মশার ঘনত্ব নির্ধারণের বিভিন্ন সূচক—ব্রেটো ইনডেক্স (BI), হাউস ইনডেক্স (HI), কনটেইনার ইনডেক্স (CI) ও পিউপা ইনডেক্স (PI) বিশ্লেষণ করে ৭৫টি ওয়ার্ডের মধ্যে ২৯টিকে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ, ২৮টিকে মাঝারি ঝুঁকিপূর্ণ এবং ১৮টিকে সাধারণ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। পরিদর্শন করা বাড়িগুলোর মধ্যে ৩২২টিতে এডিস মশার লার্ভার সন্ধান পাওয়া যায়। পরে সেগুলো তাৎক্ষণিকভাবে ধ্বংসের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় লার্ভিসাইডিং করা হয়।

জরিপে বহুতল ও সেমি-পাকা ভবন, স্বতন্ত্র বাড়ি, নির্মাণাধীন স্থাপনা এবং খালি প্লটে জমে থাকা পানিকে এডিস মশার অন্যতম প্রজননস্থল হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ ২৯টি ওয়ার্ডে বিশেষ অভিযান শুরু করেছে ডিএসসিসি। কর্মসূচির অংশ হিসেবে নিবিড়ভাবে লার্ভিসাইডিং ও অ্যাডাল্টিসাইডিং, মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, ড্রেন-খাল ও নালা-নর্দমা পরিষ্কার এবং বর্জ্য অপসারণ করা হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

পাশাপাশি মাইকিং, লিফলেট বিতরণ এবং মসজিদের মাধ্যমে নগরবাসীকে সচেতন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় উপাসনালয়গুলোতেও বিশেষ পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধন কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

অভিযানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের যুক্ত করে মতবিনিময় এবং যৌথ কার্যক্রম চালানো হবে। এরপরও কোথাও এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেলে প্রয়োজন অনুযায়ী ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিজ্ঞাপন

অনুষ্ঠানে প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম বলেন, “ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু সিটি কর্পোরেশনের একক উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। এ ক্ষেত্রে সরকারি সংস্থার পাশাপাশি প্রত্যেক নাগরিকের দায়িত্বশীল ও সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত জরুরি। নিজ নিজ বাসাবাড়ি, ছাদ, বারান্দা, আঙিনা ও কর্মস্থল পরিষ্কার রাখতে হবে। কোথাও পানি জমতে দেওয়া যাবে না। অন্তত সপ্তাহে এক দিন জমে থাকা পানি অপসারণ এবং সম্ভাব্য প্রজননস্থল ধ্বংস করার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।”

জরিপের তথ্য তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, "জরিপে দেখা যায়—প্লাস্টিক বালতিতে ১৪.২১ %, প্লাস্টিক ড্রামে ১১.২২%, বেইজমেন্টের জমানো পানিতে ০৯.৯৮%, প্লাস্টিক মগে ০৯.২৩% এবং ফুলের টবে ০৫.৯৯% লার্ভা পাওয়া গেছে। অর্থাৎ, নাগরিকরা নিজ আঙিনা ও পাত্রের বিষয়ে সচেতন হলেই প্রাথমিক অবস্থাতেই অর্ধেক (৫০.৯%) এডিস মশার বিস্তার ও ডেঙ্গু প্রতিরোধ করা সম্ভব।"

সম্মিলিত প্রচেষ্টা, সচেতনতা ও দায়িত্বশীল অংশগ্রহণের মাধ্যমে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার ঝুঁকি কমিয়ে নগরবাসীর জন্য পরিচ্ছন্ন ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব বলে আশাবাদ জানান তিনি।

বিজ্ঞাপন

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ডিএসসিসির প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তাসহ সংস্থাটির অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

জেবি/এসডি

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD