ইসির সিদ্ধান্ত অবৈধ, বাগেরহাটে ৪টি আসন পুনর্বহাল রাখল আপিল বিভাগ

বাগেরহাটের চারটি সংসদীয় আসন পুনর্বহাল করা এবং নির্বাচন কমিশনের এক আসন কমানোর গেজেট অবৈধ ঘোষণা করা হাইকোর্টের রায় আপিল বিভাগও বহাল রেখেছে।
বিজ্ঞাপন
বুধবার (১০ ডিসেম্বর) প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে পাঁচজন বিচারপতির আপিল বেঞ্চ এ রায় দেন।
এর ফলে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনের লিভ টু আপিল খারিজ করা হয়। রিটের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার শেখ মোহাম্মদ জাকির হোসেন ও অ্যাডভোকেট কামরুল হক সিদ্দিকী। ইসির পক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান, এবং আইনজীবী কামাল হোসেন মিয়াজীও উপস্থিত ছিলেন।
বিজ্ঞাপন
রায়ের পর ব্যারিস্টার শেখ মোহাম্মদ জাকির হোসেন বলেন, আপিল বিভাগ হাইকোর্টের রায় বহাল রেখেছেন। তাই ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বাগেরহাটে চারটি আসন পুনর্বহাল করে ইসিকে গেজেট জারি করতে হবে। এ ছাড়াও গাজীপুরের আসন সংখ্যা আগের মতো ৫টি থাকবে।
১৯৬৯ সাল থেকে বাগেরহাটে চারটি সংসদীয় আসনে নির্বাচন হয়ে আসছিল। বাগেরহাট-১ আসনে চিতলমারী-মোল্লাহাট-ফকিরহাট, বাগেরহাট-২ আসনে সদর-কচুয়া, বাগেরহাট-৩ রামপাল-মোংলা এবং বাগেরহাট-৪ মোরেলগঞ্জ-শরণখোলা অন্তর্ভুক্ত ছিল।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতিতে ৩০ জুলাই নির্বাচন কমিশন প্রথমে বাগেরহাটের চারটি আসন থেকে একটি কমিয়ে তিনটি করার প্রস্তাব দেয়। এই সিদ্ধান্তকে প্রত্যাখ্যান করে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল আন্দোলনে নামে এবং গড়ে তোলে সর্বদলীয় সম্মিলিত কমিটি। হরতাল, অবরোধ ও অন্যান্য কর্মসূচি চালিয়ে আসন কমানোর সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানায় তারা।
বিজ্ঞাপন
কিন্তু ৪ সেপ্টেম্বর চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন। এতে চারটি আসন থেকে একটি কমিয়ে বাগেরহাটকে তিন আসনে ভাগ করা হয়। শুধু সীমানা পরিবর্তন করা হয়। এরপরও সর্বদলীয় সম্মিলিত কমিটি বাগেরহাটে চারটি আসন বহালের দাবিতে হরতাল, অবস্থান ও বিক্ষোভ চালিয়ে যায়।
চূড়ান্ত গেজেটে বাগেরহাট সদর, চিতলমারী ও মোল্লাহাট নিয়ে বাগেরহাট-১; ফকিরহাট, রামপাল ও মোংলা নিয়ে বাগেরহাট-২; কচুয়া, মোরেলগঞ্জ ও শরণখোলা নিয়ে বাগেরহাট-৩ আসন গঠনের কথা বলা হয়।
বিজ্ঞাপন
বাগেরহাটে চারটি সংসদীয় আসন বহালের দাবিতে হাইকোর্টে দুটি রিট দায়ের করা হয়। এই রিট দায়ের করেন বাগেরহাট প্রেসক্লাব, জেলা আইনজীবী সমিতি, জেলা বিএনপি, জেলা জামায়াতে ইসলামী, জেলা ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও জেলা ট্রাক মালিক সমিতি। রিটে বাংলাদেশ সরকার, প্রধান নির্বাচন কমিশনার, নির্বাচন কমিশন সচিব ও অ্যাটর্নি জেনারেলকে বিবাদী করা হয়।
১৬ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানাতে বলেন, কেন বাগেরহাটের চারটি সংসদীয় আসন বহাল করতে হবে না এবং কেন নির্বাচন কমিশনের গেজেট অবৈধ হবে না। ১০ নভেম্বর হাইকোর্ট গেজেটকে অবৈধ ঘোষণা করে চারটি আসন পুনর্বহালের নির্দেশ দেয়। ৩ ডিসেম্বর হাইকোর্ট পুনর্বহালের জন্য ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গেজেট জারি করতে ইসিকে নির্দেশ দেন। এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে নির্বাচন কমিশন, যা বুধবার আপিল বিভাগে খারিজ হলো।








