সাবেক সেনাপ্রধানের ভাই আনিসের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা

দুর্নীতির অভিযোগে চলমান অনুসন্ধানের মধ্যে সাবেক সেনাপ্রধান আজিজ আহমেদের ভাই আনিস আহমেদের বিদেশ ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছেন আদালত। তদন্তের স্বার্থে তার দেশত্যাগ ঠেকাতে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এই আদেশ দেওয়া হয়।
বিজ্ঞাপন
রবিবার (২৫ জানুয়ারি) ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক সাব্বির ফয়েজ বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে আনিস আহমেদের দেশ ছাড়ার ওপর সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী রিয়াজ হোসেন গণমাধ্যমকে আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
দুদকের সহকারী পরিচালক সজল হোসেন আদালতে আবেদন করে জানান, সাবেক সেনাপ্রধান আজিজ আহমেদের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, বিভিন্ন আর্থিক অনিয়ম এবং দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে। এসব সম্পদ তার নিজের পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের নামেও গড়ে তোলা হয়েছে বলে অভিযোগ।
বিজ্ঞাপন
আবেদনে আরও বলা হয়, বিভিন্ন ব্যাংকিং চ্যানেল ও হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগও রয়েছে। মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর ও দুবাইয়ে ব্যবসা পরিচালনা এবং সম্পত্তি কেনাবেচার বিষয়েও অনুসন্ধান চলছে।
দুদকের দাবি, এসব কর্মকাণ্ডে আনিস আহমেদ সহযোগী হিসেবে জড়িত থাকতে পারেন। তদন্ত চলাকালে তিনি দেশত্যাগ করে বিদেশে চলে যেতে পারেন—এমন আশঙ্কার তথ্য পাওয়ায় তাকে বিদেশযাত্রা থেকে বিরত রাখার প্রয়োজন দেখা দেয়।
তদন্ত কর্মকর্তারা মনে করছেন, তিনি দেশ ছেড়ে গেলে অনুসন্ধান প্রক্রিয়া ব্যাহত হতে পারে এবং প্রমাণ সংগ্রহে জটিলতা তৈরি হতে পারে। তাই সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করতে আদালতের মাধ্যমে এই নিষেধাজ্ঞা চাওয়া হয়।
বিজ্ঞাপন
দুদক সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগগুলোর আর্থিক লেনদেন, সম্পদ অর্জন এবং বিদেশে বিনিয়োগের তথ্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের জিজ্ঞাসাবাদসহ প্রয়োজনীয় নথিপত্র সংগ্রহের কাজ চলছে।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, তদন্তের স্বার্থে এমন নিষেধাজ্ঞা আরোপ একটি নিয়মিত আইনি প্রক্রিয়া। এতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে দেশে রেখে অনুসন্ধান সম্পন্ন করা সহজ হয়।
বিজ্ঞাপন
সব মিলিয়ে, দুর্নীতি ও অর্থপাচারের অভিযোগে চলমান তদন্তের মধ্যেই আনিস আহমেদের বিদেশযাত্রা আপাতত স্থগিত থাকছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।








