আশুলিয়ায় লাশ পোড়ানো মামলা: ট্রাইব্যুনালে হাজির ৮ আসামি

জুলাই–আগস্ট আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে আশুলিয়ায় ছয়জনের লাশ পোড়ানোসহ সাতজনকে হত্যার অভিযোগে দায়ের হওয়া মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আট আসামিকে ট্রাইব্যুনালে তোলা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
বৃহস্পতিবার সকালে কারাগার থেকে প্রিজনভ্যানে করে তাদের আদালতে আনা হয়। এদিন মামলার রায় ঘোষণা করার কথা রয়েছে ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চের।
হাজির করা আসামিরা হলেন—ঢাকা জেলার সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. আব্দুল্লাহিল কাফী, সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাভার সার্কেল) মো. শাহিদুল ইসলাম, ডিবির তৎকালীন পরিদর্শক আরাফাত হোসেন, এসআই মালেক, এসআই আরাফাত উদ্দিন, এএসআই কামরুল হাসান, এসআই শেখ আবজালুল হক ও কনস্টেবল মুকুল।
বিজ্ঞাপন
এ মামলায় আরও আটজন পলাতক রয়েছেন। তারা হলেন—ঢাকা-১৯ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, ঢাকা রেঞ্জের সাবেক ডিআইজি সৈয়দ নুরুল ইসলাম, সাবেক পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান রিপন, আশুলিয়া থানার তৎকালীন ওসি এএফএম সায়েদ রনি, সাবেক পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান, সাবেক পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশন) নির্মল কুমার দাস, সাবেক এএসআই বিশ্বজিৎ সাহা ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা রনি ভূঁইয়া।
মামলায় প্রসিকিউশন মোট ৫৩ জনকে সাক্ষী করেছে। গত বছরের ১৫ সেপ্টেম্বর সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়ে শেষ হয় চলতি বছরের ১২ জানুয়ারি। প্রথম সাক্ষ্য দেন শহীদ আস সাবুরের ভাই রেজওয়ানুল ইসলাম এবং শহীদ সাজ্জাদ হোসেন সজলের বাবা মো. খলিলুর রহমান। মোট ২২ কার্যদিবসে তদন্ত কর্মকর্তা জানে আলম খানসহ ২৪ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়।
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সময়ে আসামি আরাফাত হোসেন সাফাই সাক্ষ্য দেন। ১৪ জানুয়ারি প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করা হয়। পরে আসামিপক্ষ ও প্রসিকিউশনের পাল্টা যুক্তি উপস্থাপন শেষ হলে ২০ জানুয়ারি মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ (সিএভি) রাখা হয়।
পুনর্গঠিত ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংক্রান্ত এটি তৃতীয় রায়। গত ১ ফেব্রুয়ারি রায় ঘোষণার জন্য এই দিন ধার্য করা হয়।
ঘটনায় নিহতরা হলেন—সাজ্জাদ হোসেন সজল, আস সাবুর, তানজিল মাহমুদ সুজয়, বায়োজিদ বোস্তামী, আবুল হোসেন, ওমর ফারুক ও মোহাম্মদ শাহাবুল ইসলাম।
বিজ্ঞাপন
গত বছরের ২১ আগস্ট আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেওয়া হয়। সে সময় উপস্থিত আট আসামির সাতজন নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন। তবে এসআই শেখ আবজালুল হক দোষ স্বীকার করে রাজসাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন। একই বছরের ২ জুলাই প্রসিকিউশনের দেওয়া আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আদালত গ্রহণ করে। অভিযোগপত্রের সঙ্গে ৩১৩ পৃষ্ঠার তথ্য, ১৬৮ পৃষ্ঠার দালিলিক প্রমাণ ও দুটি পেনড্রাইভ জমা দেওয়া হয়।
রায় ঘিরে ট্রাইব্যুনাল ও সুপ্রিম কোর্ট এলাকায় বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তা। পুলিশ, র্যাব, বিজিবির পাশাপাশি সেনাবাহিনী মোতায়েন রয়েছে। গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরাও সক্রিয় রয়েছেন।








