ভোটের সিল বানানোর নির্দেশ দেন জামায়াত নেতা: প্রেস মালিকের

লক্ষ্মীপুরে অবৈধভাবে তৈরি করা ভোটের ছয়টি সিল উদ্ধার হওয়ার ঘটনায় মারইয়াম প্রেসের মালিক সোহেল রানা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে তিনি জানান, সিলগুলো বানানোর নির্দেশ দেন জামায়াতে ইসলামী নেতা সৌরভ হোসেন ওরফে শরীফ।
বিজ্ঞাপন
মঙ্গলবার বিকেলে শহরের পুরোনো আদালত রোডের মারইয়াম প্রেস থেকে ভোটে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে তৈরি ছয়টি সিল, একটি কম্পিউটার এবং একটি মোবাইল ফোনসহ সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তিনি সদর উপজেলার টুমচর ইউনিয়নের বাসিন্দা এবং প্রেসের স্বত্বাধিকারী।
লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওয়াহেদ পারভেজ স্বীকারোক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, সোহেল রানা আদালতে জানিয়েছেন যে, ৩০ জানুয়ারি হোয়াটসঅ্যাপে সৌরভ হোসেন তাঁকে সিল তৈরি করার নির্দেশ দেন। এরপর তিনি সিলগুলো বানান।
বিজ্ঞাপন
জানা গেছে, সৌরভ হোসেন পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের জামায়াতের সেক্রেটারি। ঘটনা প্রকাশ হওয়ার পর থেকে তিনি আত্মগোপনে রয়েছেন। এই অভিযোগের পর জামায়াতে ইসলামী তাকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে।
জেলা জামায়াতের আমির এস ইউ এম রুহুল আমিন ভূঁইয়া বলেন, সৌরভের এই কর্মকাণ্ড দায়িত্বহীন। যিনি সিল বানিয়েছেন, তিনি আমাদের দলের সদস্য নন।
ঘটনার পর বিএনপির লক্ষ্মীপুর-৩ আসনের প্রার্থী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি তার সংবাদ সম্মেলনে বলেন, সিলসহ গ্রেপ্তার ব্যক্তি জামায়াতের সঙ্গে যুক্ত। এগুলো নির্বাচনী কারচুপি বা ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অংশ হতে পারে।
বিজ্ঞাপন
একই দিন রাতে জামায়াতে ইসলামীও সংবাদ সম্মেলন করে জানায়, গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তির সঙ্গে দলকে জড়ানো হচ্ছে মিথ্যা অভিযোগ হিসেবে।
পুলিশ জানায়, উদ্ধারকৃত সিল ও অন্যান্য আলামত পরীক্ষা করা হচ্ছে। দুটি দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে- এক, সিলগুলো ভোটারদের প্রশিক্ষণ বা মহড়ার জন্য ব্যবহার করা হচ্ছিল কি না; দুই, নির্বাচনের দিনে ব্যালট পেপারে সিল ব্যবহার করে ভোট কারচুপি করা হওয়ার পরিকল্পনা ছিল কি না।
বিজ্ঞাপন
লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওয়াহেদ পারভেজ বলেন, স্বীকারোক্তি অনুযায়ী আরও কেউ জড়িত কিনা এবং সিল তৈরির উদ্দেশ্য কি ছিল, তা তদন্ত চলছে।








