সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা

অবৈধ সম্পদ অর্জন ও মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে করা মামলায় সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। একইসঙ্গে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দাখিল করা অভিযোগপত্র গ্রহণ করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
রোববার (৮ মার্চ) ঢাকার মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. সাব্বির ফয়েজ অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে এই আদেশ দেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, বেনজীর আহমেদ বর্তমানে পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। পাশাপাশি তার সম্পত্তি জব্দের আবেদনও করা হয়েছে। আদালত আগামী ৩০ মার্চের মধ্যে গ্রেফতারি পরোয়ানা বাস্তবায়ন সংক্রান্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।
বিজ্ঞাপন
মামলার তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুদকে জমা দেওয়া সম্পদ বিবরণীতে তিনি ২ কোটি ৬২ লাখ ৮৯ হাজার ৬০ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন, যা দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪–এর ২৬(২) ধারায় দণ্ডনীয় অপরাধ।
এছাড়া তদন্তে তার জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ ৯ কোটি ৪৪ লাখ ৬৪ হাজার ৭৫১ টাকার সম্পদ অর্জনের তথ্য পাওয়া গেছে। তদন্তে আরও উল্লেখ করা হয়, নিজের নামে এবং তার নাবালিকা কন্যা যাহরা যারীন বিনতে বেনজীরের নামে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিপুল সম্পদ রয়েছে।
তদন্তে উঠে এসেছে, গোপালগঞ্জ, সেন্টমার্টিন, মাদারীপুর ও সাভারে জমি কেনার পাশাপাশি ঢাকার গুলশানের র্যানকন আইকন টাওয়ারে একাধিক ফ্ল্যাট এবং উত্তরায় বাণিজ্যিক জায়গার মালিকানাও রয়েছে তার।
বিজ্ঞাপন
দুদকের তদন্ত কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, অপরাধলব্ধ অর্থের উৎস গোপন করতে বেনজীর আহমেদ নিজের এবং তার কন্যার নামে মৎস্য ব্যবসা ও বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করে অর্থ স্থানান্তর ও রূপান্তর করেছেন।
এই ঘটনায় তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪–এর ২৬(২) ও ২৭(১) ধারা, মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭–এর ৫(২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
এর আগে ২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর এ মামলাটি দায়ের করা হয়। দীর্ঘ তদন্ত শেষে দুদক আদালতে চূড়ান্ত অভিযোগপত্র দাখিল করে।








