Logo

সুপ্রিম কোর্টের পৃথক সচিবালয় নিয়ে রায় আপিল বিভাগে নিষ্পত্তি হবে

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
৮ এপ্রিল, ২০২৬, ১৬:৩০
সুপ্রিম কোর্টের পৃথক সচিবালয় নিয়ে রায় আপিল বিভাগে নিষ্পত্তি হবে
ছবি: সংগৃহীত

সুপ্রিম কোর্টের জন্য স্বাধীন ও পৃথক সচিবালয় গঠনের নির্দেশনা দিয়ে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ। এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আপিল বিভাগেই হবে বলে জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল।

বিজ্ঞাপন

বুধবার (৮ এপ্রিল) সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, হাইকোর্টের রায়ের সার্টিফায়েড কপি সংগ্রহের জন্য ইতোমধ্যে আবেদন করা হয়েছে। কপি হাতে পেলেই আপিল দায়ের করা হবে।

তিনি আরও বলেন, এ রায়ের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রশ্ন জড়িত রয়েছে। ফলে বিষয়টি আপিল বিভাগের মাধ্যমেই নিষ্পত্তি হওয়া যৌক্তিক এবং সেখানেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

এর আগে হাইকোর্ট সুপ্রিম কোর্টের জন্য একটি স্বাধীন সচিবালয় তিন মাসের মধ্যে প্রতিষ্ঠার নির্দেশ দিয়ে পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করে। একই সঙ্গে অধস্তন আদালতের বিচারকদের নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলাবিধানের ক্ষমতা সুপ্রিম কোর্টের হাতে ফিরিয়ে দেওয়ার কথা বলা হয়।

বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ ১৮৫ পৃষ্ঠার এই রায় প্রকাশ করেন। রায়ে বলা হয়, সুপ্রিম কোর্ট কর্তৃপক্ষের প্রস্তাব অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পৃথক সচিবালয় গঠন করতে হবে।

রিটকারী পক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির জানিয়েছেন, এই রায়ের ফলে নিম্ন আদালতের ওপর নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির পরিবর্তে সুপ্রিম কোর্টের কাছে ন্যস্ত থাকবে।

বিজ্ঞাপন

রায়ে সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদের সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা করে ১৯৭২ সালের মূল বিধান পুনর্বহাল করা হয়েছে। সেই অনুযায়ী বিচার বিভাগে কর্মরত ব্যক্তিদের নিয়ন্ত্রণ, পদোন্নতি, বদলি ও শৃঙ্খলাবিধান সংক্রান্ত ক্ষমতা সুপ্রিম কোর্টের ওপর ন্যস্ত থাকবে।

হাইকোর্ট তার রায়ে ১৯৭৫ সালের চতুর্থ সংশোধনী এবং ২০১১ সালের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে আনা পরিবর্তনকে সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হিসেবে বাতিল ঘোষণা করেছে। একইসঙ্গে ২০১৭ সালের জুডিশিয়াল সার্ভিস (শৃঙ্খলা) বিধিমালাকেও অসাংবিধানিক বলা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

এর আগে ২০২৪ সালের ২৫ আগস্ট সুপ্রিম কোর্টের কয়েকজন আইনজীবী সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ ও সংশ্লিষ্ট বিধিমালার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট দায়ের করেন। প্রাথমিক শুনানি শেষে হাইকোর্ট রুল জারি করে এবং পরে শুনানি শেষে এই রায় প্রদান করে।

এ রায়ের পর বিচার বিভাগের প্রশাসনিক কাঠামো ও ক্ষমতার ভারসাম্য নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। এখন আপিল বিভাগের সিদ্ধান্তের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে সংশ্লিষ্ট মহল।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD