নানক-তাপসসহ ২৮ জনের অভিযোগ গঠন শুনানি আবারও পেছাল

জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালীন রাজধানীর মোহাম্মদপুরে ৯ জনকে হত্যার ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানকসহ ২৮ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি আবারও পিছিয়েছে। প্রসিকিউশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আগামী ২৬ এপ্রিল নতুন দিন নির্ধারণ করেছেন ট্রাইব্যুনাল।
বিজ্ঞাপন
বুধবার (১৫ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর সদস্য বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরীর একক বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
মামলার ২৮ আসামির মধ্যে বর্তমানে চারজন গ্রেপ্তার রয়েছেন। তারা হলেন—নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মোহাম্মদপুর থানা শাখার সভাপতি নাঈমুল হাসান রাসেল, সহ-সভাপতি সাজ্জাদ হোসেন, ওমর ফারুক ও ফজলে রাব্বি। শুনানির দিন ধার্য থাকায় সকালে তাদের কারাগার থেকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।
বিজ্ঞাপন
ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে এক সপ্তাহ সময়ের আবেদন করেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম। তিনি জানান, পরবর্তী তারিখে প্রথমে প্রসিকিউশন এবং পরে আসামিপক্ষ তাদের বক্তব্য উপস্থাপন করবে।
আদালত আসামিপক্ষের বক্তব্যও শুনেন। তারা ডিসচার্জ চেয়ে আবেদন করার কথা জানান। পরে উভয় পক্ষের শুনানির জন্য ২৬ এপ্রিল দিন ধার্য করা হয়।
এ মামলায় পলাতক আসামিদের মধ্যে রয়েছেন—ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের তৎকালীন মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস, ডিএমপির তৎকালীন কমিশনার হাবিবুর রহমান, সাবেক অতিরিক্ত ডিআইজি প্রলয় কুমার জোয়ারদার, ডিএমপির সাবেক যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার এবং ডিএনসিসির ৩২ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর সৈয়দ হাসান নূর ইসলাম রাষ্ট্রন। তাদের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
এর আগে ৮ এপ্রিল শুনানির তারিখ থাকলেও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না পাওয়ার কথা জানিয়ে আসামিপক্ষ সময় চাইলে তা পিছিয়ে আজকের দিন নির্ধারণ করা হয়। তবে আজও অভিযোগ গঠনের শুনানি হয়নি। ফলে এ নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো শুনানি পেছাল।
চলতি বছরের ১৮ জানুয়ারি ট্রাইব্যুনাল আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নিয়ে ২৮ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে।
বিজ্ঞাপন
প্রসিকিউশনের অভিযোগে বলা হয়, ২০২৪ সালের ১৮ ও ১৯ জুলাই ছাত্র-জনতার আন্দোলন চলাকালে আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কিছু সদস্যের বিরুদ্ধে সহিংসতার অভিযোগ ওঠে। উসকানি ও প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ অংশগ্রহণের মাধ্যমে আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি চালানো হয়। এতে মাহমুদুর রহমান সৈকত, ফারহান ফাইয়াজসহ ৯ জন নিহত হন এবং আরও অনেকে আহত হন।








