নাসির-তামিমা দম্পতির বিরুদ্ধে মামলার রায় ১০ জুন

ক্রিকেটার নাসির হোসাইন ও তার স্ত্রী তামিমা সুলতানা তাম্মির বিরুদ্ধে দায়ের করা বহুল আলোচিত মামলার রায় ঘোষণার জন্য আগামী ১০ জুন দিন নির্ধারণ করেছেন আদালত। অন্যের স্ত্রীকে প্রলুব্ধ করে নিয়ে যাওয়া, ব্যভিচার ও মানহানির অভিযোগে করা এই মামলার শুনানি শেষে বুধবার (৬ মে) রায়ের তারিখ ঘোষণা করা হয়।
বিজ্ঞাপন
ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালতে এদিন উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন সম্পন্ন হয়। এরপর বিচারক মামলাটি রায়ের জন্য এদিন ধার্য করেন।
শুনানিতে বাদীপক্ষের আইনজীবী ইশরাত হাসান আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান। অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু নাসির ও তামিমার নির্দোষ দাবি করে তাদের খালাস প্রার্থনা করেন। শুনানির সময় আসামি দুজনই আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
বিজ্ঞাপন
মামলার সূত্রে জানা যায়, ২০২১ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি তামিমার সাবেক স্বামী রাকিব হাসান ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে অভিযোগটি দায়ের করেন।
অভিযোগে বলা হয়, ২০১১ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি রাকিব ও তামিমার বিয়ে হয় এবং তাদের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। পেশায় কেবিন ক্রু তামিমা ২০২১ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি নাসির হোসাইনের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন, যার ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি সামনে আসে।
বাদীর অভিযোগ অনুযায়ী, পূর্বের বৈবাহিক সম্পর্ক চলমান থাকা অবস্থায় তামিমা দ্বিতীয় বিয়ে করেন, যা আইনগতভাবে বৈধ নয়। একই সঙ্গে নাসির তাকে প্রলুব্ধ করে নিজের কাছে নিয়ে গেছেন বলেও অভিযোগ তোলা হয়। এই সম্পর্কের কারণে বাদী ও তার সন্তানের মানসিক ক্ষতি হয়েছে এবং তার ব্যক্তিগত সুনাম ক্ষুণ্ন হয়েছে বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়।
বিজ্ঞাপন
এর আগে, ২০২২ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি আদালত নাসির ও তামিমার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর নির্দেশ দেন। তবে তামিমার মা সুমি আক্তারকে এ মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। পরে উভয় পক্ষই বিভিন্ন বিষয়ে রিভিশন আবেদন করলে ২০২৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত সেই আবেদন খারিজ করে বিচার কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন এবং সুমি আক্তারের অব্যাহতি বহাল রাখেন।
মামলাটির সাক্ষ্যগ্রহণ পর্ব শেষ হয় চলতি বছরের ১৬ এপ্রিল, যেখানে মোট ১০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। এর আগে ১০ মার্চ আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানি অনুষ্ঠিত হয় এবং ৮ এপ্রিল সাফাই সাক্ষ্য শেষ হয়। সর্বশেষ ৬ মে যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের মধ্য দিয়ে মামলাটি রায়ের জন্য প্রস্তুত হয়।








