Logo

৭ বছর পর চাকরি ফিরে পেলেন অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় চাকরিচ্যুত নার্স

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
৯ মে, ২০২৬, ১৬:২৯
৭ বছর পর চাকরি ফিরে পেলেন অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় চাকরিচ্যুত নার্স
ছবি: সংগৃহীত

অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার পর অসদাচরণের অভিযোগ এনে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছিল চট্টগ্রামের একটি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত নার্স ফিরোজা আক্তারকে। দীর্ঘ প্রায় সাত বছরের আইনি লড়াই শেষে অবশেষে আদালতের রায়ে চাকরি ফিরে পাচ্ছেন তিনি। একইসঙ্গে তাকে বকেয়া বেতন ও মাতৃত্বকালীন সুবিধা পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

চট্টগ্রামের দ্বিতীয় শ্রম আদালতের বিচারক বেগম জেবুননেসা সম্প্রতি এ রায় ঘোষণা করেন। আদালতের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ফিরোজা আক্তারের চাকরির ধারাবাহিকতা বহাল রেখে তাকে পুনর্বহাল করতে হবে এবং ২০১৯ সাল থেকে প্রাপ্য সব বেতন-ভাতা ও মাতৃত্বকালীন সুবিধা পরিশোধ করতে হবে।

আদালত সূত্রে জানা যায়, ফিরোজা আক্তার ২০১৭ সালের ১০ অক্টোবর টি কে ফুট ওয়্যার লিমিটেডে নার্স হিসেবে চাকরিতে যোগ দেন। চাকরিরত অবস্থায় ২০১৯ সালে তিনি অন্তঃসত্ত্বা হন। এরপর তার বিরুদ্ধে অসদাচরণের অভিযোগ এনে ২০১৯ সালের ২০ মার্চ প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়।

বিজ্ঞাপন

ফিরোজা লিখিতভাবে ওই অভিযোগের জবাব দিলেও কর্তৃপক্ষ তা গ্রহণ করেনি। পরে তাকে দ্বিতীয়বার কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। একপর্যায়ে তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়।

নিজের চাকরিচ্যুতি অবৈধ দাবি করে বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট)-এর সহায়তায় চট্টগ্রাম শ্রম আদালতে মামলা করেন ফিরোজা আক্তার। দীর্ঘ শুনানি ও আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালত তার পক্ষে রায় দেন।

বিজ্ঞাপন

সংশ্লিষ্টরা জানান, শ্রম আইন অনুযায়ী কোনো মামলা নিষ্পত্তির জন্য সাধারণত ৬০ দিনের সময়সীমা নির্ধারিত থাকলেও বিশেষ পরিস্থিতিতে আরও ৯০ দিন সময় বাড়ানো যায়। তবে ফিরোজা আক্তারের মামলার নিষ্পত্তি হতে প্রায় সাত বছর সময় লেগেছে, যা শ্রমিকদের বিচারপ্রাপ্তির দীর্ঘসূত্রতার বিষয়টিকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।

ফিরোজার আইনি লড়াইয়ে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজ (বিলস) চট্টগ্রাম কেন্দ্রের কোঅর্ডিনেটর ফজলুল কবির মিন্টু গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা করেন। তিনি ভুক্তভোগী শ্রমিককে আইনি পরামর্শ দেওয়া, কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাব প্রস্তুত করা এবং মামলার বিভিন্ন ধাপে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করেন।

ফজলুল কবির মিন্টু গণমাধ্যমকে বলেন, আদালত সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন। তারা আশা করছেন, প্রতিষ্ঠানটি আদালতের রায় মেনে ফিরোজা আক্তারের ন্যায্য অধিকার দ্রুত ফিরিয়ে দেবে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD