Logo

মৃত্যুর তথ্য লুকাতে ভূমিকা ছিল সাংবাদিক রুপা ও বাবুর

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
৭ মে, ২০২৬, ১৭:০৬
মৃত্যুর তথ্য লুকাতে ভূমিকা ছিল সাংবাদিক রুপা ও বাবুর
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে ২০১৩ সালের ৫ মে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ ঘিরে সংঘটিত সহিংস ঘটনায় নিহতদের তথ্য গোপন এবং ঘটনার বর্ণনা ভিন্নভাবে উপস্থাপনের অভিযোগ উঠেছে সাংবাদিক ফারজানা রুপা ও মোজাম্মেল বাবুর বিরুদ্ধে।

বিজ্ঞাপন

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, ওই ঘটনায় তাদের ভূমিকা নিয়ে তদন্ত চলছে এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাদেরও আসামি করা হবে।

বৃহস্পতিবার (৭ মে) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, শাপলা চত্বরের ঘটনায় ইন্টারনেট বন্ধ করা, দুটি টেলিভিশন চ্যানেলের সম্প্রচার বন্ধসহ বিভিন্ন সিদ্ধান্তের সঙ্গে যারা যুক্ত ছিলেন, তাদের ভূমিকা আইনি পর্যালোচনায় আনা হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও জানান, ওই সময়ের ঘটনাপ্রবাহে কিছু গণমাধ্যমকর্মীর বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে যে তারা ঘটনার প্রকৃত চিত্র আড়াল করে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করেছেন। এর মাধ্যমে মৃত্যুর তথ্য গোপন এবং ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হচ্ছে।

এদিকে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে দায়ের হওয়া এ মামলায় সাংবাদিক ফারজানা রুপা ও মোজাম্মেল বাবুকে আগামী ১৪ মে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ট্রাইব্যুনাল-১-এর দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেল এই আদেশ দেন, যার নেতৃত্বে ছিলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ। অপর সদস্য ছিলেন বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

একই দিন সাবেক মন্ত্রীসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট জারির আবেদন জানায় প্রসিকিউশন। শুনানিতে প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম দাবি করেন, ২০১৩ সালের ওই ঘটনায় তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে ভিন্ন বার্তা দিয়েছেন। এছাড়া কিছু গণমাধ্যম শুরু থেকেই ঘটনাটিকে উসকানিমূলক হিসেবে প্রচার করেছে বলেও অভিযোগ তোলা হয়।

বিজ্ঞাপন

শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল আসামিদের হাজিরের নির্দেশ দেয় এবং পরবর্তী শুনানির জন্য ১৪ মে তারিখ নির্ধারণ করা হয়। পাশাপাশি মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য ৭ জুন দিন ধার্য করা হয়েছে।

বর্তমানে এই মামলায় ছয়জন আসামি কারাগারে রয়েছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, সাবেক আইজিপি একেএম শহিদুল হক, মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, সাবেক ডিআইজি মোল্যা নজরুল ইসলাম, সাবেক ডিআইজি আবদুল জলিল মণ্ডল এবং একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির উপদেষ্টা মণ্ডলীর সভাপতি শাহরিয়ার কবির।

বিজ্ঞাপন

উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরের ঘটনায় সংঘটিত সহিংসতা ও প্রাণহানির বিষয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ উত্থাপন করেন হেফাজতে ইসলামের নেতা আজিজুল হক। পরবর্তীতে মামলায় মোট ২১ জনকে অভিযুক্ত করা হয় বলে জানা গেছে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD