২২৭৬ নেতাকর্মীর মৃত্যুর বিষয়ে আবারও ট্রাইব্যুনালে বিএনপি

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের ২ হাজার ২৭৬ নেতাকর্মী গুম এবং বিচারবহির্ভূত হত্যার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ তুলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ফের আবেদন করেছে বিএনপি। দলটির দাবি, এসব ঘটনায় দ্রুত তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
বিজ্ঞাপন
সোমবার (১১ মে) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে অভিযোগপত্র জমা দেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও গুম, খুন এবং মামলা বিষয়ক সমন্বয়ক মোহাম্মদ সালাউদ্দিন খান।
অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০০৮ সাল থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত সময়ের মধ্যে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের বহু নেতাকর্মী অপহরণের পর নিখোঁজ হয়েছেন। একই সঙ্গে অনেককে কথিত ক্রসফায়ার বা বন্দুকযুদ্ধের নামে হত্যা করা হয়েছে বলেও দাবি করা হয়। এর মধ্যে বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এম ইলিয়াস আলীর গুমের ঘটনাও উল্লেখ করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়, গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যার এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং বিচার চেয়ে এর আগেও চলতি বছরের ৯ জানুয়ারি ট্রাইব্যুনালে আবেদন করা হয়েছিল। কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তদন্ত কার্যক্রমে দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় দলটি পুনরায় অভিযোগ জমা দিয়েছে।
নতুন করে দাখিল করা অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তৎকালীন সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে গুম ও হত্যাকাণ্ড সংঘটনের অভিযোগ আনা হয়েছে।
বিএনপির দাবি, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দমন এবং ভিন্নমত নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে ওই সময় গুম, আটক ও বিচারবহির্ভূত হত্যার মতো ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো এখনও বিচার না পাওয়ায় মানবিক সংকটের মধ্য দিয়ে দিন কাটাচ্ছে বলেও অভিযোগ করা হয়।
বিজ্ঞাপন
দলটির নেতারা বলছেন, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণের লক্ষ্যেই তারা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের শরণাপন্ন হয়েছেন। একই সঙ্গে তদন্ত প্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বানও জানানো হয়েছে।
বিএনপির অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার করে সংঘটিত এসব ঘটনায় দায়ীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হলে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে।








